বায়েজীদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় স্কুল-কলেজ ও কোচিং সেন্টারে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে মেয়েদের প্রতি বখাটে তরুণদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকা, কোচিং সেন্টার ও ব্যস্ত সড়কগুলোতে কিছু বখাটে যুবকের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে চলাফেরা করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, স্কুল-কলেজে যাওয়া বা প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় কিছু বখাটে ছেলে তাদের উদ্দেশ্যে অশালীন মন্তব্য করে, উত্যক্ত করে এবং বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে। এতে তারা মানসিক চাপ ও নিরাপত্তা শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। এতে শুধু ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, জড়িয়ে পড়া তরুণরাও বিপথে চলে যেতে পারে। পাশাপাশি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে পরিবার ও সমাজের ওপর।
পলাশবাড়ীর পিয়ারী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ মো. মাহবুবুল আলম বলেন, “শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে।”
পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শাহ আলম সরকার বলেন, “তরুণ সমাজকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা জরুরি।” তিনি জানান, আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভাগুলোতে বিষয়টি একাধিকবার উত্থাপন করা হলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ইভটিজিং প্রতিরোধে স্কুল-কলেজ, কোচিং সেন্টার, শপিং এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত টহল দেওয়া হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই তৎপরতা কমে যাওয়ায় বখাটেদের উৎপাত বেড়েছে বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ সরোয়ার আলম খান বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা সচেষ্ট। কোনো অভিযোগ পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।”
সচেতন মহলের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সহনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
Reporter Name 


















