বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শিবগঞ্জে চাঞ্চল্যকর নারী ব্যাংকার শাহনাজ বেগম (৭১) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণার ফাঁদ পেতে বাড়িতে প্রবেশের পর লুটপাটের উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের কুশা গ্রামের বাসিন্দা সুলতানা বেগম (৪৭) ও তার ছেলে রোহান (ওরফে সিয়াম) দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ছিলেন। ঋণের চাপে পড়ে তারা বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণার কৌশল অবলম্বন করতেন। সাধারণত বাড়ির পুরুষ সদস্য অনুপস্থিত থাকলে ওইসব বাড়ির নারীদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলে সুযোগ বুঝে অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ এপ্রিল একই ইউনিয়নের মহব্বত নন্দীপুর গ্রামে সাবেক ব্যাংকার শাহনাজ বেগমের বাড়িতে আত্মীয় পরিচয়ে প্রবেশ করেন সুলতানা ও তার ছেলে। একপর্যায়ে তারা শাহনাজ বেগমের কাছে টাকা ধার চান। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে জিম্মি করে লুটপাটের চেষ্টা করা হয়।
পুলিশ জানায়, বাধা দিলে ও চিৎকার করার চেষ্টা করলে শাহনাজ বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ঘাতকরা ঘর থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ সময় পাশের ঘরে থাকা পুত্রবধূ অস্বাভাবিক শব্দ শুনে ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পান এবং স্থানীয়দের ডাক দেন। পরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে শাহনাজ বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনায় শিবগঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল সোমবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে অভিযান চালিয়ে সুলতানা বেগমকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শিবগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
Reporter Name 


















