০৫:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাহালুতে বোরো ধানের ফলন ও বাজার মুল্যে মহাখুশি কৃষকরা

  • Reporter Name
  • ১১:৫৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ মে ২০২৩
  • ১৩৭

মুনসুর রহমান তানসেন কাহালু থেকেঃ বগুড়ার কাহালু উপজেলায় পুরোদমে চলছে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ। ধানের বাম্পার ফলন ও বাজার মুল্যে বেশ ভালো হওয়ায় চাষিরা মহাখুশি।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায় চলতি বোরো মৌসুমে ১৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান লাগানো হয়। আবহাওয়া অনুককুলে থাকাসহ ধান গাছে তেমন কোন রোগবালাই না থাকায় গত বছরের চেয়ে এবার ধানের ফলন অনেকটা ভালো হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপশি জাতের ধান চাষ হয়েছে ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে এবং হাইব্রিড জাতের ধান চাষ হয়েছে ৬০০ হেক্টর জমিতে।
সুত্রমতে এখানে আলু ও সরিষা চাষের কারনে একটু বিলম্বে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়। বিলম্বে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হলেও এখানে এখন পর্যন্ত চাষিরা প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগের মধ্যে পড়েনি। মাঠের প্রায় অধেক ধান চাষিরা ঘরে তুলেছে। বাঁকী ধানগুলো ১০/১২ দিনের মধ্যে চাষিদের ঘরে উঠে যাবে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তপন রায় জানান, চলতি মৌসুমে উপশি জাতের ধান বিঘাপ্রতি গড়ে ২৩ মন ও হাইব্রিড জাতের ধান বিঘাপ্রতি ৩০ পর্যন্ত হয়েছে। কাহালু ধান ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম পলাশ জানান, এখন শুধু চিকন ধান কেনা হচ্ছে। মোটা ধান কেনাবেনা এখনো শুরু হয়নি। তারমতে চিকন ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর মোটা ধান জমি থেকে কাটার পর কাচা অবস্থায় ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা মন বিক্রি হচ্ছে।
আয়রা গ্রামের আবেদ আলী, ঝানঝার পাড়ার শাহিনসহ বেশ কয়েকজন বোরো চাষি জানান, এবার ধানের ফলনও ভালো হয়েছে এবং বাজার মুল্যও তুলনা মুলকভাবে অনেকটা ভালো।
উপজেলা কৃষি অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ধানের ফলন ভালো হওয়া বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে চাষিদের ধারনা দেওয়াসহ ধানা কাটা-মাড়াইয়ের ক্ষেত্রে চাষিরা কোন ধরনের সমস্যায় যাতে না পড়েন তার জন্য সরকারি ভুর্তকি মুল্যে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ও থ্রেসার মেশিন প্রদানসহ চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা আমরা করেছি।
কাহালু খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ারুল ইসলাম জানান, গত ৭ মে সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয় করার জন্য অনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। চলতি ম্যেসুমে এখানে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৩০০ মেঃটন ধান ও মিলারদের কাছ থেকে ৪৪ টাকা কেজি দরে ৩ হাজার ৮৫০ মেঃটন চাল ক্রয় করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কাহালুতে বোরো ধানের ফলন ও বাজার মুল্যে মহাখুশি কৃষকরা

১১:৫৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ মে ২০২৩

মুনসুর রহমান তানসেন কাহালু থেকেঃ বগুড়ার কাহালু উপজেলায় পুরোদমে চলছে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ। ধানের বাম্পার ফলন ও বাজার মুল্যে বেশ ভালো হওয়ায় চাষিরা মহাখুশি।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায় চলতি বোরো মৌসুমে ১৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান লাগানো হয়। আবহাওয়া অনুককুলে থাকাসহ ধান গাছে তেমন কোন রোগবালাই না থাকায় গত বছরের চেয়ে এবার ধানের ফলন অনেকটা ভালো হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপশি জাতের ধান চাষ হয়েছে ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে এবং হাইব্রিড জাতের ধান চাষ হয়েছে ৬০০ হেক্টর জমিতে।
সুত্রমতে এখানে আলু ও সরিষা চাষের কারনে একটু বিলম্বে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়। বিলম্বে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হলেও এখানে এখন পর্যন্ত চাষিরা প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগের মধ্যে পড়েনি। মাঠের প্রায় অধেক ধান চাষিরা ঘরে তুলেছে। বাঁকী ধানগুলো ১০/১২ দিনের মধ্যে চাষিদের ঘরে উঠে যাবে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তপন রায় জানান, চলতি মৌসুমে উপশি জাতের ধান বিঘাপ্রতি গড়ে ২৩ মন ও হাইব্রিড জাতের ধান বিঘাপ্রতি ৩০ পর্যন্ত হয়েছে। কাহালু ধান ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম পলাশ জানান, এখন শুধু চিকন ধান কেনা হচ্ছে। মোটা ধান কেনাবেনা এখনো শুরু হয়নি। তারমতে চিকন ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর মোটা ধান জমি থেকে কাটার পর কাচা অবস্থায় ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা মন বিক্রি হচ্ছে।
আয়রা গ্রামের আবেদ আলী, ঝানঝার পাড়ার শাহিনসহ বেশ কয়েকজন বোরো চাষি জানান, এবার ধানের ফলনও ভালো হয়েছে এবং বাজার মুল্যও তুলনা মুলকভাবে অনেকটা ভালো।
উপজেলা কৃষি অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ধানের ফলন ভালো হওয়া বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে চাষিদের ধারনা দেওয়াসহ ধানা কাটা-মাড়াইয়ের ক্ষেত্রে চাষিরা কোন ধরনের সমস্যায় যাতে না পড়েন তার জন্য সরকারি ভুর্তকি মুল্যে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ও থ্রেসার মেশিন প্রদানসহ চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা আমরা করেছি।
কাহালু খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ারুল ইসলাম জানান, গত ৭ মে সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয় করার জন্য অনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। চলতি ম্যেসুমে এখানে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৩০০ মেঃটন ধান ও মিলারদের কাছ থেকে ৪৪ টাকা কেজি দরে ৩ হাজার ৮৫০ মেঃটন চাল ক্রয় করা হবে।