বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন প্রার্থনা রানী মহন্ত নামের এক গৃহবধূ। তবে সবকিছু সত্ত্বেও তিনি আবারও স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে চান বলে জানিয়েছেন।
প্রার্থনা রানী উপজেলার পশ্চিম করমজা হিন্দুপাড়ার বাসিন্দা এবং সুশান্ত মহন্তের স্ত্রী। তিনি জানান, হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী দুই পরিবারের সম্মতিতে হাট করমজা গ্রামের মৃত সুশীল মহন্তের ছেলে সুশান্ত মহন্তের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের পলি ও পিংকি নামে দুই কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অভাব-অনটনের মধ্যেও তাদের সংসার চলছিল। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দুই মেয়ের বিয়েও সম্পন্ন করা হয়। সে সময় তাদের নিজস্ব কোনো ঘর ছিল না। পরে বাবার বাড়ির আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার-দেনা করে করমজা হিন্দুপাড়ায় একটি ইট-সিমেন্টের ঘর নির্মাণ করেন।
প্রার্থনা রানীর অভিযোগ, ঘর নির্মাণের পর থেকেই সংসারে অশান্তি শুরু হয়। তার স্বামী বিভিন্ন সময় বাইরে থেকে টাকা ধার করে আনার জন্য চাপ দিতেন। টাকা এনে দিতে না পারলে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হতো। একপর্যায়ে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার অনুপস্থিতিতে স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে স্বামীর বাড়িতে ফিরে গেলে সেখানে তাকে থাকতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন প্রার্থনা রানী।
এ ঘটনায় তিনি বগুড়ার পারিবারিক জজ আদালতে স্বামী সুশান্ত মহন্তের বিরুদ্ধে ভরণপোষণ ও খোরপোষের দাবিতে মামলা দায়ের করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, একসময় দম্পতির মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। পরে পারিবারিক বিরোধ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা অতুল চন্দ্র দাস বলেন, বিষয়টি জানার পর আমরা ঘটনাটি খোঁজ নিয়েছি। প্রার্থনা রানী আইনের আশ্রয় নিয়েছেন, যা তার অধিকার।
এদিকে সুশান্ত মহন্তের মেয়ে পলি ও পিংকি জানান, তারা চান পারিবারিক সমস্যা সমাধান হোক এবং পরিবারের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসুক।
স্থানীয়রা মনে করছেন, পারিবারিক এই বিরোধের একটি ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
Reporter Name 


















