০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পলাশবাড়ীতে থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা: ওসিসহ ৮ সদস্য আহত, আটক ১

  • Reporter Name
  • ১১:৩৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ১১৫

বায়েজীদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)সহ ৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পলাশবাড়ী থানা ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

থানা সূত্রে জানা যায়, কালীবাড়ী হাটের একটি সরকারি বরাদ্দকৃত দোকান সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জামায়াতের যুব বিভাগের কয়েকজন নেতাকর্মী রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় যান। তারা সরাসরি ওসির কক্ষে প্রবেশ করে অভিযোগের দ্রুত সমাধান দাবি করেন।

এ সময় ওসি সরোয়ার আলম খান অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে অভিযোগের তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি না হওয়ায় উপস্থিত কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং ওসির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

এক পর্যায়ে তারা ওসিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এতে ওসি সরোয়ার আলম খান, এসআই শাহ নেওয়াজ, এসআই রাসেল, এএসআই আশরাফুল, এএসআই ওহিদুল, এএসআই রুহুল আমিন, নারী কনস্টেবল মোস্তারিনা এবং কনস্টেবল আব্দুল মজিদসহ মোট ৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া অপর পক্ষের দুই নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তহিদুল ইসলাম কানন (পিতা: মৃত মোহাম্মদ আলী, গ্রাম: গৃধারীপুর) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের স্থানীয় সভাপতি আতিফ তরফদার জানান, ঘটনার সময় তিনি পলাশবাড়ীর বাইরে ছিলেন এবং বিস্তারিত না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

ঘটনার পরপরই গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মো. নজরুল ইসলাম (লেবু) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর ছিদ্দিক, সেক্রেটারি সাকোয়াত হোসেনসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাকোয়াত হোসেন বলেন, “থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা পুলিশকে সহযোগিতা করবো। পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান বলেন, “অভিযোগ গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পরও তারা উত্তেজিত হয়ে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরে নিরস্ত্র পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়, এতে আমিসহ ৮ জন আহত হই।”

এ ঘটনায় থানার এসআই রেজাউল করিম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন (জিআর নং-২৪, তারিখ: ২৬/০৩/২০২৬)।

গাইবান্ধা জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এ বি এম রশিদুল বারী জানান, “পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

এদিকে এ ঘটনায় পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পলাশবাড়ীতে থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা: ওসিসহ ৮ সদস্য আহত, আটক ১

১১:৩৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

বায়েজীদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)সহ ৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পলাশবাড়ী থানা ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

থানা সূত্রে জানা যায়, কালীবাড়ী হাটের একটি সরকারি বরাদ্দকৃত দোকান সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জামায়াতের যুব বিভাগের কয়েকজন নেতাকর্মী রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় যান। তারা সরাসরি ওসির কক্ষে প্রবেশ করে অভিযোগের দ্রুত সমাধান দাবি করেন।

এ সময় ওসি সরোয়ার আলম খান অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে অভিযোগের তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি না হওয়ায় উপস্থিত কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং ওসির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

এক পর্যায়ে তারা ওসিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এতে ওসি সরোয়ার আলম খান, এসআই শাহ নেওয়াজ, এসআই রাসেল, এএসআই আশরাফুল, এএসআই ওহিদুল, এএসআই রুহুল আমিন, নারী কনস্টেবল মোস্তারিনা এবং কনস্টেবল আব্দুল মজিদসহ মোট ৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া অপর পক্ষের দুই নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তহিদুল ইসলাম কানন (পিতা: মৃত মোহাম্মদ আলী, গ্রাম: গৃধারীপুর) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের স্থানীয় সভাপতি আতিফ তরফদার জানান, ঘটনার সময় তিনি পলাশবাড়ীর বাইরে ছিলেন এবং বিস্তারিত না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

ঘটনার পরপরই গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মো. নজরুল ইসলাম (লেবু) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর ছিদ্দিক, সেক্রেটারি সাকোয়াত হোসেনসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাকোয়াত হোসেন বলেন, “থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা পুলিশকে সহযোগিতা করবো। পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান বলেন, “অভিযোগ গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পরও তারা উত্তেজিত হয়ে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরে নিরস্ত্র পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়, এতে আমিসহ ৮ জন আহত হই।”

এ ঘটনায় থানার এসআই রেজাউল করিম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন (জিআর নং-২৪, তারিখ: ২৬/০৩/২০২৬)।

গাইবান্ধা জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এ বি এম রশিদুল বারী জানান, “পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

এদিকে এ ঘটনায় পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।