০১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় চলতি মৌসুমে এক ছটাক ধানও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

  • Reporter Name
  • ০৩:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২১৩

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় চলতি মৌসুমে আমন ধান কিনতে ব্যর্থ হয়েছে খাদ্য বিভাগ। এ উপজেলায় সরকার ১০৭ মেট্রিকটন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত উপজেলার দু’টি খাদ্য গুদামে এক ছটাক ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ ডিসেম্বর আমন ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়ে শেষ ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সোনাতলা উপজেলায় মোট ১০৭ মেট্রিকটন আমন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে সোনাতলা খাদ্যগুদামে ৭৫ মেট্রিকটন এবং হরিখালী খাদ্যগুদামে ৩২ মেট্রিকটন। এ সময়ের মধ্যে ওই দু’টি খাদ্যগুদামে এক ছটাক ধানও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ।

কারণ হিসেবে খাদ্য বিভাগ জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় কৃষক সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে অনীহা দেখিয়েছেন। এজন্য চলতি বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে প্রথমে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।

এরপর লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত কৃষককে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি, ব্যাংকে একাউন্ট খোলা, ধানের আর্দ্রতা ঠিক রাখা, ধান পরিস্কার করার ঝামেলার কারণে গুদামে ধান বিক্রি করতে তাদের অনীহা। এছাড়াও গ্রাম-গঞ্জের অশিক্ষিত কৃষক অনলাইনে আবেদনসহ সরকারি বিভিন্ন রকম নিয়ম-নীতির ঝামেলা এড়াতে বাজারে ধান বিক্রি করেন। বাজারে ধান বিক্রির সাথে সাথে নগদ টাকা হাতে পাওয়া যায়। এছাড়াও তারা আরও জানান, এক সময় ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে গেলে ১০ টাকা দিয়ে একাউন্ট খোলা যেত। এখন সেই একাউন্ট খুলতেও এক হাজার টাকা লাগে।

এ বিষয়ে হলিখালী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) আবু সাঈদ খন্দকার বলেন, চলতি বছর তার খাদ্যগুদামে ৩২ মেট্রিকটন ধান কেনার বরাদ্দ পাওয়া গেলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান কেনা সম্ভব হয়নি। কারণ হিসেবে তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে দাম বেশি, তাই কৃষক খাদ্যগুদামে আমন ধান বিক্রি করেননি। এছাড়াও আবহাওয়া অনুকূলে ছিল না।

এ বিষয়ে সোনাতলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) জালাল উদ্দিন সরদার বলেন, কৃষক বাজারে ধান বিক্রি করতে গেলে নগদ টাকা হাতে পান। অপরদিকে খাদ্যগুদামে ধানের মূল্য পেতে বিলম্ব হওয়া এবং একাউন্ট খোলাসহ সরকারি নানা ধরনের নিয়ম-নীতির কারণে খাদ্যগুদামে ধান দিতে কৃষকরা অনীহা দেখিয়েছেন। ফলে চলতি মৌসুমে তার খাদ্যগুদামে ৭৫ মেট্রিকটন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহ্ মো. শাহেদুর রহমান বলেন, চলতি বছর আমন মৌসুমে ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ধান সংগ্রহের সময়সীমা থাকলেও বরাদ্দকৃত ১০৭ মেট্রিকটন ধানের মধ্যে এক ছটাক ধানও কেনা সম্ভব হয়নি। চলতি বছর সরকার প্রতি কেজি আমন ধান ৩৪ টাকা দরে নির্ধারণ করে। কৃষকের অনীহা, বৈরি আবহাওয়া, খোলা বাজারে দাম বেশি হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় চলতি মৌসুমে এক ছটাক ধানও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

০৩:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলায় চলতি মৌসুমে আমন ধান কিনতে ব্যর্থ হয়েছে খাদ্য বিভাগ। এ উপজেলায় সরকার ১০৭ মেট্রিকটন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত উপজেলার দু’টি খাদ্য গুদামে এক ছটাক ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ ডিসেম্বর আমন ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়ে শেষ ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সোনাতলা উপজেলায় মোট ১০৭ মেট্রিকটন আমন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে সোনাতলা খাদ্যগুদামে ৭৫ মেট্রিকটন এবং হরিখালী খাদ্যগুদামে ৩২ মেট্রিকটন। এ সময়ের মধ্যে ওই দু’টি খাদ্যগুদামে এক ছটাক ধানও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ।

কারণ হিসেবে খাদ্য বিভাগ জানিয়েছেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় কৃষক সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে অনীহা দেখিয়েছেন। এজন্য চলতি বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে প্রথমে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।

এরপর লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত কৃষককে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি, ব্যাংকে একাউন্ট খোলা, ধানের আর্দ্রতা ঠিক রাখা, ধান পরিস্কার করার ঝামেলার কারণে গুদামে ধান বিক্রি করতে তাদের অনীহা। এছাড়াও গ্রাম-গঞ্জের অশিক্ষিত কৃষক অনলাইনে আবেদনসহ সরকারি বিভিন্ন রকম নিয়ম-নীতির ঝামেলা এড়াতে বাজারে ধান বিক্রি করেন। বাজারে ধান বিক্রির সাথে সাথে নগদ টাকা হাতে পাওয়া যায়। এছাড়াও তারা আরও জানান, এক সময় ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে গেলে ১০ টাকা দিয়ে একাউন্ট খোলা যেত। এখন সেই একাউন্ট খুলতেও এক হাজার টাকা লাগে।

এ বিষয়ে হলিখালী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) আবু সাঈদ খন্দকার বলেন, চলতি বছর তার খাদ্যগুদামে ৩২ মেট্রিকটন ধান কেনার বরাদ্দ পাওয়া গেলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান কেনা সম্ভব হয়নি। কারণ হিসেবে তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে দাম বেশি, তাই কৃষক খাদ্যগুদামে আমন ধান বিক্রি করেননি। এছাড়াও আবহাওয়া অনুকূলে ছিল না।

এ বিষয়ে সোনাতলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) জালাল উদ্দিন সরদার বলেন, কৃষক বাজারে ধান বিক্রি করতে গেলে নগদ টাকা হাতে পান। অপরদিকে খাদ্যগুদামে ধানের মূল্য পেতে বিলম্ব হওয়া এবং একাউন্ট খোলাসহ সরকারি নানা ধরনের নিয়ম-নীতির কারণে খাদ্যগুদামে ধান দিতে কৃষকরা অনীহা দেখিয়েছেন। ফলে চলতি মৌসুমে তার খাদ্যগুদামে ৭৫ মেট্রিকটন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহ্ মো. শাহেদুর রহমান বলেন, চলতি বছর আমন মৌসুমে ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ধান সংগ্রহের সময়সীমা থাকলেও বরাদ্দকৃত ১০৭ মেট্রিকটন ধানের মধ্যে এক ছটাক ধানও কেনা সম্ভব হয়নি। চলতি বছর সরকার প্রতি কেজি আমন ধান ৩৪ টাকা দরে নির্ধারণ করে। কৃষকের অনীহা, বৈরি আবহাওয়া, খোলা বাজারে দাম বেশি হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।