০১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলার যমুনার চরে মরিচের বাম্পার ফলন, ভালো দামে কৃষকের মুখে হাসি

  • Reporter Name
  • ০৩:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৪৭

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ও তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের চর এলাকায় চলতি মৌসুমে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলাজুড়ে প্রায় ৮৩৫ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ করেছেন কৃষকরা। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, পাকুল্লা ইউনিয়নের মির্জাপুর অবদাবাদ এলাকায় প্রতিদিন চরাঞ্চল থেকে ঘোড়ার গাড়ির মাধ্যমে ২ থেকে ২ দশমিক ৫ হাজার মণ মরিচ এনে বিক্রি করা হচ্ছে। বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসব মরিচ কিনে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া, বগুড়া, ঢাকা ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন। এতে কৃষকরা প্রতি মণ মরিচ ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫শ টাকা দরে বিক্রি করতে পারছেন।

মিলনেরপাড়া গ্রামের ঘোড়ার গাড়ির মালিক মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে আবু তাহের এবং শিমুলতাইড় গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে ফরিদ মিয়া জানান, তারা প্রতিদিন খাটিয়ামারি চর, চালওয়াবাড়ী, পূর্ব সুজাইপুর, রাধাকান্তপুর, শিমুলতাইড়সহ বিভিন্ন চর এলাকা থেকে ১৫ থেকে ২০ মণ মরিচ ঘোড়ার গাড়িতে করে সন্ধ্যা পর্যন্ত মির্জাপুর অবদাবাদে নিয়ে আসেন।

শিমুলতাইড় চরের কৃষক হাসান আলী বলেন, তিনি প্রায় ৩ বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেছেন এবং প্রতি বিঘায় এক লাখ টাকারও বেশি মরিচ বিক্রি করেছেন। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় আগামী মৌসুমেও মরিচ চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ২শ’ থেকে আড়াইশ’ ঘোড়ার গাড়ির মাধ্যমে মরিচের বস্তা আনা-নেওয়া করা হচ্ছে, যা চর এলাকার অর্থনীতিকে আরও চাঙা করছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরার হোসেন জানান, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শের ফলে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে মরিচ চাষ আরও বাড়বে এবং সরকারিভাবে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে কৃষকরা আরও লাভবান হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলার যমুনার চরে মরিচের বাম্পার ফলন, ভালো দামে কৃষকের মুখে হাসি

০৩:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ও তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের চর এলাকায় চলতি মৌসুমে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলাজুড়ে প্রায় ৮৩৫ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ করেছেন কৃষকরা। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, পাকুল্লা ইউনিয়নের মির্জাপুর অবদাবাদ এলাকায় প্রতিদিন চরাঞ্চল থেকে ঘোড়ার গাড়ির মাধ্যমে ২ থেকে ২ দশমিক ৫ হাজার মণ মরিচ এনে বিক্রি করা হচ্ছে। বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসব মরিচ কিনে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া, বগুড়া, ঢাকা ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন। এতে কৃষকরা প্রতি মণ মরিচ ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫শ টাকা দরে বিক্রি করতে পারছেন।

মিলনেরপাড়া গ্রামের ঘোড়ার গাড়ির মালিক মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে আবু তাহের এবং শিমুলতাইড় গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে ফরিদ মিয়া জানান, তারা প্রতিদিন খাটিয়ামারি চর, চালওয়াবাড়ী, পূর্ব সুজাইপুর, রাধাকান্তপুর, শিমুলতাইড়সহ বিভিন্ন চর এলাকা থেকে ১৫ থেকে ২০ মণ মরিচ ঘোড়ার গাড়িতে করে সন্ধ্যা পর্যন্ত মির্জাপুর অবদাবাদে নিয়ে আসেন।

শিমুলতাইড় চরের কৃষক হাসান আলী বলেন, তিনি প্রায় ৩ বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেছেন এবং প্রতি বিঘায় এক লাখ টাকারও বেশি মরিচ বিক্রি করেছেন। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় আগামী মৌসুমেও মরিচ চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ২শ’ থেকে আড়াইশ’ ঘোড়ার গাড়ির মাধ্যমে মরিচের বস্তা আনা-নেওয়া করা হচ্ছে, যা চর এলাকার অর্থনীতিকে আরও চাঙা করছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরার হোসেন জানান, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শের ফলে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে মরিচ চাষ আরও বাড়বে এবং সরকারিভাবে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে কৃষকরা আরও লাভবান হবে।