১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় দুস্থদের চাল যাচ্ছে ব্যবসায়ীর গোডাউন ঘরে!

  • Reporter Name
  • ০৪:১২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ জুন ২০২৪
  • ২৩৯

আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় অসচ্ছল, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারীদের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির কার্ডধারীদের চাল যাচ্ছে সরাসরি ব্যবসায়ীদের গুদাম ঘরে।

৫ জুন বুধবার সরেজমিনে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায় যে, ৩৮৫ জন ভিডাব্লিউবি কর্মসূচির কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু কার্ডধারী নারীরা না এসেই কার্ড বিক্রি করে দেয় এবং সেই চালগুলো তুলছেন বিভিন্ন চাল ব্যবসায়ীরা।

দেখা যায়, পাকুল্লাহ ইউনিয়নের প্রায় ২৪ জন ব্যবসায়ী প্রত্যেকেই ১৫ হাজার টাকা পুঁজি একত্রে করে। এরপর তারা ভিডাব্লিউবির কার্ড নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছেন এবং সরাসরি চাল তুলছেন।

আর এই ২৪ জন ব্যবসায়ী একত্রে চালগুলো কিনে পরিষদ চত্বরের সাথেই মৃত সিরাজ মোল্লার ছেলে আনারুলের পরিত্যাক্ত দোকান ঘরকে গুদাম বানিয়ে সেখানে রাখছেন। সেখানে গিয়ে দেখা মেলে প্রায় ২০০ টি ৩০ কেজি ওজনের চালসহ সরকারি লোগো সম্বলিত বস্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানে থাকা এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এ চালগুলো মহিলারা খায় না, আমাদের কাছে বিক্রি করে দেয়। কারো কারো কার্ড আবার আমরা আগেই কিনে রাখি। চাল তোলার পরে ১ হাজার ৫০ টাকাসহ কার্ডগুলো ফেরত দেই। আর আমাদের এই ২৪ জন ব্যবসায়ীদের টিম লিডার হলেন বাবুল, আসাদুল ও রকি নামের তিন যুবক’। চাল বিতরনের মাস্টাররোলে টিপসহিই/সাক্ষর নিচ্ছিলিন সচিব এটিএম ফয়জুল হান্নান। তিনি বলেন, ‘আমরা কার্ডধারীদেরই চাল দিচ্ছি। ব্যবসায়ীদের দিচ্ছিনা। তবে কেউ যদি চাল বিক্রি করে সে দায়িত্ব আমার না’।

প্রায় দুই ঘন্টা সেখানে বসে থাকার পরেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ট্যাগ কর্মকর্তা দেখতে না পাওয়ায় ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। জানা যায় ট্যাগ কর্মকর্তা হিসেবে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন সোনাতলা উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম। পরে তিনি জানান, ‘আমার ট্রেনিং থাকার কারণে আমি সেখানে ছিলাম না। তবে সকালে গিয়েছিলাম। ঘটনাটি আমার সামনে না ঘটায় আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা’।

পাকুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লতিফুল বারী টিম বলেন, ‘আপনারাতো বিষয়টি নিজেই দেখেছেন। আমরা সঠিক ভাবে চাল বিতরণ করছি। তাই বেশি কিছু বলতে চাইনা’।
এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাইনুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনলাম। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলতেছি বিষয়টি দেখার জন্য’।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

ধুনটে মসজিদের জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৯

সোনাতলায় দুস্থদের চাল যাচ্ছে ব্যবসায়ীর গোডাউন ঘরে!

০৪:১২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ জুন ২০২৪

আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় অসচ্ছল, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারীদের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির কার্ডধারীদের চাল যাচ্ছে সরাসরি ব্যবসায়ীদের গুদাম ঘরে।

৫ জুন বুধবার সরেজমিনে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায় যে, ৩৮৫ জন ভিডাব্লিউবি কর্মসূচির কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু কার্ডধারী নারীরা না এসেই কার্ড বিক্রি করে দেয় এবং সেই চালগুলো তুলছেন বিভিন্ন চাল ব্যবসায়ীরা।

দেখা যায়, পাকুল্লাহ ইউনিয়নের প্রায় ২৪ জন ব্যবসায়ী প্রত্যেকেই ১৫ হাজার টাকা পুঁজি একত্রে করে। এরপর তারা ভিডাব্লিউবির কার্ড নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছেন এবং সরাসরি চাল তুলছেন।

আর এই ২৪ জন ব্যবসায়ী একত্রে চালগুলো কিনে পরিষদ চত্বরের সাথেই মৃত সিরাজ মোল্লার ছেলে আনারুলের পরিত্যাক্ত দোকান ঘরকে গুদাম বানিয়ে সেখানে রাখছেন। সেখানে গিয়ে দেখা মেলে প্রায় ২০০ টি ৩০ কেজি ওজনের চালসহ সরকারি লোগো সম্বলিত বস্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানে থাকা এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এ চালগুলো মহিলারা খায় না, আমাদের কাছে বিক্রি করে দেয়। কারো কারো কার্ড আবার আমরা আগেই কিনে রাখি। চাল তোলার পরে ১ হাজার ৫০ টাকাসহ কার্ডগুলো ফেরত দেই। আর আমাদের এই ২৪ জন ব্যবসায়ীদের টিম লিডার হলেন বাবুল, আসাদুল ও রকি নামের তিন যুবক’। চাল বিতরনের মাস্টাররোলে টিপসহিই/সাক্ষর নিচ্ছিলিন সচিব এটিএম ফয়জুল হান্নান। তিনি বলেন, ‘আমরা কার্ডধারীদেরই চাল দিচ্ছি। ব্যবসায়ীদের দিচ্ছিনা। তবে কেউ যদি চাল বিক্রি করে সে দায়িত্ব আমার না’।

প্রায় দুই ঘন্টা সেখানে বসে থাকার পরেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ট্যাগ কর্মকর্তা দেখতে না পাওয়ায় ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। জানা যায় ট্যাগ কর্মকর্তা হিসেবে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন সোনাতলা উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম। পরে তিনি জানান, ‘আমার ট্রেনিং থাকার কারণে আমি সেখানে ছিলাম না। তবে সকালে গিয়েছিলাম। ঘটনাটি আমার সামনে না ঘটায় আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা’।

পাকুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লতিফুল বারী টিম বলেন, ‘আপনারাতো বিষয়টি নিজেই দেখেছেন। আমরা সঠিক ভাবে চাল বিতরণ করছি। তাই বেশি কিছু বলতে চাইনা’।
এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাইনুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনলাম। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলতেছি বিষয়টি দেখার জন্য’।