মুহাম্মাদ আবু মুসা- বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দড়িপাড়া জাহের উদ্দিন আদর্শ নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব নিয়ে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তদন্তে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখায় যাননি তদন্তকারী কর্মকর্তা। এতে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মহলে প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার স্থানীয় রূপালী ব্যাংক সাবেকপাড়া শাখার ৯৬৪০ নম্বর হিসাবের অনুকূলে জমা দিতে বলা হয়। তবে অভিযোগকারীর দাবি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় ওই শাখায় ৯৬৪০ নম্বরের কোনো হিসাব ছিল না। পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রায় ১১ মাস পর ওই হিসাব খোলা হয়।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সেক্রেটারি আবু আছাদ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক মোঃ আবদুর রশিদ গত ১০ সেপ্টেম্বর বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে একটি চিঠি দেন।
চিঠিতে দড়িপাড়া জাহের উদ্দিন আদর্শ নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও আয়াসহ ছয়টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাবটি সঠিক কি না, তা তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে রূপালী ব্যাংক সাবেকপাড়া শাখার ৯৬৪০ নম্বর হিসাবটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে নাকি পরে খোলা হয়েছে এবং হিসাবটিতে বিদ্যালয়ের নাম যথাযথভাবে উল্লেখ আছে কি না, সেটিও যাচাই করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রমজান আলী আকন্দের স্বাক্ষরে গত ২৭ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষকে ১ অক্টোবর সরাসরি তদন্তে উপস্থিত থাকার জন্য চিঠি দেওয়া হয়।
নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রমজান আলী আকন্দ বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত করেন। তবে অভিযোগের অন্যতম বিষয় যেহেতু ব্যাংক হিসাব খোলার সময় ও হিসাবের নাম নিয়ে, তাই তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্যাংক শাখায় না যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রমজান আলী আকন্দের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাংক হিসাব খোলার বিষয়ে কোনো গড়মিল রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে ব্যাংকে যেতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়টি নিয়ে আরও কিছু অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময়ের সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলার সময়ের মধ্যে প্রায় ১১ মাসের ব্যবধান রয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় ২০০৩ সালের ৭ অক্টোবর। আর ৯৬৪০ নম্বর হিসাবটি খোলা হয় ২০০৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০০৪ সালে খোলা ওই ব্যাংক হিসাবে বিদ্যালয়ের নাম লেখা হয় ‘দড়িপাড়া জাহের উদ্দিন আদর্শ নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়’। সেখানে ‘বালিকা’ শব্দটি ছিল না। পরে ২০২৬ সালের ১১ আগস্ট একই হিসাব নম্বর রেখে বিদ্যালয়ের নাম সংশোধন করে ‘দড়িপাড়া জাহের উদ্দিন আদর্শ নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়’ করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানান।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ব্যাংক হিসাব খোলার সময় ও বিদ্যালয়ের নামের পরিবর্তনসহ এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। তারা মনে করেন, সঠিক তদন্ত হলে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। তদন্ত শেষে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিবেদনে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
Reporter Name 








