১০:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারিয়াকান্দির কিছু অংশ জামালপুরে সংযোজন করা রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের

  • Reporter Name
  • ০১:১৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • ১২৬

পাভেল মিয়া, স্টাফ রিপোর্টারঃ গত ২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বগুড়া সারিয়াকান্দির ২ ইউনিয়নের ৫ টি মৌজার ২ হাজার ৭৫ একর জমি জামালপুরের সিমানায় সংযোজন করা হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে গত ২ ফেব্রুয়ারী সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন বগুড়া সারিয়াকান্দি কাজলা ইউপির চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এ এস এম রফিকুল ইসলাম।
রফিকুল ইসলাম বলেন, এর আগে জামালপুর ও বগুড়া জেলার সীমানা নির্ধারণ সম্পর্কিত দুইটি রায় আমাদের বগুড়ার পক্ষে রয়েছে। এ রায়গুলোকে তোয়াক্কা করে কারো ব্যক্তিগত কালোহাতের হস্তক্ষেপে নিকারের বৈঠকে জনবিরোধী রায়টি চ্যালেন্জ করে আমি মাননীয় সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন করেছি। ১৯২৭ সালের ময়মনসিংহ বিভাগের অভাররাইট করা নকশা দিয়ে জমির জরিপকাজ পরিচালনা করে রায়টি দেয়া হয়েছে । জমির জরিপকাজের সময় আমাদের রাজশাহী বিভাগের নকশা ব্যবহার করা হয়নি। তাছাড়া জরিপকাজের সময় আমাদের বগুড়া জেলার কাউকে রাখাও হয়নি। আমি মনে করি এটি একটি একতরফা রায়।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী আমান ফেরদৌস বলেন, মামলার শুনানির তারিখ এখনো পাওয়া যায়নি। কোনো কালো হাতের হস্তক্ষেপে সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতা ছাড়াই এক জেলা হতে বিশাল আয়তনের জমি অপর জেলায় পার করা হয়েছে। যেহেতু ছিয়েস জরিপে এ জমি বগুড়া জেলার অন্তর্ভুক্ত, তাই এ এলাকার শত বছরের ইতিহাসও বগুড়ার। তাই সুনির্দিষ্ট যৌক্তিক কারণ ছাড়াই এক জেলার বিশাল আয়তনের এলাকা অন্য জেলায় সংযোজন করার কোন নিয়ম নেই। আশা করছি মাননীয় উচ্চ আদালত বিষয়টি অনুধাবন করে আমাদের পক্ষে রায় দেবেন।
নিকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামালপুরের মাদারগঞ্জে সংযোজন হয়েছে ২ টি ইউনিয়নের মৌজায় বসবাসরত ২ হাজার ৫০ টি পরিবারের ১০ হাজার জনসংখ্যা। সারিয়াকান্দি উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের জামথল মৌজার সম্পূর্ণ ১২০০ একর জমি ও ১ হাজার ৫০০ টি পরিবারের ৬ হাজার ৫০০ জনসংখ্যা, টেংরাকুড়া মৌজার আংশিক ৩০০ একর জমি ও ৩৫০ টি পরিবারের ২ হাজার জনসংখ্যা, বেড়াপাঁচবাড়িয়া মৌজার আংশিক ১৭৫ একর জমি ও ২০০ টি পরিবারের ৫০০ জনসংখ্যা, পাকুড়িয়া মৌজার আংশিক ১৫০ একর জমি ও ১৫০ টি পরিবারের ৩০০ জনসংখ্যা এবং কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের ছোনপচা মৌজার ২৫০ একর জমি ও ২৫০ টি পরিবারের ৭৫০ জনসংখ্যা বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা হতে জামালপুরের মাদারগন্জে সংযোজন হয়েছে।
উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন দিপন বলেন, আমাদের বাপ দাদা চৌদ্দ পুরুষের ঠিকানা, জমিজমার কাগজপত্র সব বগুড়া সারিয়াকান্দির নামে। হঠাৎ করে এই ইউনিয়নের কিছু মৌজা জামালপুর মাদারগঞ্জের মধ্যে কেটে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। এলাকাবাসী তাদের বাপ দাদাদের বসতভিটা বগুড়া সারিয়াকান্দির মাঝেই রাখতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সারিয়াকান্দির কিছু অংশ জামালপুরে সংযোজন করা রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের

০১:১৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

পাভেল মিয়া, স্টাফ রিপোর্টারঃ গত ২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বগুড়া সারিয়াকান্দির ২ ইউনিয়নের ৫ টি মৌজার ২ হাজার ৭৫ একর জমি জামালপুরের সিমানায় সংযোজন করা হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে গত ২ ফেব্রুয়ারী সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন বগুড়া সারিয়াকান্দি কাজলা ইউপির চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এ এস এম রফিকুল ইসলাম।
রফিকুল ইসলাম বলেন, এর আগে জামালপুর ও বগুড়া জেলার সীমানা নির্ধারণ সম্পর্কিত দুইটি রায় আমাদের বগুড়ার পক্ষে রয়েছে। এ রায়গুলোকে তোয়াক্কা করে কারো ব্যক্তিগত কালোহাতের হস্তক্ষেপে নিকারের বৈঠকে জনবিরোধী রায়টি চ্যালেন্জ করে আমি মাননীয় সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন করেছি। ১৯২৭ সালের ময়মনসিংহ বিভাগের অভাররাইট করা নকশা দিয়ে জমির জরিপকাজ পরিচালনা করে রায়টি দেয়া হয়েছে । জমির জরিপকাজের সময় আমাদের রাজশাহী বিভাগের নকশা ব্যবহার করা হয়নি। তাছাড়া জরিপকাজের সময় আমাদের বগুড়া জেলার কাউকে রাখাও হয়নি। আমি মনে করি এটি একটি একতরফা রায়।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী আমান ফেরদৌস বলেন, মামলার শুনানির তারিখ এখনো পাওয়া যায়নি। কোনো কালো হাতের হস্তক্ষেপে সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতা ছাড়াই এক জেলা হতে বিশাল আয়তনের জমি অপর জেলায় পার করা হয়েছে। যেহেতু ছিয়েস জরিপে এ জমি বগুড়া জেলার অন্তর্ভুক্ত, তাই এ এলাকার শত বছরের ইতিহাসও বগুড়ার। তাই সুনির্দিষ্ট যৌক্তিক কারণ ছাড়াই এক জেলার বিশাল আয়তনের এলাকা অন্য জেলায় সংযোজন করার কোন নিয়ম নেই। আশা করছি মাননীয় উচ্চ আদালত বিষয়টি অনুধাবন করে আমাদের পক্ষে রায় দেবেন।
নিকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামালপুরের মাদারগঞ্জে সংযোজন হয়েছে ২ টি ইউনিয়নের মৌজায় বসবাসরত ২ হাজার ৫০ টি পরিবারের ১০ হাজার জনসংখ্যা। সারিয়াকান্দি উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের জামথল মৌজার সম্পূর্ণ ১২০০ একর জমি ও ১ হাজার ৫০০ টি পরিবারের ৬ হাজার ৫০০ জনসংখ্যা, টেংরাকুড়া মৌজার আংশিক ৩০০ একর জমি ও ৩৫০ টি পরিবারের ২ হাজার জনসংখ্যা, বেড়াপাঁচবাড়িয়া মৌজার আংশিক ১৭৫ একর জমি ও ২০০ টি পরিবারের ৫০০ জনসংখ্যা, পাকুড়িয়া মৌজার আংশিক ১৫০ একর জমি ও ১৫০ টি পরিবারের ৩০০ জনসংখ্যা এবং কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের ছোনপচা মৌজার ২৫০ একর জমি ও ২৫০ টি পরিবারের ৭৫০ জনসংখ্যা বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা হতে জামালপুরের মাদারগন্জে সংযোজন হয়েছে।
উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন দিপন বলেন, আমাদের বাপ দাদা চৌদ্দ পুরুষের ঠিকানা, জমিজমার কাগজপত্র সব বগুড়া সারিয়াকান্দির নামে। হঠাৎ করে এই ইউনিয়নের কিছু মৌজা জামালপুর মাদারগঞ্জের মধ্যে কেটে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। এলাকাবাসী তাদের বাপ দাদাদের বসতভিটা বগুড়া সারিয়াকান্দির মাঝেই রাখতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।