১২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় রোজা সামনে রেখে ডিমে ভরসা নিম্ন আয়ের মানুষের, প্রতিদিন বিক্রি লক্ষাধিক টাকা

  • Reporter Name
  • ০৩:১০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০৬

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: রোজাকে সামনে রেখে সোনাতলা উপজেলা জুড়ে বেড়েছে ডিমের চাহিদা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে মাছ-মাংসের বদলে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য তালিকায় এখন প্রধান স্থান দখল করেছে ডিম। চাহিদা অনুযায়ী উপজেলায় প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে লক্ষাধিক ডিম।

যমুনা নদী ও বাঙালি নদী বেষ্টিত এ উপজেলার প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। কেউ কৃষি শ্রমিক, কেউবা রিকশাচালক। প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে টিকে থাকা এসব মানুষ বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় ডিমই হয়ে উঠেছে তাদের প্রধান প্রোটিনের উৎস।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে খাবুলিয়া, জন্তিয়ারপাড়া, মহব্বতের পাড়া, ভিকনের পাড়া, সরলিয়া, পূর্ব তেকানী ও খাটিয়ামারি এলাকায় ঘুরে নিম্ন আয়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাট-বাজারে গরুর মাংস ৭০০-৭৫০ টাকা, খাসির মাংস ১,০০০-১,১০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০-২০০ টাকা, সোনালী মুরগি ২৮০-৩০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৩০-৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই মাছ ৩২০-৩৫০ টাকা (আকারভেদে ৪০০-৫০০ টাকা), কাতলা ২৮০-৩৫০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০-২৬০ টাকা, পুটি কার্প ২০০-২২০ টাকা এবং পাঙ্গাস ১৬০-১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

নদীকূলীয় ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, বছরের তিন থেকে ছয় মাস পানিবন্দি অবস্থায় কাটাতে হয় তাদের। তাই শুষ্ক মৌসুমে ভবিষ্যতের কথা ভেবে সংসার খরচ চালাতে হয় হিসেব কষে। রোজাকে সামনে রেখে সামর্থ্য অনুযায়ী অনেকে ডিম কিনে মজুতও করছেন।

উপজেলার সৈয়দ আহম্মদ কলেজ স্টেশন এলাকার শাফি ডিম ঘরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল খালেক প্রামাণিক বলেন, “রোজাকে সামনে রেখে ডিমের চাহিদা অনেক বেড়েছে। আগে দৈনিক প্রায় ৫০ হাজার ডিম বিক্রি হতো, এখন তা বেড়ে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখে দাঁড়িয়েছে। প্রতি খাঁচি ডিম ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।”

দ্রব্যমূল্যের চাপে যখন নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের, তখন রোজায় স্বস্তির প্রোটিন হিসেবে ডিমই হয়ে উঠেছে সোনাতলার নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় রোজা সামনে রেখে ডিমে ভরসা নিম্ন আয়ের মানুষের, প্রতিদিন বিক্রি লক্ষাধিক টাকা

০৩:১০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: রোজাকে সামনে রেখে সোনাতলা উপজেলা জুড়ে বেড়েছে ডিমের চাহিদা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে মাছ-মাংসের বদলে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য তালিকায় এখন প্রধান স্থান দখল করেছে ডিম। চাহিদা অনুযায়ী উপজেলায় প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে লক্ষাধিক ডিম।

যমুনা নদী ও বাঙালি নদী বেষ্টিত এ উপজেলার প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। কেউ কৃষি শ্রমিক, কেউবা রিকশাচালক। প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে টিকে থাকা এসব মানুষ বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় ডিমই হয়ে উঠেছে তাদের প্রধান প্রোটিনের উৎস।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে খাবুলিয়া, জন্তিয়ারপাড়া, মহব্বতের পাড়া, ভিকনের পাড়া, সরলিয়া, পূর্ব তেকানী ও খাটিয়ামারি এলাকায় ঘুরে নিম্ন আয়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাট-বাজারে গরুর মাংস ৭০০-৭৫০ টাকা, খাসির মাংস ১,০০০-১,১০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০-২০০ টাকা, সোনালী মুরগি ২৮০-৩০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৩০-৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই মাছ ৩২০-৩৫০ টাকা (আকারভেদে ৪০০-৫০০ টাকা), কাতলা ২৮০-৩৫০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০-২৬০ টাকা, পুটি কার্প ২০০-২২০ টাকা এবং পাঙ্গাস ১৬০-১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

নদীকূলীয় ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, বছরের তিন থেকে ছয় মাস পানিবন্দি অবস্থায় কাটাতে হয় তাদের। তাই শুষ্ক মৌসুমে ভবিষ্যতের কথা ভেবে সংসার খরচ চালাতে হয় হিসেব কষে। রোজাকে সামনে রেখে সামর্থ্য অনুযায়ী অনেকে ডিম কিনে মজুতও করছেন।

উপজেলার সৈয়দ আহম্মদ কলেজ স্টেশন এলাকার শাফি ডিম ঘরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল খালেক প্রামাণিক বলেন, “রোজাকে সামনে রেখে ডিমের চাহিদা অনেক বেড়েছে। আগে দৈনিক প্রায় ৫০ হাজার ডিম বিক্রি হতো, এখন তা বেড়ে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখে দাঁড়িয়েছে। প্রতি খাঁচি ডিম ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।”

দ্রব্যমূল্যের চাপে যখন নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের, তখন রোজায় স্বস্তির প্রোটিন হিসেবে ডিমই হয়ে উঠেছে সোনাতলার নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসা।