০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, কৃষকের মাথায় হাত

  • Reporter Name
  • ০৩:২৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • ১২৭

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে করে উপজেলার কৃষক ও ইট ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে হঠাৎ করে ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এতে উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সরেজমিনে উপজেলার তেকানী চুকাইনগর, গোসাইবাড়ি, শ্যামপুর, হুয়াকুয়া, নিশ্চিন্তপুর, পদ্মপাড়া, উত্তর করমজা, পূর্ব সুজাইতপুর, মধুপুর, আড়িয়ারঘাট, ধর্মকূল, বামুনিয়া, কর্পূর, সরলিয়া, জন্তিয়ারপাড়া, খাবুলিয়া ও মির্জাপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ঝড়ে মরিচ, ভুট্টা, কলা ও আমের মুকুল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গোসাইবাড়ি গ্রামের কৃষক বদিউদ জামান বজলু মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতের ঝড়ে তার প্রায় ৫ বিঘা জমির ভুট্টা গাছ মাটির সঙ্গে নুয়ে পড়েছে। এতে ভুট্টার গাছের মোচা নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

খাবুলিয়া গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, যমুনা নদীর চরে প্রায় ৬ বিঘা জমিতে লাগানো মরিচ গাছ ঝড়ে উপড়ে পড়েছে। এতে তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে ঝড়-বৃষ্টির কারণে ইট ভাটার ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সোনাতলা ইট মালিক সমিতির অন্যতম সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঝড়ে উপজেলার কয়েকটি ইট ভাটায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে ভুট্টা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আমের গাছের মুকুল ঝরে পড়েছে এবং চরাঞ্চলে মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বৃষ্টিতে ইট ভাটার কাঁচা ইটও গলে গেছে। এতে উপজেলায় শত কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, কৃষকের মাথায় হাত

০৩:২৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে করে উপজেলার কৃষক ও ইট ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে হঠাৎ করে ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এতে উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সরেজমিনে উপজেলার তেকানী চুকাইনগর, গোসাইবাড়ি, শ্যামপুর, হুয়াকুয়া, নিশ্চিন্তপুর, পদ্মপাড়া, উত্তর করমজা, পূর্ব সুজাইতপুর, মধুপুর, আড়িয়ারঘাট, ধর্মকূল, বামুনিয়া, কর্পূর, সরলিয়া, জন্তিয়ারপাড়া, খাবুলিয়া ও মির্জাপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ঝড়ে মরিচ, ভুট্টা, কলা ও আমের মুকুল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গোসাইবাড়ি গ্রামের কৃষক বদিউদ জামান বজলু মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতের ঝড়ে তার প্রায় ৫ বিঘা জমির ভুট্টা গাছ মাটির সঙ্গে নুয়ে পড়েছে। এতে ভুট্টার গাছের মোচা নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

খাবুলিয়া গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, যমুনা নদীর চরে প্রায় ৬ বিঘা জমিতে লাগানো মরিচ গাছ ঝড়ে উপড়ে পড়েছে। এতে তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে ঝড়-বৃষ্টির কারণে ইট ভাটার ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সোনাতলা ইট মালিক সমিতির অন্যতম সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঝড়ে উপজেলার কয়েকটি ইট ভাটায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে ভুট্টা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আমের গাছের মুকুল ঝরে পড়েছে এবং চরাঞ্চলে মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বৃষ্টিতে ইট ভাটার কাঁচা ইটও গলে গেছে। এতে উপজেলায় শত কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।