১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাহালুতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, ধান ঘরে তুলতে ব‌্যাস্ত কৃষকরা

  • Reporter Name
  • ০৩:৪৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫
  • ১৮৯

মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু (বগুড়া)ঃ বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ইতিমধ্যে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি মৌসুমের বাম্পার ফলনে চাষিরা মহাখুশি।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা তাদের কষ্টে অর্জিত বোরো ঘরে তুলতে মহাব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ঝর-বৃষ্টির আশঙ্কায় তাদের মাথায় এখন একটায় চিন্তা যত দ্রæত সম্ভম মাঠের ধান ঘরে তোলা। যারফলে তারা দিনরাত সমান তালে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ করছেন। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও স্থানীয় শ্রমিকের সংকট দেখা দেওয়ায় চাষিরা উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক এনে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ করে নিচ্ছেন।

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে চাষিদের সাথে উঠান বৈঠক করে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাদের জমির শতকরা ৮০ ভাগ ধান পেকে গেছে, তারা যেন দ্রæত ধান কাটা-মাড়াই করে অর্জিত ধান ঘরে তুলতে পারেন। অত্র উপজেলায় আলু ও সরিষা চাষাবাদের কারণে কিছুটা দেরিতে বোরো ধান লাগানো হয়। দেরিতে ধান লাগানোর কারনে ধান পাকতেও একটু দেরি হয়। অপ্প সময়ের মধ্যে যাতে লাগানো বোরো ধান অর্জিত হয়, সেই লক্ষ্য নিয়ে হাইব্রিড ধান চাষের চেয়ে এখানকার চাষিরা চিকন জাতের ধানই বেশি চাষাবাদ করেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মোট ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধান লাগানো হয়। এরমধ্যে মাত্র ৫৮২ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান লাগানো হয়। বাঁকী ১৭ হাজার ৫৬৮ হেক্টর জমিতেই উপশি জাতের ধান লাগানো হয়। হাইব্রিড ধান এখনো না পাকলেও অধিকাংশ জমির উপশি জাতের ধান পাক ধরেছে। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৬৫ মেঃটন। সূত্রমতে বাম্পার ফলন হওয়ায় সামনে প্রাকৃতিক কোনো দূর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হবে।

বিভিন্ন এলাকার চাষিরা জানান, গত বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। গত বছর বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২০ মন ধান পাওয়া গেছে। এবার বিঘাপতি ২২ থেকে ২৩ মন পর্যন্ত ধান পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে মাঠ থেকে ধান কাটা-মাড়াইয়ের পর পরই ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত। গত বছরের চেয়ে এবার ধানের মূল্য বেশ ভালোই পাচ্ছেন চাষিরা। বাম্পার ফলন ও ধানের মূল্য ভালো পাওয়ায় এবার সকল চাষিই বেশ খুশি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, বোরো ধানের বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে চারা রোপন ও ধান অর্জিত পর্যন্ত আমরা প্রতিনিয়ত চাষিদেরকে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরামর্শ দিয়েছি। যারফলে চলতি মৌসুমে বোরো ধান গাছে রোগবালাই না হওয়া ধানের ফল খুবই ভালো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কাহালুতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, ধান ঘরে তুলতে ব‌্যাস্ত কৃষকরা

০৩:৪৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু (বগুড়া)ঃ বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ইতিমধ্যে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি মৌসুমের বাম্পার ফলনে চাষিরা মহাখুশি।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা তাদের কষ্টে অর্জিত বোরো ঘরে তুলতে মহাব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ঝর-বৃষ্টির আশঙ্কায় তাদের মাথায় এখন একটায় চিন্তা যত দ্রæত সম্ভম মাঠের ধান ঘরে তোলা। যারফলে তারা দিনরাত সমান তালে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ করছেন। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও স্থানীয় শ্রমিকের সংকট দেখা দেওয়ায় চাষিরা উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক এনে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ করে নিচ্ছেন।

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে চাষিদের সাথে উঠান বৈঠক করে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাদের জমির শতকরা ৮০ ভাগ ধান পেকে গেছে, তারা যেন দ্রæত ধান কাটা-মাড়াই করে অর্জিত ধান ঘরে তুলতে পারেন। অত্র উপজেলায় আলু ও সরিষা চাষাবাদের কারণে কিছুটা দেরিতে বোরো ধান লাগানো হয়। দেরিতে ধান লাগানোর কারনে ধান পাকতেও একটু দেরি হয়। অপ্প সময়ের মধ্যে যাতে লাগানো বোরো ধান অর্জিত হয়, সেই লক্ষ্য নিয়ে হাইব্রিড ধান চাষের চেয়ে এখানকার চাষিরা চিকন জাতের ধানই বেশি চাষাবাদ করেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মোট ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধান লাগানো হয়। এরমধ্যে মাত্র ৫৮২ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান লাগানো হয়। বাঁকী ১৭ হাজার ৫৬৮ হেক্টর জমিতেই উপশি জাতের ধান লাগানো হয়। হাইব্রিড ধান এখনো না পাকলেও অধিকাংশ জমির উপশি জাতের ধান পাক ধরেছে। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৮৬৫ মেঃটন। সূত্রমতে বাম্পার ফলন হওয়ায় সামনে প্রাকৃতিক কোনো দূর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হবে।

বিভিন্ন এলাকার চাষিরা জানান, গত বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। গত বছর বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২০ মন ধান পাওয়া গেছে। এবার বিঘাপতি ২২ থেকে ২৩ মন পর্যন্ত ধান পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে মাঠ থেকে ধান কাটা-মাড়াইয়ের পর পরই ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত। গত বছরের চেয়ে এবার ধানের মূল্য বেশ ভালোই পাচ্ছেন চাষিরা। বাম্পার ফলন ও ধানের মূল্য ভালো পাওয়ায় এবার সকল চাষিই বেশ খুশি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, বোরো ধানের বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে চারা রোপন ও ধান অর্জিত পর্যন্ত আমরা প্রতিনিয়ত চাষিদেরকে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরামর্শ দিয়েছি। যারফলে চলতি মৌসুমে বোরো ধান গাছে রোগবালাই না হওয়া ধানের ফল খুবই ভালো হয়েছে।