স্টাফ রিপোর্টার (সাঘাটা), গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ৪৮ দিন ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ শূন্য রয়েছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি, দাপ্তরিক সমন্বয় ও জনসেবা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ পদে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে পার্শ্ববর্তী ফুলছড়ি উপজেলার ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দুটি উপজেলার দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে সাঘাটার প্রশাসনিক কার্যক্রমে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ নানা কাজে তাঁর ভূমিকা রয়েছে। এ পদে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকলে এসব কার্যক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সাঘাটা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মানুষের সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় কাজে মাঝে মধ্যে উপজেলায় এলেও নিয়মিত উপস্থিতি না থাকায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত ও ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “দুই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে জনভোগান্তি একটু হবেই।”
সাঘাটায় নিয়মিত ইউএনও পদায়নের বিষয়ে জানতে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ পদ শূন্য থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কবে সাঘাটা উপজেলায় নিয়মিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে? প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত একজন ইউএনও পদায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যাতে সাঘাটা উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয় এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
Reporter Name 

















