মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ বগুড়ার সাতমাথায় অবস্থিত শতবর্ষী সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের নিজস্ব ভবন আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরোনো ভবনের পাঁচটি দোকানঘর দখলমুক্ত করে সেখানে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ‘সমবায় টাওয়ার’ নির্মাণ করতে চায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তবে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে দোকান ছাড়ার নোটিশ দেওয়ার পরও ভাড়াটিয়ারা ঘরগুলো ছেড়ে দেননি বলে অভিযোগ করেছেন ব্যাংকের সভাপতি এইচ এস মাফতুন আহমেদ খান রুবেল।
বুধবার (৩ নভেম্বর) বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে ব্যাংকের সভাপতি জানান, বগুড়ার সাধারণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নওয়াব আলতাব আলী চৌধুরীর উদ্যোগে তাঁর নিজ বাসভবনে সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত হয়। পরে ১৯২৮ সালে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণের পর সাতমাথায় ব্যাংকের নিজস্ব ভবন প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি জানান, ১৯৯২ সালে ব্যাংকের সাতমাথার ভবনের মালিকানা নিয়ে একটি পক্ষ আদালতে মামলা করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায় ব্যাংকের পক্ষে আসে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি। এ মামলা পরিচালনায় নিজের অর্থ ব্যয়ের কথাও জানান ব্যাংকের সভাপতি।
রুবেল আরও বলেন, ব্যাংকের সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি পূর্বে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা থেকে নেওয়া ঋণের প্রায় ৭৮ লাখ টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও কাজ করেন তিনি।
ব্যাংকের দোকানঘরগুলোর ভাড়া ও চুক্তি নিয়ে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কয়েকজন ভাড়াটিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করছেন না এবং চুক্তিপত্র নবায়ন না করেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এতে ব্যাংক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধেও একসময় জটিলতা দেখা দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তৎকালীন সভাপতি অনুপস্থিত থাকায় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী তিনি পুনরায় সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে পরিচালনা কমিটির সভায় পুরোনো ভবনটি ভেঙে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রস্তাবিত ভবনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সমবায় টাওয়ার’। সেখানে সমবায়ীদের উৎপাদিত পণ্য কেনাবেচাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যাংকের সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, সমবায় অধিদপ্তরের নির্দেশনায় দোকানঘরগুলোর ভাড়া ও আর্থিক সুবিধা নিয়ে তদন্ত করা হয়। জেলা সমবায় কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে দোকানগুলো স্বল্পমূল্যে ভাড়া দেওয়া এবং কয়েকটি দোকানের ক্ষেত্রে যথাযথ ভাড়ার চুক্তি না থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
তিনি জানান, সমবায় অধিদপ্তর ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে চুক্তিপত্রের ৮ ও ৯ নম্বর শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে পাঁচটি দোকানের ভাড়াটিয়াকে গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে তিন মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দোকানঘর ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ভাড়াটিয়ারা দোকানঘর বুঝিয়ে দেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় এইচ এস মাফতুন আহমেদ খান রুবেল চতুর্থবারের মতো ব্যাংকের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন পরিচালনা পরিষদ ব্যাংকের সম্পদ সংরক্ষণ ও সার্বিক সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চায়।
ব্যাংকের সভাপতি বলেন, সমবায়ীদের বৃহত্তর স্বার্থে নিজস্ব সম্পত্তি বুঝে নিয়ে সেখানে আধুনিক ‘সমবায় টাওয়ার’ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান তাঁরা। এ জন্য প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, সমবায়ী ও বগুড়ার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তাঁর মতে, পরিকল্পিত ভবনটি নির্মিত হলে একদিকে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে জেলার সমবায়ীদের উৎপাদিত পণ্যের বিপণন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
Reporter Name 











