০৩:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও হয়নি ব্রীজ, বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

  • Reporter Name
  • ০৩:১৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১১৩

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৪ বছর পরেও ২৮ গ্রামের মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ২১০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। এতে করে এলাকাবাসীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সোনাতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী ধলিরচর গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ধলির বিল। ওই বিলের দু’পাশে রয়েছে ধলিরচর গ্রাম।

ওই গ্রামসহ আশপাশের তিনটি উপজেলার প্রায় ২৮ গ্রামের চার লক্ষাধিক মানুষকে স্বাধীনতার পর থেকে ওই পথ দিয়ে যাতায়াতকারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে কোনরকমে পারাপার হওয়া গেলেও বর্ষা মৌসুমে অনেক ভোগান্তি পোঁহাতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, ওই বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে পার হতে গিয়ে নিচে পড়ে নারী ও শিশুসহ প্রায় ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২০০১ সালে ওই ব্রিজের ওপর দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী সারিয়াকান্দি উপজেলার নিজ বলাইল এলাকার আশা ও সেতু নামের দুই বোন পানিতে পড়ে মারা যায়। এছাড়াও ২০১১ সালে পার্শ্ববর্তী শ্যামপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী আইয়ুব আলী (৩২) ওই সাঁকো থেকে পড়ে মারা যায়। এছাড়াও আরও তিন বৃদ্ধা ওই সাঁকো থেকে পড়ে মারা গেছেন।

ওই সাঁকোর ওপর দিয়ে আশপাশের আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেজি স্কুল,চারটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ২৮ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। স্বাধীনতার পর থেকেই ওই বিলের বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় পথচারীদেরকে। এছাড়াও ওই এলাকার প্রায় ৮৫ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষিকাজের সাথে জড়িত। কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ওই সাঁকোর উপর দিয়ে পারাপার করতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ওই গ্রামের তোজাম্মেল হোসেন, সুলতান হাবীব ডিটল, কামরুল হাসান, ভূট্টা মিয়া, তোফাজ্জল হোসেন, খয়বর আলী, নাজরিন আক্তার, সুইটি বেগম বলেন, প্রতিশ্রুতি দিলেও স্বাধীনতার দীর্ঘ প্রায় ৫৪ বছরেও ওই বিলের ওপর ব্রিজ নির্মাণ হয়নি। তবে ব্রিজ নির্মাণে প্রতিশ্রুতি মিলেছে বহুবার। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে প্রার্থী উক্ত স্থানে ব্রিজ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিবেন, আমরা তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবো।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আতিকুর রহমান তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে কেউ তাকে অবগত করেননি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও হয়নি ব্রীজ, বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

০৩:১৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৪ বছর পরেও ২৮ গ্রামের মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ২১০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। এতে করে এলাকাবাসীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সোনাতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী ধলিরচর গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ধলির বিল। ওই বিলের দু’পাশে রয়েছে ধলিরচর গ্রাম।

ওই গ্রামসহ আশপাশের তিনটি উপজেলার প্রায় ২৮ গ্রামের চার লক্ষাধিক মানুষকে স্বাধীনতার পর থেকে ওই পথ দিয়ে যাতায়াতকারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে কোনরকমে পারাপার হওয়া গেলেও বর্ষা মৌসুমে অনেক ভোগান্তি পোঁহাতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, ওই বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে পার হতে গিয়ে নিচে পড়ে নারী ও শিশুসহ প্রায় ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২০০১ সালে ওই ব্রিজের ওপর দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী সারিয়াকান্দি উপজেলার নিজ বলাইল এলাকার আশা ও সেতু নামের দুই বোন পানিতে পড়ে মারা যায়। এছাড়াও ২০১১ সালে পার্শ্ববর্তী শ্যামপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী আইয়ুব আলী (৩২) ওই সাঁকো থেকে পড়ে মারা যায়। এছাড়াও আরও তিন বৃদ্ধা ওই সাঁকো থেকে পড়ে মারা গেছেন।

ওই সাঁকোর ওপর দিয়ে আশপাশের আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেজি স্কুল,চারটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ২৮ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। স্বাধীনতার পর থেকেই ওই বিলের বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় পথচারীদেরকে। এছাড়াও ওই এলাকার প্রায় ৮৫ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষিকাজের সাথে জড়িত। কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ওই সাঁকোর উপর দিয়ে পারাপার করতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ওই গ্রামের তোজাম্মেল হোসেন, সুলতান হাবীব ডিটল, কামরুল হাসান, ভূট্টা মিয়া, তোফাজ্জল হোসেন, খয়বর আলী, নাজরিন আক্তার, সুইটি বেগম বলেন, প্রতিশ্রুতি দিলেও স্বাধীনতার দীর্ঘ প্রায় ৫৪ বছরেও ওই বিলের ওপর ব্রিজ নির্মাণ হয়নি। তবে ব্রিজ নির্মাণে প্রতিশ্রুতি মিলেছে বহুবার। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে প্রার্থী উক্ত স্থানে ব্রিজ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিবেন, আমরা তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবো।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আতিকুর রহমান তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে কেউ তাকে অবগত করেননি। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।