স্টাফ রিপোর্টারঃ চাঁদাবাজির অভিযোগে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার মাস্টারপাড়া থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ কাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের ১২ মাসের মধ্যে ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি সড়কের বেড প্রস্তুত ও ইউনিব্লক বসানোর মূল কাজ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে সোনাতলা পৌরসভা পুরনো ফ্ল্যাট সোলিং সড়কটি নতুনভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ‘লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি)’ এর আওতায় প্রায় ৮৩ লাখ ১৩ হাজার ৭৬৫ টাকা ব্যয়ে মাস্টারপাড়া আরসিসি সড়ক থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত রেললাইনের পশ্চিম পাশে ইউনিব্লক সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সালেক সোলার পাওয়ার লিমিটেড।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৩ মে থেকে ২০২৬ সালের ২ মে’র মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি খুবই সীমিত। কেবল সড়ক খনন করে পুরনো ইট অপসারণ, তিনটি ইউ-ড্রেন নির্মাণ এবং দুটি দিঘীর পাড়ে গাইড ওয়াল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। মূল সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।
এদিকে, সড়কের ইট তুলে নেওয়ায় চলাচল আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন, রোগী আনা-নেওয়া এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদায় পরিণত হয়, ফলে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সালেক উদ্দিন বলেন, “আমরা কাজের অনেক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ইউনিব্লকও তৈরি আছে। কিন্তু সড়কে বালু ফেলতে গেলে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এ কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ইতোমধ্যে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।”
তবে এ বিষয়ে সোনাতলা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহানাজ পারভীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত চাঁদাবাজি বন্ধ করে সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পন্নে প্রশাসনের কার্যকর ও জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তাদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত চালু না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়বে।
Reporter Name 


















