সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: আবাদি জমি কমে যাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে সোনাতলা উপজেলা এলাকায়। বসতবাড়ি নির্মাণ ও পুকুর খননের কারণে প্রতিবছর কমছে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ। ফলে খাদ্য ঘাটতি এড়াতে কৃষকেরা এখন শুষ্ক মৌসুমে নদীর তলদেশ, খাল-বিল ও জলাশয়ে ইরি-বোরো ধান চাষে ঝুঁকছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, একসময় এই উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার ২২০ হেক্টর আবাদি জমি ছিল। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৪০ হেক্টরে। ক্রমাগত জমি হ্রাস পাওয়ায় ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ফসলি জমিতে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন ও বাড়িঘর নির্মাণ এখন নিয়মিত দৃশ্য। পাশাপাশি উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদী ও বাঙালি নদী–র অব্যাহত ভাঙনে প্রতিবছর শত শত একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এ দুই কারণেই দ্রুত কমছে আবাদি জমির পরিমাণ।
সরেজমিনে কাবিলপুর, গড়চৈতন্যপুর, আড়িয়ারঘাট, মধুপুর, রংরারপাড়া, সাতবেকী, হলিদাবগা, নিশ্চিন্তপুর, শ্যামপুর, পূর্ব সুজাইতপুর ও মির্জাপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নদীর শুকনো তলদেশজুড়ে বিস্তীর্ণ জমিতে সবুজে ঢেকে আছে বোরো ধানের ক্ষেত। কৃষকেরা জানান, অনাবাদি পড়ে থাকা এসব জমি কাজে লাগিয়ে তারা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, “যেভাবে আবাদি জমিতে বসতবাড়ি ও পুকুর খনন বাড়ছে, তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকেরা নদী-নালা, খাল-বিল ও পুকুরের তলদেশে বোরো ধান চাষ শুরু করেছেন। এতে সাময়িকভাবে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।”
কৃষি বিভাগ বলছে, আবাদি জমি রক্ষায় এখনই কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও নদীর বুকে সবুজের চাষ করে আশার আলো দেখছেন সোনাতলার কৃষকেরা।
Reporter Name 


















