স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় স্বামীর লাগাতার নির্যাতনের শিকার হয়ে মমতা বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মনির হোসেন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে ৬ জুলাই সোনাতলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই দশক আগে সোনাতলা উপজেলার মোহাব্বতের পাড়া গ্রামের নাজিম শেখের ছেলে আব্দুল মজিদের সঙ্গে সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটবাড়ি চড় গ্রামের তোজাম শেখের মেয়ে মমতা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে তিনটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।
কিন্তু সুখের সংসার গড়ার বদলে বিয়ের পর থেকেই স্বামী আব্দুল মজিদ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মমতা বেগমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। তার পিতা নাজিম শেখ, ভাই মজনু শেখ এবং প্রতিবেশী আজিজার শেখও বিভিন্ন সময় তাকে উসকানি দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৫ জুন সকালে পারিবারিক কলহের এক পর্যায়ে স্বামী মমতাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। দুপুরের দিকে আব্দুল মজিদ মমতাকে বেধড়ক মারধর করলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে স্বামী আব্দুল মজিদ স্ত্রী মমতাকে চরপাড়া এলাকার এক হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। সেখানে মমতার অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তার দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফলে কিছুক্ষনের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে।
মমতার গুরুতর অসুস্থতার খবর পেয়ে স্থানীয় একজন বিকেলে ফোনে তার ভাই মনির হোসেনকে বিষয়টি জানান। সন্ধ্যার দিকে মনির হোসেন সেখানে পৌঁছে দেখেন, তার বোন আর বেঁচে নেই। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশের সহায়তা চান।
খবর পেয়ে রাতেই সোনাতলা থানার পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং পরদিন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে।
এ ঘটনার পর নিহতের ভাই মনির হোসেন বাদী হয়ে স্বামী আব্দুল মজিদ, শ্বশুর নাজিম শেখ, দেবর মজনু শেখ ও প্রতিবেশী আজিজার শেখের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিন-চারজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহতের ভাই মনির হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার বোনকে ওরা দিনের পর দিন মারধর করেছে। শেষ পর্যন্ত মেরে ফেলেছে। আমরা গরিব মানুষ। সরকার ও প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি—ওদের যেন কঠোর শাস্তি হয়। যেন আর কোনো বোনকে এরকম অকালে মরতে না হয়।”
সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিলাদুন নবী জানান, ‘‘মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’’
Reporter Name 


















