রিমন আহম্মেদ: বগুড়ার সোনাতলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক বিরোধপূর্ণ জমি মাটি দ্বারা ভরাট করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জোরগাছা ইউনিয়নের উত্তর বয়ড়া গ্রামে। অভিযোগটি তুলেছেন ওই গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে মো. সফিউর রহমান দুদু মোল্লা তার আপন চাচাতো ভাই মো. ফয়েজ উদ্দীন মোল্লা ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। ফয়েজ উদ্দীন মোল্লা একই গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে।
জানা যায়, জোড়গাছা ইউনিয়নের উত্তর বয়ড়া গ্রামের মৃত রজব আলী মোল্লার ছেলে আইয়ুব হোসেন তার পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে ওয়ারিশদের সাথে বিরোধ জেরে আদালতে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন। যা এখনও চলমান রয়েছে। ওই বাটোয়ারা মামলার অন্তর্ভুক্ত বয়ড়া মৌজার জেএল নং ৭১, সিএস খতিয়ান নং ১২১, সাবেক দাগ ৪১০, হালে ৭৫৯ নং দাগে ৬ শতাংশ, এবং সাবেক দাগ ৪১০, ৪১১, ৪১২, ৪১৫, হালে ৭৫৭ নং দাগে মোট ২২ শতাংশসহ ২৮ শতাংশ জমির মধ্যে ১৪ শতাংশ বিক্রি করা হয়েছে। বাকি ১৪ শতাংশ জমি নিয়ে সফিউর রহমান দুদু ও ফয়েজ মোল্লার মধ্যে দখল নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষই বিষয়টি আদালতকে লিখিতভাবে অবগত করে।
আদালত শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই চার দাগের ১৪ শতাংশ জমির স্থিতিবস্থা বজায় রাখতে এবং কোন পক্ষই জমিতে না যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
২১ নভেম্বর সরেজমিনে গেলে সফিউর রহমান দুদু বলেন,আদালতের নির্দেশানুযায়ী আমরা জমিতে যাই না। কিন্তু ফয়েজ উদ্দীন ও তার ছেলে সাইফুলের সহযোগিতায় একই গ্রামের তমাল ও তার ভাই তুহিন জোর করে জমিতে মাটি ভরাট করে ভবন নির্মাণ করছে। এটি আদালত অবমাননার শামিল। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
এ ঘটনায় ফয়েজ উদ্দীনের ছেলে সাইফুল ইসলাম দাবী করে বলেন, এটা আমাদের জমি। মাটি ব্যবসায়ী তমালের নিকট থেকে ভরাট করে নিয়ে আমরা বাড়ি নির্মাণ করছি। আমার বাবার নামে সিএস ও এমআরআর খতিয়ান আছে,শুধু ভুলবশত আরএস খতিয়ান দুদুর নামে হয়েছে। আরএস ঠিক করতে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা জানতাম না। আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে এটা এখন জানলাম।এরপর থেকে আর কাজ করবো না।
এ ব্যাপারে ফয়েজ উদ্দিন মোল্লা জানান, জমির মালিক আমি। তমালের কাছে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বায়না নেওয়া হয়েছে, সে এখানে মাটি ভরাট করেছে। এখনও দলিল হয়নি। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা বললে তিনি বলেন,এখন বায়নার টাকা তাকে ফেরত দিতে হবে।
এ বিষয়ে এস এম নূহের মাহমুদ তমাল জানান, আমি মাটির ব্যবসা করি। ফয়েজ উদ্দীনের ছেলে সাইফুল ইসলাম আমার কাছ থেকে মাটি ভরাট করে নিয়েছে।
আপনিই নাকি ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণ করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তমাল বলেন, প্রশ্নই আসেনা, জমিতো আমার না। আমি কেনো ওখানে বাড়ি নির্মাণ করতে যাবে। আমার বিরুদ্ধে আনিতো অভিযোগ ঢাহা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
Reporter Name 


















