সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: খড়, ভূষি ও খৈলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা এলাকায় কৃষকরা বিকল্প গো-খাদ্য হিসেবে কচুরিপানা ব্যবহার শুরু করেছেন। এতে একদিকে যেমন খরচ কমছে, অন্যদিকে গবাদিপশু পালন টিকিয়ে রাখতে পারছেন তারা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বাজারে নিত্যপণ্যের পাশাপাশি গো-খাদ্যের দামও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। ফলে অনেক কৃষক গরু পালনে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এই সংকট মোকাবিলায় কৃষকদের খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয় থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে।
মাঘ-ফাল্গুন মাসে যখন কৃষকরা বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত, ঠিক তখনই গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিকল্প হিসেবে নদী-নালা ও খাল-বিল থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করে গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে। কৃষকদের মতে, কচুরিপানা প্রোটিন ও খনিজ উপাদানসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি সস্তা ও কার্যকর বিকল্প খাদ্য হিসেবে কাজ করছে।
সোনাতলা সদর ইউনিয়নের সুজাইতপুর গ্রামের বাসিন্দা ছাইফুল ইসলাম জানান, তার চারটি গরু রয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে কচুরিপানা খাওয়াচ্ছেন। একই গ্রামের মানিক মিয়া বলেন, তার সাতটি গরুর জন্য প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হয়। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে পরিবার চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই বিকল্প হিসেবে কচুরিপানার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
গ্রামের আরেক বাসিন্দা আব্দুল মোত্তালেব জানান, প্রতিদিন ভ্যানগাড়ি নিয়ে পাশের খাল থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করে চারটি গরুকে খাওয়াচ্ছেন। কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে গো-খাদ্যের দাম বাড়তে থাকলে অনেকে গরু পালন ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, পরিষ্কার পানির কচুরিপানা অন্য শুকনো খড় বা দানাদার খাদ্যের সঙ্গে পরিমাণমতো মিশিয়ে খাওয়ালে গবাদিপশুর ক্ষতি হয় না। তবে অতিরিক্ত খাওয়ালে হজমের সমস্যা বা মুখে চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গো-খাদ্যের লাগামহীন দামের চাপে সোনাতলার কৃষকদের এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে জলাশয়ের কচুরিপানা।
Reporter Name 


















