০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর নাব্য সংকট, দুর্গম চরে কৃষিপণ্য পরিবহনে ঘোড়ারগাড়িই ভরসা

  • Reporter Name
  • ০৪:১৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০৮

সোনাতলা সংবাদ ডেস্ক: বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীতে তীব্র নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। গত ডিসেম্বর মাস থেকে নদীর পানি কমতে কমতে বর্তমানে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এতে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের সম্পূর্ণ ও আটটি ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় বিস্তীর্ণ বালুচরের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গম এসব চরাঞ্চলে কৃষিপণ্য পরিবহনের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে ঘোড়ারগাড়ি। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুরের পর থেকেই চরাঞ্চলের বালুচরে সারি সারি মালবাহী ঘোড়ারগাড়ি চলাচল করছে। নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় নৌপথে ফসল পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে ঘোড়ারগাড়ির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

চরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, বর্তমানে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার পথ ঘোড়ারগাড়িতে এক বস্তা মরিচ পরিবহন করতে ১২০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এরপর নদীপাড় থেকে সেই ফসল আবার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে বাজারে নিতে হচ্ছে, যেখানে আলাদা ভাড়া দিতে হয়। একইভাবে জমিতে সার ও কীটনাশক পরিবহনেও বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।

এ বছর রবি মৌসুমে চরাঞ্চলে ভুট্টা, মরিচ, মিষ্টিকুমড়া ও পেঁয়াজসহ প্রায় হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপাদন হয়েছে। তবে পরিবহন সংকটের কারণে লাভের বড় অংশই অতিরিক্ত ভাড়ায় চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।

সদর ইউনিয়নের চর বাটিয়ার কৃষক জুয়েল মিয়া বলেন, “এ বছর চার বিঘা জমিতে মরিচ এবং প্রায় ১০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফসল আবাদ করেছি। কিন্তু নদীতে পানি না থাকায় নৌকায় ফসল নিতে পারছি না। বাধ্য হয়ে ঘোড়ারগাড়িতে বেশি ভাড়া দিয়ে ফসল পরিবহন করছি। বাজারে মরিচের দাম ভালো থাকায় কিছুটা লাভ হচ্ছে, না হলে লোকসানেই পড়তে হতো।”

কৃষকদের দাবি, বালুচরের ওপর বিশেষ ধরনের সড়ক নির্মাণ করা হলে সেখানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করতে পারবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমবে এবং উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পাশাপাশি বাজারে সবজির দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকবে।

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় চরাঞ্চলের যোগাযোগ সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম চরাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নদীর নাব্য সংকট দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিলে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে—এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের। তাই দ্রুত টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন চরবাসী।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর নাব্য সংকট, দুর্গম চরে কৃষিপণ্য পরিবহনে ঘোড়ারগাড়িই ভরসা

০৪:১৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সোনাতলা সংবাদ ডেস্ক: বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীতে তীব্র নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। গত ডিসেম্বর মাস থেকে নদীর পানি কমতে কমতে বর্তমানে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এতে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের সম্পূর্ণ ও আটটি ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় বিস্তীর্ণ বালুচরের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গম এসব চরাঞ্চলে কৃষিপণ্য পরিবহনের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে ঘোড়ারগাড়ি। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুরের পর থেকেই চরাঞ্চলের বালুচরে সারি সারি মালবাহী ঘোড়ারগাড়ি চলাচল করছে। নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় নৌপথে ফসল পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে ঘোড়ারগাড়ির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

চরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, বর্তমানে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার পথ ঘোড়ারগাড়িতে এক বস্তা মরিচ পরিবহন করতে ১২০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এরপর নদীপাড় থেকে সেই ফসল আবার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে বাজারে নিতে হচ্ছে, যেখানে আলাদা ভাড়া দিতে হয়। একইভাবে জমিতে সার ও কীটনাশক পরিবহনেও বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।

এ বছর রবি মৌসুমে চরাঞ্চলে ভুট্টা, মরিচ, মিষ্টিকুমড়া ও পেঁয়াজসহ প্রায় হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপাদন হয়েছে। তবে পরিবহন সংকটের কারণে লাভের বড় অংশই অতিরিক্ত ভাড়ায় চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।

সদর ইউনিয়নের চর বাটিয়ার কৃষক জুয়েল মিয়া বলেন, “এ বছর চার বিঘা জমিতে মরিচ এবং প্রায় ১০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফসল আবাদ করেছি। কিন্তু নদীতে পানি না থাকায় নৌকায় ফসল নিতে পারছি না। বাধ্য হয়ে ঘোড়ারগাড়িতে বেশি ভাড়া দিয়ে ফসল পরিবহন করছি। বাজারে মরিচের দাম ভালো থাকায় কিছুটা লাভ হচ্ছে, না হলে লোকসানেই পড়তে হতো।”

কৃষকদের দাবি, বালুচরের ওপর বিশেষ ধরনের সড়ক নির্মাণ করা হলে সেখানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করতে পারবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমবে এবং উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পাশাপাশি বাজারে সবজির দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকবে।

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় চরাঞ্চলের যোগাযোগ সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম চরাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নদীর নাব্য সংকট দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিলে চরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে—এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের। তাই দ্রুত টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন চরবাসী।