স্টাফ রিপোর্টার: প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই)। তবে বগুড়ার সোনাতলা পিটিআই নিজেই নানা সংকটে রয়েছে। শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন সমস্যা, প্রশিক্ষণ উপকরণের সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বগুড়া জেলা সদর থেকে প্রায় ৩১ কিলোমিটার উত্তরে সোনাতলা উপজেলা সদরে প্রায় পৌনে পাঁচ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত এই পিটিআই। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে জানুয়ারি-২০২৬ থেকে অক্টোবর-২০২৬ সেশনে এখানে মোট ৮২ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখানে প্রশিক্ষণের জন্য আসেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর আচরণ এবং সমসাময়িক শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে দক্ষ করে তোলার কথা। কিন্তু প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের পরিবেশই নানা সমস্যায় জর্জরিত থাকায় এর প্রভাব প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, সোনাতলা পিটিআইয়ে ইন্সট্রাক্টরের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৭টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৭ জন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ১০টি ইন্সট্রাক্টর পদ শূন্য রয়েছে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষক না থাকায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
এ ছাড়া অফিস সহকারীর দুটি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন একজন। মালি, নৈশপ্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ থাকলেও এসব পদেও প্রয়োজনীয় জনবল নেই। চুক্তিভিত্তিক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী দিয়ে কিছু কাজ পরিচালনা করা হলেও তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতেও কর্তৃপক্ষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত অবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে নাজুক। শিক্ষক (পুরুষ) আবাসিক শহীদুল্লাহ হলটি প্রায় ২০ থেকে ২২ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে থাকলেও ভবনটি সংস্কার কিংবা অপসারণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শুধু আবাসিক হল নয়, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থাপনারও নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। কোথাও ভবন সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, আবার কোথাও রয়েছে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের সংকট। শ্রেণিকক্ষের পরিবেশও সবসময় প্রশিক্ষণের উপযোগী থাকে না। এতে প্রশিক্ষণার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে প্রশিক্ষণ গ্রহণে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে সোনাতলা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সুপারিনটেনডেন্ট (চলতি দায়িত্ব) এ কে এম নাজমুল হুদা বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে ইন্সট্রাক্টরের ১৭টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৭ জন কর্মরত রয়েছেন। ফলে ১০টি পদ শূন্য রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক (পুরুষ) আবাসিক শহীদুল্লাহ হলটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। হলটি সংস্কার অথবা অপসারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশিক্ষিত শিক্ষক তৈরির এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান সংকটগুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অবকাঠামো সংস্কার, আবাসিক সুবিধা উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ নিশ্চিত করা গেলে প্রশিক্ষণের পরিবেশ আরও কার্যকর ও মানসম্মত হবে।
Reporter Name 
















