স্টাফ রিপোর্টার: দশকের পর দশক ধরে প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে মিলেনি সেতু। উত্তরাঞ্চলের জনপদ সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার মাঝখানে বয়ে যাওয়া বাঙালি নদী আজও দুই প্রান্তের মানুষের মাঝে দূরত্বের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ছলুরঘাট ও হলিদাবগা—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে প্রায় ৬ লাখ মানুষ এখনো অপেক্ষায় আছেন একটি টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থার।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকার পরিবর্তন হয়েছে, জনপ্রতিনিধিরাও আশ্বাস দিয়েছেন; কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়েও বাঙালি নদীর ওপর এই দুই স্থানে সেতু নির্মিত হয়নি। ফলে প্রতিদিন নৌপথে ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
কৃষিনির্ভর জনপদের ভোগান্তি-
যমুনা ও বাঙালি নদীবেষ্টিত এ অঞ্চলের প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে গিয়ে খেয়াঘাটের অনিশ্চয়তা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সময়মতো পারাপার সম্ভব না হওয়ায় অনেক কৃষক বাধ্য হন কম দামে পণ্য বিক্রি করতে।
শুধু কৃষকই নন, শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তির শিকার। খেয়াঘাটে সময়মতো নৌকা না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেন না।
ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, প্রাণহানির ইতিহাস-
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ বছর ধরে ডিঙি নৌকায় পারাপারের সময় দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ প্রায় দুই ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া গভীর রাতে মুমূর্ষু রোগী কিংবা প্রসূতি মায়েদের জেলা সদর হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় বহু তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। এই করুণ বাস্তবতা এলাকাবাসীর মনে স্থায়ী ক্ষত তৈরি করেছে।
পোড়াপাইকর গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, “ব্রিজ হলে আমাদের জীবনযাত্রার মান বদলে যাবে। বহু বছর ধরে শুধু আশ্বাসই পেয়েছি।”
প্রাথমিক উদ্যোগের ইঙ্গিত-
উপজেলা প্রকৌশলী আতিকুর রহমান তালুকদার জানান, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম দুই খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণের প্রাথমিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “ছলুরঘাট ও হলিদাবগায় সেতু নির্মিত হলে সোনাতলা ও সারিয়াকান্দির দূরত্ব অনেক কমে আসবে। মানুষ স্বল্প সময়ে ও কম খরচে যাতায়াত করতে পারবেন। কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় আসবে নতুন গতি।”
স্বপ্ন থেকে বাস্তবের অপেক্ষা-
ছলুরঘাট ও হলিদাবগায় সেতু নির্মাণ এখন কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি ছয় লাখ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রত্যাশা। যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে এলাকাবাসীর চোখ এখন সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে—স্বপ্নের সেই দুই সেতু কি অবশেষে বাস্তব রূপ পাবে?
Reporter Name 


















