সোনাতলা উপজেলার গ্রামীণ মেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই এ অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত বুধবার ভোর থেকে উপজেলার হরিখালি, পাকুল্লা, কাচারি বাজার, ঠাকুরপাড়া ও বুড়িতলায় একদিনের সরকারি ইজারায় গ্রামীণ মেলা বসে। এর মধ্যে কাচারি বাজারের মেলাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মেলার ইজারাদার ও তেকানি চুকাইনগর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ঝোটন মিয়ার নেতৃত্বে সেখানে প্রকাশ্যে একাধিক জুয়ার আসর পরিচালিত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাচারি বাজার মেলার ভেতরে অন্তত তিন থেকে চারটি স্থানে জুয়ার বোর্ড বসানো হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী এসব আসর নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। অভিযোগ আরও গুরুতর—মেলায় পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এতে প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সাংবাদিকরা জুয়ার আসরের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে মেলার ইজারাদার ঝোটন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমার অনুমতি ছাড়া কেন ছবি তুলেছেন? আমি মেলার সভাপতি। এখানে জুয়া চলবে, আপনারা যা করার করেন।”
তার এমন বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সচেতন ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ঝোটন মিয়া নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। এ কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবীর হোসেন জানান, দুটি মেলায় জুয়ার চেষ্টা হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যায়। তবে কাচারি বাজার মেলার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে বগুড়া জেলা পুলিশর পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং সোনাতলা থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সচেতন মহলের অভিমত, প্রশাসনের সামনে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
রিমন আহম্মেদ বিকাশ 


















