স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার সোনাতলায় ছাদের পানি গড়ানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় সোনাতলা পৌরসভার অদূরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার উজিরপাড়া বাইগুনি বুলির গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বদেশ সাহার মার্কেটের ছাদে কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে ছিল। এ সময় মার্কেটের সামনে নবাব আলী নামে এক ব্যক্তি কলা বিক্রি করছিলেন। হঠাৎ বেলাল নামে এক ব্যক্তি ছাদে উঠে পাইপের মুখ খুলে দিলে জমে থাকা পানি নিচে পড়ে। এতে নবাব আলীর গায়ে পানি লাগলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উজিরপাড়া ও বিশুরপাড়ার লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ রাত প্রায় ৯টা পর্যন্ত চলে। এ সময় উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলায় জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি দোকান ও দোকানের শাটার ভাঙচুর করা হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন বেলাল হোসেন, সজল মিয়া, সুলতান মিয়া, ইনছার আলী, সৌরভ মিয়া, ওসমান আলী, লেমন মিয়া, নবাব আলী সাকিদার, সুজন মিয়া এবং সাবেক পৌর কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গোবিন্দগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যদের সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সংঘর্ষে স্বদেশ চন্দ্র সাহার মালিকানাধীন মার্কেটসহ অন্তত ৯টি দোকানের শাটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে সোনাতলা থানা পুলিশ রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দলও সেখানে যোগ দেয়।
গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই হারুন অর রশিদ বলেন, “মূলত ছাদের পানি গড়ানোকে কেন্দ্র করেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সোনাতলা থানার এসআই শিমুল কুমার দাস জানান, “খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, সাবেক কাউন্সিলর হারুনুর রশিদ বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করার সময় ধাক্কা খেয়ে আহত হই।”
সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রুহুল আমিন জানান, “আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে সৌরভ, ওসমান ও সুজন গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
Reporter Name 


















