আদমদীঘি সংবাদদাতাঃ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় মরিয়ম বেগম নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার জিনইর গ্রামে স্বামী ফেরদৌস প্রামাণিকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই স্বামী ফেরদৌস প্রামাণিক পলাতক রয়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত মরিয়ম বেগম নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার বিশিয়া গ্রামের মৃত জামাল সরদারের মেয়ে। প্রায় ৩০ বছর আগে আদমদীঘি উপজেলার জিনইর গ্রামের ইসমাইল প্রামাণিকের ছেলে ফেরদৌস প্রামাণিকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে ফেরদৌস প্রামাণিক প্রবাসে যান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় প্রায় আড়াই বছর আগে তিনি আদমদীঘি উপজেলার কোমারপুর গ্রামের রহিউদ্দীনের মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথম স্ত্রী মরিয়ম বেগমের সঙ্গে তার পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়। এ নিয়ে গ্রামে কয়েক দফা সালিশ বৈঠকও হয়েছে।
প্রায় দুই মাস আগে ফেরদৌস প্রামাণিক দেশে ফেরেন। এরপর থেকে সংসারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও মনোমালিন্য চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার সকালে ফেরদৌস প্রামাণিক প্রথম স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের মাটির ঘরের দ্বিতীয় তলায় ঘরের তীরের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়ম বেগমকে দেখতে পান প্রতিবেশীরা। ঘটনার পর থেকেই স্বামী ফেরদৌস প্রামাণিক গা ঢাকা দিয়েছেন।
নিহতের ভাই মহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
Reporter Name 


















