সোনাতলা সংবাদ ডেস্ক- স্তন ক্যান্সার শুধু নারীদের রোগ—এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও পুরুষরাও এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বগুড়ায় গত এক বছরে অন্তত ৭ জন পুরুষের স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ৩৭৫ জন নারীও এ রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতার অভাব ও সংকোচের কারণে পুরুষদের ক্ষেত্রে রোগটি অনেক সময় দেরিতে শনাক্ত হচ্ছে।
৬৭ বছর বয়সী সাইফুল ইসলামের ডান স্তনের নিচে প্রথমে ছোট একটি গুটি দেখা দেয়। সাধারণ ফোঁড়া ভেবে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি তিনি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন, তিনি স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত। রোগটি প্রথম পর্যায়ে থাকায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করান। বর্তমানে সেখানকার অনকোলজি বিভাগে কেমোথেরাপি নিচ্ছেন তিনি।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৬৫ জন নারী স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা নেন। ২০২৬ সালের চলতি সময় পর্যন্ত চিকিৎসা নেওয়া ১৫১ জনের মধ্যে ১৫০ জন নারী ও একজন পুরুষ। অন্যদিকে টিএমএসএস হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগে গত এক বছরে ২৩০ জন স্তন ক্যান্সার রোগীর মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ছিলেন। এ ছাড়া বগুড়ায় ৬১ বছর বয়সী সঞ্জীব কর্মকার নামে আরও এক পুরুষ এ রোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর ক্ষেত্রে ক্যান্সার তৃতীয় পর্যায়ে শনাক্ত হয়েছে।
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা জানান, পুরুষদের স্তনেও অল্প পরিমাণ গ্রন্থিযুক্ত টিস্যু থাকায় সেখানে ক্যান্সার হতে পারে। সাধারণত ৬০ বছরের বেশি বয়স, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, বংশগত কারণ, বিআরসিএ-১ ও বিআরসিএ-২ জিনের পরিবর্তন, স্থূলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি যকৃতের রোগ এ ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বগুড়ার ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. তৌছিফুর রহমান বলেন, পুরুষদের মধ্যেও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে এ ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই স্তনে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শজিমেক হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. মোবাশ্বের উর রহমান বলেন, স্তন বা বগলের নিচে শক্ত চাকা, স্তনের চামড়ায় কুঁচকে যাওয়া, বোঁটা থেকে রক্ত বা অস্বাভাবিক তরল বের হওয়া কিংবা বোঁটা ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। লজ্জা বা সংকোচে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়। সময়মতো রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, স্তনের যেকোনো পরিবর্তন মানেই ক্যান্সার নয়। তবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াই এ রোগ মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
Reporter Name 


















