স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার যমুনা ও বাঙালি নদীর অববাহিকায় জেগে ওঠা চরাঞ্চলে এবার মাসকালাইয়ের আবাদ বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর পলিমাটি ও তুলনামূলক কম উৎপাদন খরচের কারণে কৃষকদের মধ্যে এ ডালজাতীয় ফসল চাষে আগ্রহ বাড়ছে। ইতোমধ্যে মাঠজুড়ে মাসকালাইয়ের গাছ ভালো অবস্থায় থাকায় চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার তেকানী চুকাইনগর ও পাকুল্ল্যা ইউনিয়নের যমুনা নদীসংলগ্ন চরাঞ্চলে এবার প্রায় ৫৫ হেক্টর জমিতে মাসকালাই চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে এ ফসলের আবাদ হয়েছিল ৪০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ১৫ হেক্টর।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর চরাঞ্চলের জমিতে জমে থাকা পলিমাটি মাসকালাই চাষের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। ফলে অনেক কৃষক অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই জমিতে বীজ বপন করেছেন। এতে উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম হচ্ছে।
খাটিয়ামারি চর এলাকার কৃষক নাজমুল হক, সাইদুর রহমান ও তুহিন মিয়া জানান, অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় মাসকালাই চাষে খরচ কম। জমি চাষের পর বীজ ছিটিয়ে দিয়ে সামান্য পরিচর্যা করলেই ফসল উৎপাদন করা যায়। পাশাপাশি বাজারে মাসকালাইয়ের চাহিদা থাকায় ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কৃষকরা আরও জানান, গত বছর মাসকালাই চাষ করে তারা লাভবান হয়েছেন। এবারও এখন পর্যন্ত জমিতে তেমন পোকামাকড় বা রোগবালাই দেখা দেয়নি। গাছের বর্তমান অবস্থা দেখে তারা আশাবাদী, এবার ফলন ভালো হবে এবং কাঙ্ক্ষিত দাম পেলে লাভও বেশি হবে।
সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫৫ হেক্টর জমিতে মাসকালাইয়ের আবাদ হয়েছে। সাধারণত আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে কালাইয়ের বীজ বপন করা হয়। বীজ বপনের প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়।
তিনি জানান, প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৪ থেকে ৫ মণ পর্যন্ত কালাই উৎপাদন হতে পারে। বাজারদরও তুলনামূলক ভালো। চরাঞ্চলের বেলে-দোআঁশ মাটি মাসকালাই চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কম খরচে অল্প সময়ে ফলন পাওয়ার পাশাপাশি ভালো মুনাফার সম্ভাবনা থাকায় কৃষকদের মধ্যে এ ফসলের আবাদ দিন দিন বাড়ছে।
Reporter Name 








