০৩:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় বালু ব্যবসা নিয়ে বিরোধ, মারপিটে ২জন আহত

  • Reporter Name
  • ০৬:২৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩২৩

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলায় বাঙালি নদী খননের বালু’র মালিকানা নিয়ে দুইগ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। একই জেরে সোমবার(৮ ডিসেম্বর) আনুমানিক রাত্রি ৯টায় নুহের মাহমুদ তমাল গ্রুপের মারপিটে নাহারুল ইসলাম গ্রুপের ২জন আহত হয়েছে। আহত মো.শিবু মন্ডল (৪০) সোনাতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন রয়েছে এবং মো. সুরুজ মিয়া নামের আরেকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার সর্জনপাড়া বাঙালি নদীর ব্রীজের নিচে বালুর পয়েন্টে। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এ ঘটনায় মো.নাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ৯ ডিসেম্বর নুহের মাহমুদ তমালের নাম উল্লেখপূর্বক ১৫/২০জনের নামে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।
শিবু মন্ডল উত্তর বয়ড়া গ্রামের মৃত আনসার আলী মন্ডলের ছেলে এবং সুরুজ মিয়া একই গ্রামের মৃত বুলু মিয়ার ছেলে।

নাহারুল ইসলাম অভিযোগে উল্লেখ করেন, বাঙালি নদীর সর্জনপাড়া ব্রীজের নিচে নদী খননের রাখা বালু
নুহের মাহমুদ তমালের মালিকানাধীন তিন অংশ ইতিপূর্বে সে অপসারণ করেছেন। বাকী এক অংশের মালিক নাহারুল ইসলাম অপসারণ করতে গেলে তমাল বিভিন্নভাবে বাধা দেন। এমনকি বালু অপসারণে রাস্তার
তৈরি করার জন্য কয়েকজন কৃষকের নিকট থেকে জমি ভাড়া নিয়েছে নাহারুল। তমাল ওই জমির মালিকদেরকেও হুমকিধামকি দিয়ে যাচ্ছেন। একপর্যায়ে গত ৮ ডিসেম্বর তমাল তার লোকজন নিয়ে
নাহারুলের বালুর পয়েন্টে হামলা করে ম্যানেজার সুরুজ মিয়া ও জমির মালিক শিবুকে মারপিটে আহত করে এবং ভেকু ট্রাক ভাংচুর করে।

এ ব্যাপারে আহত শিবু মন্ডল জানান, নাহারুল ইসলামকে রাস্তার কাজে জমি ভাড়া দেওয়ায় তমাল
তার লোকজন এনে বিকট শব্দের কিছু ফুটিয়ে বালুর পয়েন্ট এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাকে মারপিট করেছে। তিনি এর সঠিক বিচার দাবী করেছেন প্রশাসনের নিকট। বালুর পয়েন্টের ম্যানেজার সুরুজ মিয়াও একই অভিযোগ করেছেন।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসীদের অনেকই জানান, রাতে
বিকট শব্দের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে মারপিট করা ঠিক হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী করেছেন প্রশাসনের প্রতি।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে নুহের মাহমুদ তমালের সাথে কথা বললে তিনি হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান,ওইদিন আমি বগুড়ায় ছিলাম, আমির এর কিছুই জানি না। শত্রুতা করে আমাকে জড়ানো হচ্ছ।
মিথ্যা অভিযোগ তুলে নাহারুল ও শিবুর লোকজন ৯ ডিসেম্বর বিকেলে আমার ও ছোটভাইয়ের বাড়ীঘর ভাংচুর করেছে। বাড়ীতে শুধু আমার মা থাকে। ভাংচুর করার সময় ওরা মাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে চিৎকার করতেও দেয়নি। আমি অবশ্যই এর আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

এ ব্যাপারে সোনাতলা থানা অফিসার ইনচার্জ কবীর হোসেন জানান, ঘটনায় নাহারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ দিয়েছে,তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিবাদীর বাড়িঘরে হামলা ভাংচুরের বিষয়ে কথা বলেল তিনি জানান, এভাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। করলে সেটাও খতিয়ে দেখা হবে

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় বালু ব্যবসা নিয়ে বিরোধ, মারপিটে ২জন আহত

০৬:২৩:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলায় বাঙালি নদী খননের বালু’র মালিকানা নিয়ে দুইগ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। একই জেরে সোমবার(৮ ডিসেম্বর) আনুমানিক রাত্রি ৯টায় নুহের মাহমুদ তমাল গ্রুপের মারপিটে নাহারুল ইসলাম গ্রুপের ২জন আহত হয়েছে। আহত মো.শিবু মন্ডল (৪০) সোনাতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন রয়েছে এবং মো. সুরুজ মিয়া নামের আরেকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার সর্জনপাড়া বাঙালি নদীর ব্রীজের নিচে বালুর পয়েন্টে। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এ ঘটনায় মো.নাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ৯ ডিসেম্বর নুহের মাহমুদ তমালের নাম উল্লেখপূর্বক ১৫/২০জনের নামে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।
শিবু মন্ডল উত্তর বয়ড়া গ্রামের মৃত আনসার আলী মন্ডলের ছেলে এবং সুরুজ মিয়া একই গ্রামের মৃত বুলু মিয়ার ছেলে।

নাহারুল ইসলাম অভিযোগে উল্লেখ করেন, বাঙালি নদীর সর্জনপাড়া ব্রীজের নিচে নদী খননের রাখা বালু
নুহের মাহমুদ তমালের মালিকানাধীন তিন অংশ ইতিপূর্বে সে অপসারণ করেছেন। বাকী এক অংশের মালিক নাহারুল ইসলাম অপসারণ করতে গেলে তমাল বিভিন্নভাবে বাধা দেন। এমনকি বালু অপসারণে রাস্তার
তৈরি করার জন্য কয়েকজন কৃষকের নিকট থেকে জমি ভাড়া নিয়েছে নাহারুল। তমাল ওই জমির মালিকদেরকেও হুমকিধামকি দিয়ে যাচ্ছেন। একপর্যায়ে গত ৮ ডিসেম্বর তমাল তার লোকজন নিয়ে
নাহারুলের বালুর পয়েন্টে হামলা করে ম্যানেজার সুরুজ মিয়া ও জমির মালিক শিবুকে মারপিটে আহত করে এবং ভেকু ট্রাক ভাংচুর করে।

এ ব্যাপারে আহত শিবু মন্ডল জানান, নাহারুল ইসলামকে রাস্তার কাজে জমি ভাড়া দেওয়ায় তমাল
তার লোকজন এনে বিকট শব্দের কিছু ফুটিয়ে বালুর পয়েন্ট এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাকে মারপিট করেছে। তিনি এর সঠিক বিচার দাবী করেছেন প্রশাসনের নিকট। বালুর পয়েন্টের ম্যানেজার সুরুজ মিয়াও একই অভিযোগ করেছেন।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসীদের অনেকই জানান, রাতে
বিকট শব্দের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে মারপিট করা ঠিক হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী করেছেন প্রশাসনের প্রতি।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে নুহের মাহমুদ তমালের সাথে কথা বললে তিনি হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান,ওইদিন আমি বগুড়ায় ছিলাম, আমির এর কিছুই জানি না। শত্রুতা করে আমাকে জড়ানো হচ্ছ।
মিথ্যা অভিযোগ তুলে নাহারুল ও শিবুর লোকজন ৯ ডিসেম্বর বিকেলে আমার ও ছোটভাইয়ের বাড়ীঘর ভাংচুর করেছে। বাড়ীতে শুধু আমার মা থাকে। ভাংচুর করার সময় ওরা মাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে চিৎকার করতেও দেয়নি। আমি অবশ্যই এর আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

এ ব্যাপারে সোনাতলা থানা অফিসার ইনচার্জ কবীর হোসেন জানান, ঘটনায় নাহারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ দিয়েছে,তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিবাদীর বাড়িঘরে হামলা ভাংচুরের বিষয়ে কথা বলেল তিনি জানান, এভাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। করলে সেটাও খতিয়ে দেখা হবে