০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দ্বিতীয় যমুনা সেতু: বগুড়ার সারিয়াকান্দি–জামালপুর রুটে হলে বদলে যাবে উত্তরাঞ্চলের ভাগ্য

  • Reporter Name
  • ০৪:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ৩৩৪

স্টাফ রিপোর্টার: যমুনা সেতুর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বগুড়া ও জামালপুরের মানুষ সেতুটি বগুড়া–জামালপুর নৌরুটে নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

সেতুটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে, পাশাপাশি সময় ও যাতায়াত খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সেতু বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দ্বিতীয় যমুনা সেতুসহ তিনটি মেগা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। সেতু বিভাগের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, ২০৩৩ সালের মধ্যে যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য তিনটি রুট—বগুড়া-জামালপুর করিডোর, গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ঘাট এবং বিকল্প অন্য রুট—নিয়ে সমীক্ষা চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, সারিয়াকান্দি উপজেলার কালিতলা ঘাট থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ রুটে সেতু নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। বর্তমানে এই নৌপথে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি ও ভোগান্তি নিয়ে পারাপার করছেন। অন্যদিকে বিকল্প সড়কপথে সিরাজগঞ্জ হয়ে ময়মনসিংহ যেতে প্রায় ১৮৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়, যেখানে সরাসরি দূরত্ব মাত্র ১৬ কিলোমিটার।

ঐতিহাসিকভাবে এ নৌপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ আমলে বাহাদুরাবাদ রেলঘাট চালু হওয়ার পর উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ময়মনসিংহ অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল এই রুট। পরবর্তীতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়।

২০২২ সালের মার্চে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সারিয়াকান্দির কালিতলা থেকে জামালপুরের জামথল ঘাট পর্যন্ত সম্ভাব্য সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ট্রাফিক জরিপ সম্পন্ন করে। এতে স্থানীয় যাত্রীদের সময়, ব্যয় ও টোল বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, “বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যেতে সবচেয়ে বড় বাধা যমুনা নদী। সেতু হলে যাতায়াত অনেক সহজ হবে।”

সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, “সেতুটি বাস্তবায়ন হলে দুই অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে, কৃষকরা লাভবান হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।”

জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, “দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলে উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের সংযোগ নতুন মাত্রা পাবে।”

বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামও সেতুটি দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “এটি বাস্তবায়িত হলে লাখো মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।”

এ বিষয়ে সেতু বিভাগ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্বিতীয় যমুনা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই ও জরিপ কাজ চলমান রয়েছে। জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে জনগুরুত্বপূর্ণ ও সুবিধাজনক রুট চূড়ান্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বগুড়া–জামালপুর রুটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মিত হলে এটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

দ্বিতীয় যমুনা সেতু: বগুড়ার সারিয়াকান্দি–জামালপুর রুটে হলে বদলে যাবে উত্তরাঞ্চলের ভাগ্য

০৪:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: যমুনা সেতুর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বগুড়া ও জামালপুরের মানুষ সেতুটি বগুড়া–জামালপুর নৌরুটে নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

সেতুটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে আসবে, পাশাপাশি সময় ও যাতায়াত খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সেতু বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দ্বিতীয় যমুনা সেতুসহ তিনটি মেগা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। সেতু বিভাগের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, ২০৩৩ সালের মধ্যে যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য তিনটি রুট—বগুড়া-জামালপুর করিডোর, গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ঘাট এবং বিকল্প অন্য রুট—নিয়ে সমীক্ষা চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, সারিয়াকান্দি উপজেলার কালিতলা ঘাট থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ রুটে সেতু নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। বর্তমানে এই নৌপথে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি ও ভোগান্তি নিয়ে পারাপার করছেন। অন্যদিকে বিকল্প সড়কপথে সিরাজগঞ্জ হয়ে ময়মনসিংহ যেতে প্রায় ১৮৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়, যেখানে সরাসরি দূরত্ব মাত্র ১৬ কিলোমিটার।

ঐতিহাসিকভাবে এ নৌপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ আমলে বাহাদুরাবাদ রেলঘাট চালু হওয়ার পর উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ময়মনসিংহ অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল এই রুট। পরবর্তীতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়।

২০২২ সালের মার্চে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সারিয়াকান্দির কালিতলা থেকে জামালপুরের জামথল ঘাট পর্যন্ত সম্ভাব্য সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ট্রাফিক জরিপ সম্পন্ন করে। এতে স্থানীয় যাত্রীদের সময়, ব্যয় ও টোল বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, “বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যেতে সবচেয়ে বড় বাধা যমুনা নদী। সেতু হলে যাতায়াত অনেক সহজ হবে।”

সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, “সেতুটি বাস্তবায়ন হলে দুই অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে, কৃষকরা লাভবান হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।”

জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, “দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলে উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের সংযোগ নতুন মাত্রা পাবে।”

বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামও সেতুটি দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “এটি বাস্তবায়িত হলে লাখো মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।”

এ বিষয়ে সেতু বিভাগ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্বিতীয় যমুনা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই ও জরিপ কাজ চলমান রয়েছে। জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে জনগুরুত্বপূর্ণ ও সুবিধাজনক রুট চূড়ান্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বগুড়া–জামালপুর রুটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মিত হলে এটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।