০৭:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় ভূমিহীনদের জমি দখল, আ’লীগের পর বিএনপি নেতারা!

  • Reporter Name
  • ০৩:২৬:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৫৩০

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়ার সোনাতলায় চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহের জন্য ১৬৬ বিঘা খাসজমি ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত দেয় সরকার। সেই জমি এক আওয়ামী লীগ নেতা দখল করে খাচ্ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই জমিতে ভূমিহীনরা চাষাবাদ শুরু করলে বিএনপির নামে স্থানীয় কয়েকজন দখলে নেন। তাদের কবল থেকে জমি উদ্ধারে ভূমিহীনরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিলেও প্রতিকার পাচ্ছেন না।

জানা যায়, সোনাতলা উপজেলার রশিদপুর মৌজায় ২৮ জন ভূমিহীনের নামে ১৬৬ বিঘা খাসজমি সরকার থেকে ২০০৮ সালে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। পরে জমিতে ভূমিহনীরা চাষাবাদ শুরু করেন। কিন্তু বেশি দিন তারা ওই জমি ভোগ করতে পারেননি। ২০১০ সালের মার্চে ওই জমি জোরপূর্বক দখল করে নেন সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনহাদুজ্জমান লিটন। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের শ্যালক। যার কারণে রাজনৈতিক প্রভাবে তিনি ওইসব ধানি জমি দখল করে পুকুর বানিয়ে মাছ চাষ এবং কিছু জমিতে ধান চাষ করে আসছিলেন।
এদিকে জমি উদ্ধারে ভূমিহীনরা গত ১৪ বছর ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে হাজিরা দিয়েও প্রতিকার পাননি। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর লিটন আত্মগোপনে গেলে ভূমিহীনরা ওই জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন বিএনপির দোহাই দিয়ে ওই জমি ও পুকুর দখলে নেন। এমনকি ভূমিহীনদের লাগানো ধান কেটে নিয়ে যান।
প্রভাবশালীদের মধ্যে রয়েছেন বাবলু সাকিদার, শামসুল আলম, আব্দুল কাইয়ুম ও লোকমান হোসেন। স্থানীয়রা জানান, এরা আগে আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিলেন, এখন বিএনপি সমর্থক। আর বিএনপির নাম ভাঙিয়েই এই জমিগুলো দখল করে নিয়েছেন। তাদের পেছনে আছেন সোনাতলা উপজেলা যুবদলের সদস্য ও সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম।

ভূমিহীনদের মধ্যে সোনাতলা উপজেলার ছোট বালুয়া গ্রামের নাজমুল হক জানান, রশিদপুর মৌজায় তাঁকে সরকার থেকে ৮০ শতক ধানি জমি দলিলমূলে বন্দোবস্ত দেয়। কিন্তু দলিলই শুধু আছে, বাস্তবে জমি দখল করে পুকুর বানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা লিটন। গত ১৪ বছর বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছি; কোনো প্রতিকার পাইনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবার জমি ফিরে পাব– এ আশায় ছিলাম। জমিতে ধান চাষাবাদ করেছিলাম। কিন্তু ওই ধান স্থানীয় প্রভাবশালীরা কেটে নিয়ে যায় এবং বিএনপির নাম ভাঙিয়ে জমি পুনরায় বেদখল করে। এখন তাদের হাত থেকে জমি উদ্ধারে বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিচ্ছি।

সানোয়ার হোসেন নামে এক ভূমিহীন রাগে ক্ষোভে গত ১০ আগস্ট বগুড়া শহরের টিটু মিলনায়তনে দুদকের গণশুনানি চলাকালে মঞ্চ লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেন। তিনি বলেন, আগে জমি দখল করে খেয়েছে আওয়ামী লীগ নেতারা, এখন খাচ্ছে বিএনপি নেতারা। আমরা এখন যাব কোথায়! সরকারের কোনো দপ্তরই সহায়তা দিচ্ছে না।
অভিযুক্তদের মধ্যে বাবলু সাকিদার বলেন, এই জমি আমাদের বাপ-দাদার। সরকার কেন ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত দিলম তা আমার বোধগম্য নয়। আমাদের জমি আমরা ভোগদখল করছি। তিনি বলেন, আমি আগেও বিএনপি করেছি, এখনও বিএনপি করছি। তাঁর মতো একই বক্তব্য অন্য অভিযুক্তদের।
সোনাতলা উপজেলা যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম বাবলু সাকিদারদের পক্ষে কথা বলেন। তিনি বলেন, এরা সবাই বিএনপি করে। জমি নিয়ে জটিলতায় পড়লে আমি তাদের সহযোগিতা দিই।
সোনাতলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের সার্ভেয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, রশিদপুর মৌজায় ভূমিহীনদের নামে বরাদ্দ জমি একাধিকবার ভূমিহীনদের বুঝিয়ে দেওয়া হলেও আবার বেদখল হয়ে যায়। ভূমিহীনরা জমি রক্ষা করতে পারছে না।

সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দায়িত্বে থাকা স্বীকৃতি প্রামাণিক সমকালকে বলেন, সেখানকার ভূমিহীনদের দখল হয়ে যাওয়া জমি পুনরুদ্ধারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করতে বলা হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র- দৈনিক সমকাল

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় ভূমিহীনদের জমি দখল, আ’লীগের পর বিএনপি নেতারা!

০৩:২৬:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়ার সোনাতলায় চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহের জন্য ১৬৬ বিঘা খাসজমি ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত দেয় সরকার। সেই জমি এক আওয়ামী লীগ নেতা দখল করে খাচ্ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই জমিতে ভূমিহীনরা চাষাবাদ শুরু করলে বিএনপির নামে স্থানীয় কয়েকজন দখলে নেন। তাদের কবল থেকে জমি উদ্ধারে ভূমিহীনরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিলেও প্রতিকার পাচ্ছেন না।

জানা যায়, সোনাতলা উপজেলার রশিদপুর মৌজায় ২৮ জন ভূমিহীনের নামে ১৬৬ বিঘা খাসজমি সরকার থেকে ২০০৮ সালে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। পরে জমিতে ভূমিহনীরা চাষাবাদ শুরু করেন। কিন্তু বেশি দিন তারা ওই জমি ভোগ করতে পারেননি। ২০১০ সালের মার্চে ওই জমি জোরপূর্বক দখল করে নেন সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনহাদুজ্জমান লিটন। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের শ্যালক। যার কারণে রাজনৈতিক প্রভাবে তিনি ওইসব ধানি জমি দখল করে পুকুর বানিয়ে মাছ চাষ এবং কিছু জমিতে ধান চাষ করে আসছিলেন।
এদিকে জমি উদ্ধারে ভূমিহীনরা গত ১৪ বছর ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে হাজিরা দিয়েও প্রতিকার পাননি। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর লিটন আত্মগোপনে গেলে ভূমিহীনরা ওই জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন বিএনপির দোহাই দিয়ে ওই জমি ও পুকুর দখলে নেন। এমনকি ভূমিহীনদের লাগানো ধান কেটে নিয়ে যান।
প্রভাবশালীদের মধ্যে রয়েছেন বাবলু সাকিদার, শামসুল আলম, আব্দুল কাইয়ুম ও লোকমান হোসেন। স্থানীয়রা জানান, এরা আগে আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিলেন, এখন বিএনপি সমর্থক। আর বিএনপির নাম ভাঙিয়েই এই জমিগুলো দখল করে নিয়েছেন। তাদের পেছনে আছেন সোনাতলা উপজেলা যুবদলের সদস্য ও সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম।

ভূমিহীনদের মধ্যে সোনাতলা উপজেলার ছোট বালুয়া গ্রামের নাজমুল হক জানান, রশিদপুর মৌজায় তাঁকে সরকার থেকে ৮০ শতক ধানি জমি দলিলমূলে বন্দোবস্ত দেয়। কিন্তু দলিলই শুধু আছে, বাস্তবে জমি দখল করে পুকুর বানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা লিটন। গত ১৪ বছর বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেছি; কোনো প্রতিকার পাইনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবার জমি ফিরে পাব– এ আশায় ছিলাম। জমিতে ধান চাষাবাদ করেছিলাম। কিন্তু ওই ধান স্থানীয় প্রভাবশালীরা কেটে নিয়ে যায় এবং বিএনপির নাম ভাঙিয়ে জমি পুনরায় বেদখল করে। এখন তাদের হাত থেকে জমি উদ্ধারে বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিচ্ছি।

সানোয়ার হোসেন নামে এক ভূমিহীন রাগে ক্ষোভে গত ১০ আগস্ট বগুড়া শহরের টিটু মিলনায়তনে দুদকের গণশুনানি চলাকালে মঞ্চ লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেন। তিনি বলেন, আগে জমি দখল করে খেয়েছে আওয়ামী লীগ নেতারা, এখন খাচ্ছে বিএনপি নেতারা। আমরা এখন যাব কোথায়! সরকারের কোনো দপ্তরই সহায়তা দিচ্ছে না।
অভিযুক্তদের মধ্যে বাবলু সাকিদার বলেন, এই জমি আমাদের বাপ-দাদার। সরকার কেন ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত দিলম তা আমার বোধগম্য নয়। আমাদের জমি আমরা ভোগদখল করছি। তিনি বলেন, আমি আগেও বিএনপি করেছি, এখনও বিএনপি করছি। তাঁর মতো একই বক্তব্য অন্য অভিযুক্তদের।
সোনাতলা উপজেলা যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম বাবলু সাকিদারদের পক্ষে কথা বলেন। তিনি বলেন, এরা সবাই বিএনপি করে। জমি নিয়ে জটিলতায় পড়লে আমি তাদের সহযোগিতা দিই।
সোনাতলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের সার্ভেয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, রশিদপুর মৌজায় ভূমিহীনদের নামে বরাদ্দ জমি একাধিকবার ভূমিহীনদের বুঝিয়ে দেওয়া হলেও আবার বেদখল হয়ে যায়। ভূমিহীনরা জমি রক্ষা করতে পারছে না।

সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দায়িত্বে থাকা স্বীকৃতি প্রামাণিক সমকালকে বলেন, সেখানকার ভূমিহীনদের দখল হয়ে যাওয়া জমি পুনরুদ্ধারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করতে বলা হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র- দৈনিক সমকাল