০৪:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হাজারো মানুষ

নন্দীগ্রামে দুই যুগেও চালু হয়নি ২০ শয্যার হাসপাতাল, কোটি টাকার সরঞ্জাম নষ্ট

  • Reporter Name
  • ০৩:০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৪৯

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি: প্রায় দুই যুগ আগে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের উদ্বোধন হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি নন্দীগ্রামের পৌর এলাকার ২০ শয্যার আধুনিক হাসপাতালটি। অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা, কেনা হয়েছে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম—কিন্তু সেগুলো আজ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন পৌর শহরসহ আশপাশের হাজারো মানুষ।

২০০২ সালের ৮ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র জ্যেষ্ঠপুত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নন্দীগ্রামবাসীর চিকিৎসাসেবার কথা বিবেচনা করে হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর বগুড়া-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ডা. জিয়াউল হক মোল্লা হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের পর থেকেই হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম আর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিএমএমইউ প্রকল্পের মাধ্যমে হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় হয় প্রায় ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। চারটি ভবনবিশিষ্ট এ স্থাপনায় রয়েছে বহির্বিভাগ, ভর্তি রোগীদের জন্য শয্যা, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। কিন্তু দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে, কোথাও ধসে পড়েছে প্লাস্টার। জানালা-দরজা ভাঙা, গ্রিলে মরিচা, চারপাশে ময়লা-আবর্জনা—সব মিলিয়ে জরাজীর্ণ চিত্র।

অনুমোদিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী চিকিৎসক, সেবিকা, চিকিৎসা সহকারী ও ওষুধবিদসহ মোট ১৩টি পদ থাকার কথা। অথচ বর্তমানে মাত্র একজন চিকিৎসক ও একজন সেবিকা দিয়ে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। নেই পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ। ফলে কার্যত হাসপাতালটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণেই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। বিএনপি সরকারের সময় প্রকল্পটি গ্রহণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম বরাদ্দ না পাওয়ায় কার্যক্রম থমকে যায়। উদ্বোধনের সময়ও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বিজরুল বাজার এলাকায় অবস্থিত। উপজেলা সদরে কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় পৌর শহর ও আশপাশের মানুষের চিকিৎসা পেতে ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। এ বাস্তবতায় ২০০১-০২ অর্থবছরে পৌর এলাকায় একটি আধুনিক ২০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদ লিটন বলেন, জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং স্থানীয় জনগণের দাবির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেন জানান, অতীতেও তিনি জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন এবং বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন। হাসপাতালটি দ্রুত চালুর আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, নন্দীগ্রাম ও আশপাশের মানুষের চিকিৎসাসেবার স্বার্থে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

দুই দশক পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—কবে প্রাণ ফিরে পাবে কোটি টাকার এই হাসপাতাল? এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হাজারো মানুষ

নন্দীগ্রামে দুই যুগেও চালু হয়নি ২০ শয্যার হাসপাতাল, কোটি টাকার সরঞ্জাম নষ্ট

০৩:০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি: প্রায় দুই যুগ আগে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের উদ্বোধন হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি নন্দীগ্রামের পৌর এলাকার ২০ শয্যার আধুনিক হাসপাতালটি। অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা, কেনা হয়েছে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম—কিন্তু সেগুলো আজ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন পৌর শহরসহ আশপাশের হাজারো মানুষ।

২০০২ সালের ৮ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র জ্যেষ্ঠপুত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নন্দীগ্রামবাসীর চিকিৎসাসেবার কথা বিবেচনা করে হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর বগুড়া-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ডা. জিয়াউল হক মোল্লা হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের পর থেকেই হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম আর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিএমএমইউ প্রকল্পের মাধ্যমে হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় হয় প্রায় ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। চারটি ভবনবিশিষ্ট এ স্থাপনায় রয়েছে বহির্বিভাগ, ভর্তি রোগীদের জন্য শয্যা, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। কিন্তু দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে, কোথাও ধসে পড়েছে প্লাস্টার। জানালা-দরজা ভাঙা, গ্রিলে মরিচা, চারপাশে ময়লা-আবর্জনা—সব মিলিয়ে জরাজীর্ণ চিত্র।

অনুমোদিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী চিকিৎসক, সেবিকা, চিকিৎসা সহকারী ও ওষুধবিদসহ মোট ১৩টি পদ থাকার কথা। অথচ বর্তমানে মাত্র একজন চিকিৎসক ও একজন সেবিকা দিয়ে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। নেই পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ। ফলে কার্যত হাসপাতালটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণেই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। বিএনপি সরকারের সময় প্রকল্পটি গ্রহণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম বরাদ্দ না পাওয়ায় কার্যক্রম থমকে যায়। উদ্বোধনের সময়ও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বিজরুল বাজার এলাকায় অবস্থিত। উপজেলা সদরে কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় পৌর শহর ও আশপাশের মানুষের চিকিৎসা পেতে ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। এ বাস্তবতায় ২০০১-০২ অর্থবছরে পৌর এলাকায় একটি আধুনিক ২০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদ লিটন বলেন, জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং স্থানীয় জনগণের দাবির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেন জানান, অতীতেও তিনি জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন এবং বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন। হাসপাতালটি দ্রুত চালুর আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, নন্দীগ্রাম ও আশপাশের মানুষের চিকিৎসাসেবার স্বার্থে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

দুই দশক পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা চালু না হওয়ায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—কবে প্রাণ ফিরে পাবে কোটি টাকার এই হাসপাতাল? এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক।