০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারিয়াকান্দিতে জমি নিয়ে সংঘর্ষে কোচিং পরিচালক নিহত, শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

  • Reporter Name
  • ০৪:২২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ১০১

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে চয়ন কুমার রায় (৪০) নামে এক কোচিং সেন্টারের পরিচালক ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের বাজার এলাকার তুলারাম রাজভরের ছেলে এবং স্থানীয় “দ্যা নিউ কনটেস্ট কোচিং সেন্টার”-এর পরিচালক ছিলেন।

ঘটনায় একই গ্রামের হামিদুর রহমানের ছেলে আমিনুর ফকির (৫৫) আহত হয়েছেন। পুলিশ এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে হত্যা মামলার ভিত্তিতে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ি ইউনিয়নের বাজার এলাকার পাশে একটি জমি নিয়ে নিহত চয়ন কুমার রায়ের সঙ্গে একই গ্রামের শাহীন ফকিরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে আদালতেও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

গত শুক্রবার রাত প্রায় ৯টার দিকে শাহীন ফকিরের লোকজন নালিশি জমিতে অবস্থান নিলে খবর পেয়ে চয়নের পক্ষের লোকজন সেখানে গিয়ে বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে চয়ন কুমার রায় ও তার বড় ভাই নয়ন রায় (৩৪) গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চয়ন কুমার রায়কে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত নয়ন রায়কে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই প্রদীপ রায় বাদী হয়ে সারিয়াকান্দি থানায় আটজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন— একই গ্রামের মৃত নাজিমুদ্দিন ফকিরের ছেলে শাহীন ফকির (৪০), আমিনুর ফকির (৪৫) ও ফাইন ফকির (৪২), শাহীন ফকিরের ছেলে রাহাত মিয়া (২০) ও রাকিব ফকির (২৬), আমিনুর ফকিরের ছেলে রাব্বি ফকির (২১) ও নূরনবী জনি (২৮) এবং মৃত জিন্নাহ ফকিরের ছেলে তাহের ফকির (৪৫)।

পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে শাহীন ফকির, আমিনুর ফকির, রাব্বি ফকির, রাকিব ফকির এবং তাহের ফকিরকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকালে নিহত চয়ন ও আহত নয়নের পরিচালিত দ্যা নিউ কনটেস্ট কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ফুলবাড়ি বাজার থেকে শুরু হয়ে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপজেলা প্রশাসনের প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করেন। এতে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে আট আসামির মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারদের শনিবার বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্মারকলিপির ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে। নিহতের পরিবার যাতে দ্রুত বিচার পায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সারিয়াকান্দিতে জমি নিয়ে সংঘর্ষে কোচিং পরিচালক নিহত, শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

০৪:২২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে চয়ন কুমার রায় (৪০) নামে এক কোচিং সেন্টারের পরিচালক ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের বাজার এলাকার তুলারাম রাজভরের ছেলে এবং স্থানীয় “দ্যা নিউ কনটেস্ট কোচিং সেন্টার”-এর পরিচালক ছিলেন।

ঘটনায় একই গ্রামের হামিদুর রহমানের ছেলে আমিনুর ফকির (৫৫) আহত হয়েছেন। পুলিশ এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে হত্যা মামলার ভিত্তিতে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ি ইউনিয়নের বাজার এলাকার পাশে একটি জমি নিয়ে নিহত চয়ন কুমার রায়ের সঙ্গে একই গ্রামের শাহীন ফকিরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে আদালতেও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

গত শুক্রবার রাত প্রায় ৯টার দিকে শাহীন ফকিরের লোকজন নালিশি জমিতে অবস্থান নিলে খবর পেয়ে চয়নের পক্ষের লোকজন সেখানে গিয়ে বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে চয়ন কুমার রায় ও তার বড় ভাই নয়ন রায় (৩৪) গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চয়ন কুমার রায়কে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত নয়ন রায়কে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই প্রদীপ রায় বাদী হয়ে সারিয়াকান্দি থানায় আটজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন— একই গ্রামের মৃত নাজিমুদ্দিন ফকিরের ছেলে শাহীন ফকির (৪০), আমিনুর ফকির (৪৫) ও ফাইন ফকির (৪২), শাহীন ফকিরের ছেলে রাহাত মিয়া (২০) ও রাকিব ফকির (২৬), আমিনুর ফকিরের ছেলে রাব্বি ফকির (২১) ও নূরনবী জনি (২৮) এবং মৃত জিন্নাহ ফকিরের ছেলে তাহের ফকির (৪৫)।

পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে শাহীন ফকির, আমিনুর ফকির, রাব্বি ফকির, রাকিব ফকির এবং তাহের ফকিরকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকালে নিহত চয়ন ও আহত নয়নের পরিচালিত দ্যা নিউ কনটেস্ট কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ফুলবাড়ি বাজার থেকে শুরু হয়ে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপজেলা প্রশাসনের প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করেন। এতে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে আট আসামির মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারদের শনিবার বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্মারকলিপির ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে। নিহতের পরিবার যাতে দ্রুত বিচার পায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”