০৪:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়, জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪ জন

  • Reporter Name
  • ০৩:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬৯

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলায় ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় হতাশাজনক ফলাফল হয়েছে। উপজেলার কলেজগুলোতে পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। সব মিলিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র চারজন। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচটি কলেজের মধ্যে সোনাতলা মহিলা কলেজ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় সোনাতলা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে তিনজন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজ থেকে ১০৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র চারজন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সোনাতলা সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২২৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩০ জন। পাসের হার ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।

মহেশপাড়া আব্দুল মান্নান বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন আটজন। পাসের হার ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ভেলুরপাড়ার ডক্টর এনামুল হক কলেজে ১৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩৯ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ২১ দশমিক ০৮ শতাংশ।

এ ছাড়া সোনাতলা মহিলা কলেজ থেকে ২৬২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮০ জন। পাসের হার ৩০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

অন্যদিকে, সোনাতলা সরকারি নাজির আখতার কলেজ থেকে ৫৬৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২২২ জন। পাসের হার ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। সরকারি এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।

ফল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজের এটিএম মোস্তফা কামাল বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি এবং মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত আসক্তি ফল খারাপের অন্যতম কারণ। তাঁর মতে, অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় মনোযোগ না দিয়ে রাত জেগে মোবাইল গেমস ও চ্যাটিংয়ে সময় কাটায়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ নাজমুল ইসলাম বলেন, এসএসসি পাসের পর অনেক শিক্ষার্থী কলেজে নিয়মিত ক্লাস করে না। পড়াশোনার প্রতি উদাসীনতা ও সময়ের যথাযথ ব্যবহার না করায় এমন ফলাফল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

সামগ্রিকভাবে উপজেলার কলেজগুলোতে পাসের নিম্নহার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কম হওয়ায় শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

সাঘাটায় যমুনার বুকে নৌকাতেই নবজাতকের জন্ম, নাম রাখা হলো ‘নদী’; সুস্থ মা ও শিশু

সোনাতলায় এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়, জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪ জন

০৩:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলায় ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় হতাশাজনক ফলাফল হয়েছে। উপজেলার কলেজগুলোতে পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। সব মিলিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র চারজন। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচটি কলেজের মধ্যে সোনাতলা মহিলা কলেজ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় সোনাতলা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে তিনজন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজ থেকে ১০৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র চারজন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সোনাতলা সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২২৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩০ জন। পাসের হার ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।

মহেশপাড়া আব্দুল মান্নান বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন আটজন। পাসের হার ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ভেলুরপাড়ার ডক্টর এনামুল হক কলেজে ১৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩৯ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ২১ দশমিক ০৮ শতাংশ।

এ ছাড়া সোনাতলা মহিলা কলেজ থেকে ২৬২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮০ জন। পাসের হার ৩০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

অন্যদিকে, সোনাতলা সরকারি নাজির আখতার কলেজ থেকে ৫৬৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২২২ জন। পাসের হার ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। সরকারি এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।

ফল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে বালুয়াহাট ডিগ্রি কলেজের এটিএম মোস্তফা কামাল বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি এবং মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত আসক্তি ফল খারাপের অন্যতম কারণ। তাঁর মতে, অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় মনোযোগ না দিয়ে রাত জেগে মোবাইল গেমস ও চ্যাটিংয়ে সময় কাটায়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ নাজমুল ইসলাম বলেন, এসএসসি পাসের পর অনেক শিক্ষার্থী কলেজে নিয়মিত ক্লাস করে না। পড়াশোনার প্রতি উদাসীনতা ও সময়ের যথাযথ ব্যবহার না করায় এমন ফলাফল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

সামগ্রিকভাবে উপজেলার কলেজগুলোতে পাসের নিম্নহার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কম হওয়ায় শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।