০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারিয়াকান্দিতে যমুনায় পানি বাড়তেই ফিরছে প্রাণ: সচল হচ্ছে বন্ধ নৌরুটগুলো

  • Reporter Name
  • ০৩:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬২

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: কয়েকদিনের ব্যবধানে যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে দীর্ঘদিনের নাব্য সংকট কাটিয়ে আবারও সচল হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটগুলো। এতে নদীপথে ফিরছে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য, স্বস্তি পেয়েছেন যাত্রী ও স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছুদিন আগেও যমুনা নদীতে তীব্র নাব্য সংকট দেখা দেয়। এতে উপজেলার অন্যতম প্রধান সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুট প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিআইডব্লিউটিএ কালিতলা নৌঘাট এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার অংশে খনন কাজ চালিয়ে নৌ চলাচল আংশিক সচল রাখা হয়।

নাব্য সংকটের কারণে মাদারগঞ্জ নৌঘাট বালুচরে স্থানান্তরিত হয়, ফলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। একইভাবে আলতাফ আলীর খেয়াঘাট, হাসনাপাড়া, নিজবলাইল ও চারালকান্দিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। তখন মানুষকে হেঁটে চলাচল করতে হয়েছে, আর কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যবহার করা হয়েছে ঘোড়ার গাড়ি।

তবে গত কয়েকদিন ধরে যমুনার পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। নদীর বুকে জেগে ওঠা ডুবোচরগুলো পানির নিচে চলে যাওয়ায় এখন নৌযান সহজেই চলাচল করতে পারছে। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ খেয়াঘাটে নৌ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং যাত্রী চলাচলও বেড়েছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দির মথুরাপাড়া পয়েন্টে গত বৃহস্পতিবার পানির উচ্চতা ছিল ৯.৬৩ মিটার, শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯.৭৫ মিটার এবং শনিবার ১০.০২ মিটারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ তিনদিনে পানির উচ্চতা বেড়েছে ৩৯ সেন্টিমিটার। যদিও এ অঞ্চলে যমুনার বিপৎসীমা ১৬.২৫ মিটার।

স্থানীয় মাঝি আলতাফ আলী জানান, দীর্ঘ প্রায় তিন মাস নৌকা বন্ধ থাকার পর পানি বাড়ায় আবারও নৌরুট চালু হয়েছে, এতে তারা নতুন করে কাজ শুরু করতে পেরেছেন।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, উজানের বৃষ্টিপাতের কারণে সাময়িকভাবে পানি বাড়ছে। তবে এটি স্থায়ী নয়, খুব দ্রুতই পানি কমে যেতে পারে।

নদীর পানি বৃদ্ধিতে স্বস্তি ফিরলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সারিয়াকান্দিতে যমুনায় পানি বাড়তেই ফিরছে প্রাণ: সচল হচ্ছে বন্ধ নৌরুটগুলো

০৩:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: কয়েকদিনের ব্যবধানে যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে দীর্ঘদিনের নাব্য সংকট কাটিয়ে আবারও সচল হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটগুলো। এতে নদীপথে ফিরছে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য, স্বস্তি পেয়েছেন যাত্রী ও স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছুদিন আগেও যমুনা নদীতে তীব্র নাব্য সংকট দেখা দেয়। এতে উপজেলার অন্যতম প্রধান সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুট প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিআইডব্লিউটিএ কালিতলা নৌঘাট এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার অংশে খনন কাজ চালিয়ে নৌ চলাচল আংশিক সচল রাখা হয়।

নাব্য সংকটের কারণে মাদারগঞ্জ নৌঘাট বালুচরে স্থানান্তরিত হয়, ফলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। একইভাবে আলতাফ আলীর খেয়াঘাট, হাসনাপাড়া, নিজবলাইল ও চারালকান্দিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। তখন মানুষকে হেঁটে চলাচল করতে হয়েছে, আর কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যবহার করা হয়েছে ঘোড়ার গাড়ি।

তবে গত কয়েকদিন ধরে যমুনার পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। নদীর বুকে জেগে ওঠা ডুবোচরগুলো পানির নিচে চলে যাওয়ায় এখন নৌযান সহজেই চলাচল করতে পারছে। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ খেয়াঘাটে নৌ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং যাত্রী চলাচলও বেড়েছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দির মথুরাপাড়া পয়েন্টে গত বৃহস্পতিবার পানির উচ্চতা ছিল ৯.৬৩ মিটার, শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯.৭৫ মিটার এবং শনিবার ১০.০২ মিটারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ তিনদিনে পানির উচ্চতা বেড়েছে ৩৯ সেন্টিমিটার। যদিও এ অঞ্চলে যমুনার বিপৎসীমা ১৬.২৫ মিটার।

স্থানীয় মাঝি আলতাফ আলী জানান, দীর্ঘ প্রায় তিন মাস নৌকা বন্ধ থাকার পর পানি বাড়ায় আবারও নৌরুট চালু হয়েছে, এতে তারা নতুন করে কাজ শুরু করতে পেরেছেন।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, উজানের বৃষ্টিপাতের কারণে সাময়িকভাবে পানি বাড়ছে। তবে এটি স্থায়ী নয়, খুব দ্রুতই পানি কমে যেতে পারে।

নদীর পানি বৃদ্ধিতে স্বস্তি ফিরলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে।