০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উন্নয়ন থমকে, ঝুঁকিতে জীবন: অবহেলায় মৃত্যুফাঁদে পরিণত সোনাতলা রেল স্টেশন

  • Reporter Name
  • ০২:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬৮

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: সোনাতলা রেল স্টেশন–এর উন্নয়ন কাজ দীর্ঘ তিন থেকে চার বছর ধরে বন্ধ থাকায় চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন যাত্রীরা। সংস্কার কার্যক্রম অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। রেললাইন পারাপারের সময় আন্তঃনগর ট্রেনের নিচে পড়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০ সালের শুরুতে তৎকালীন সরকার প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় স্টেশনটির উন্নয়নের জন্য। পরিকল্পনার মধ্যে ছিল প্ল্যাটফর্ম প্রশস্ত ও দীর্ঘকরণ, পূর্ব ও পশ্চিম পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, স্টেশন ভবনের আধুনিকায়ন, যাত্রী বিশ্রামাগারের সংস্কার, ফ্যান ও লাইটিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি। কাজ শুরু হলেও ২০২২ সালের শেষের দিকে অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয় এবং পরে আর ফিরে আসেনি।

সংস্কার কাজ বন্ধ থাকায় প্ল্যাটফর্ম ও রেললাইনের উচ্চতার অসামঞ্জস্য এখন বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রেন এলে দ্রুত পারাপার করতে না পেরে যাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি বোনারপাড়া এলাকার এক ভিক্ষুক রেললাইন পার হতে গিয়ে আন্তঃনগর ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারান।

এছাড়া সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না হওয়ায় সন্ধ্যার পর স্টেশন এলাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো স্টেশন চত্বরটি মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এলাকার প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তারা উৎপাদিত কৃষিপণ্য ট্রেনযোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাতে গিয়ে রাতভর মালামাল পাহারা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান জানান, সংস্কার কাজটি রেল বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরের আওতাধীন। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে উন্নয়ন কাজ বন্ধ রয়েছে। তার ভাষ্য, সরকার পরিবর্তনের পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে আর স্টেশনে দেখা যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার কাজ পুনরায় শুরু করে স্টেশনটিকে নিরাপদ ও আধুনিক করা হোক। অন্যথায় অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার খেসারত দিতে হবে সাধারণ যাত্রীদের প্রাণ দিয়ে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

উন্নয়ন থমকে, ঝুঁকিতে জীবন: অবহেলায় মৃত্যুফাঁদে পরিণত সোনাতলা রেল স্টেশন

০২:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: সোনাতলা রেল স্টেশন–এর উন্নয়ন কাজ দীর্ঘ তিন থেকে চার বছর ধরে বন্ধ থাকায় চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন যাত্রীরা। সংস্কার কার্যক্রম অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। রেললাইন পারাপারের সময় আন্তঃনগর ট্রেনের নিচে পড়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০ সালের শুরুতে তৎকালীন সরকার প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় স্টেশনটির উন্নয়নের জন্য। পরিকল্পনার মধ্যে ছিল প্ল্যাটফর্ম প্রশস্ত ও দীর্ঘকরণ, পূর্ব ও পশ্চিম পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, স্টেশন ভবনের আধুনিকায়ন, যাত্রী বিশ্রামাগারের সংস্কার, ফ্যান ও লাইটিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি। কাজ শুরু হলেও ২০২২ সালের শেষের দিকে অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয় এবং পরে আর ফিরে আসেনি।

সংস্কার কাজ বন্ধ থাকায় প্ল্যাটফর্ম ও রেললাইনের উচ্চতার অসামঞ্জস্য এখন বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রেন এলে দ্রুত পারাপার করতে না পেরে যাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি বোনারপাড়া এলাকার এক ভিক্ষুক রেললাইন পার হতে গিয়ে আন্তঃনগর ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারান।

এছাড়া সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না হওয়ায় সন্ধ্যার পর স্টেশন এলাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো স্টেশন চত্বরটি মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এলাকার প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তারা উৎপাদিত কৃষিপণ্য ট্রেনযোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাতে গিয়ে রাতভর মালামাল পাহারা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান জানান, সংস্কার কাজটি রেল বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরের আওতাধীন। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে উন্নয়ন কাজ বন্ধ রয়েছে। তার ভাষ্য, সরকার পরিবর্তনের পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে আর স্টেশনে দেখা যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার কাজ পুনরায় শুরু করে স্টেশনটিকে নিরাপদ ও আধুনিক করা হোক। অন্যথায় অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার খেসারত দিতে হবে সাধারণ যাত্রীদের প্রাণ দিয়ে।