১০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় বিদ্যালয় থেকে ৭ বস্তা বই চুরি, দুই সপ্তাহ পেড়িয়ে গেলেও থানায় মামলা হয়নি

  • Reporter Name
  • ০৩:৩৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
  • ৩২০

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সাত বস্তা সরকারি বই চুরির দুই সপ্তাহ পেড়িয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। গত ১০ জুন গভীর রাতে নৈশ প্রহরীকে ভ্যানসহ বই চুরির সময় হাতে নাতে আটক করা হয়। জনতা কর্তৃক আটকের পর ভ্যান চালককে থানায় নেওয়া হলেও তাকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত নৈশ প্রহরী বা সংশ্লিষ্ট কারো বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ যোগ-সাজেশে নৈশ্য প্রহরী এ কাজ করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন রাত প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী মোনাই (৩৫) স্কুলের ষ্টোর রুম থেকে ২০২৫ সালের বিভিন্ন শ্রেণীর নতুন ৭ বস্তা বই এবং ১টি বড় ডিজিটাল ওজন মেশিন চুরি করে ভ্যান যোগে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার পথে পৌর এলাকায় রংধনু মার্কেটের সামনে গেলে পথচারীদের সন্দেহ হয়।

এসময় ভ্যানটি আটকিয়ে তারা ভ্যান চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় এর মধ্যে বই আছে। ৩০০ টাকা ভাড়ায় গার্লস স্কুল থেকে এখানে নিয়ে এসেছি। এরপর পথচারীরা তাকে আটক করে ভ্যানসহ স্কুলের সামনে নিয়ে আসে। এসময় উক্ত নৈশ প্রহরী মোনাই এসে স্বীকার করে যে, বইগুলো সে চুরি করেছে। এক পর্যায়ে মোবাইলে কথা বলতে বলতে নৈশ্য প্রহরী মোনাই দৌড়ে পালিয়ে যায়।

আটককৃত ভ্যান ও ৭ বস্তা বই ও একটি ডিজিটাল ওজন মেশিন থানায় নেয়া হয়। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভ্যান চালককে ছেড়ে দেওয়া হলেও নৈশ্য প্রহরীর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সোনাতলা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিলাদুন নবী বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ বা মামলা করতে আসেনি। অভিযোগ দিলে আইননানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল হাই বলেন, স্টোর রুমের চাবি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিকট থাকে। বিস্তারিত শুনতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নাজমুল ইসলাম ঘটনার সময় অভিযুক্তদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিদ্যালয় ছুটির কারণে আমরা অভিযুক্তদের বিষয়ে ম্যানিজিং কমিটির বৈঠক বা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। তবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করবো।

এদিকে এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও জড়িত আছে বলে এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে। তাই একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর উক্ত বিদ্যালয় থেকে ৪৮টি ফ্যান ও ১টি স্টিলের আলমারি চুরিও অভিযোগ রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

ধুনটে মসজিদের জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৯

সোনাতলায় বিদ্যালয় থেকে ৭ বস্তা বই চুরি, দুই সপ্তাহ পেড়িয়ে গেলেও থানায় মামলা হয়নি

০৩:৩৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সাত বস্তা সরকারি বই চুরির দুই সপ্তাহ পেড়িয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। গত ১০ জুন গভীর রাতে নৈশ প্রহরীকে ভ্যানসহ বই চুরির সময় হাতে নাতে আটক করা হয়। জনতা কর্তৃক আটকের পর ভ্যান চালককে থানায় নেওয়া হলেও তাকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত নৈশ প্রহরী বা সংশ্লিষ্ট কারো বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ যোগ-সাজেশে নৈশ্য প্রহরী এ কাজ করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন রাত প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী মোনাই (৩৫) স্কুলের ষ্টোর রুম থেকে ২০২৫ সালের বিভিন্ন শ্রেণীর নতুন ৭ বস্তা বই এবং ১টি বড় ডিজিটাল ওজন মেশিন চুরি করে ভ্যান যোগে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার পথে পৌর এলাকায় রংধনু মার্কেটের সামনে গেলে পথচারীদের সন্দেহ হয়।

এসময় ভ্যানটি আটকিয়ে তারা ভ্যান চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় এর মধ্যে বই আছে। ৩০০ টাকা ভাড়ায় গার্লস স্কুল থেকে এখানে নিয়ে এসেছি। এরপর পথচারীরা তাকে আটক করে ভ্যানসহ স্কুলের সামনে নিয়ে আসে। এসময় উক্ত নৈশ প্রহরী মোনাই এসে স্বীকার করে যে, বইগুলো সে চুরি করেছে। এক পর্যায়ে মোবাইলে কথা বলতে বলতে নৈশ্য প্রহরী মোনাই দৌড়ে পালিয়ে যায়।

আটককৃত ভ্যান ও ৭ বস্তা বই ও একটি ডিজিটাল ওজন মেশিন থানায় নেয়া হয়। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভ্যান চালককে ছেড়ে দেওয়া হলেও নৈশ্য প্রহরীর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সোনাতলা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিলাদুন নবী বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ বা মামলা করতে আসেনি। অভিযোগ দিলে আইননানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল হাই বলেন, স্টোর রুমের চাবি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিকট থাকে। বিস্তারিত শুনতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নাজমুল ইসলাম ঘটনার সময় অভিযুক্তদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিদ্যালয় ছুটির কারণে আমরা অভিযুক্তদের বিষয়ে ম্যানিজিং কমিটির বৈঠক বা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। তবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করবো।

এদিকে এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও জড়িত আছে বলে এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে। তাই একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর উক্ত বিদ্যালয় থেকে ৪৮টি ফ্যান ও ১টি স্টিলের আলমারি চুরিও অভিযোগ রয়েছে।