০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারিয়াকান্দিতে দুই ভাইকে আটকে রেখে চাঁদাবাজি, মামলা করার পর ভয়ে বাড়িছাড়া

  • Reporter Name
  • ০১:৫১:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৮২

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করার পর আসামিদের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কোচিং সেন্টারের এক শিক্ষক ও তাঁর ভাই। এক বিএনপি কর্মীর নেতৃত্বে কয়েকজন তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে শিক্ষক সুলতান মাহমুদের কাছে। টাকা না দেওয়ায় দুই ভাইকে আটকে রেখে ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং চেক ও ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলার নিজবলাইল এলাকার সুলতান মাহমুদ ওরফে রুবেল মাষ্টার বগুড়া শহরের একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক। আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, রুবেল মাস্টার নিজবলাইল বাজারে পৈতৃক জমিতে একটি দোকানঘর নির্মাণ করার পর স্থানীয় বিএনপিকর্মী সাহাবুল ইসলাম মোল্লা ভাড়া নেওয়ার নামে ঘরটি দখল করার চেষ্টা করেন। তাঁকে ঘর ভাড়া না দেওয়ায় রুবেলের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ টাকা না দেওয়ায় রুবেলের ছোট ভাই রবিজারকে নিজবলাইল বাজার থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি ধরে নিয়ে গিয়ে সাহাবুল মোল্লা বাজারের একটি অফিস ঘরে আটকে রাখেন। পরে ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ও রবিজারের স্ত্রীর মাধ্যমে বাড়ি থেকে চেক বই আনিয়ে চেকে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া চেকের বিপরীতে টাকা দিতে না পারায় গত ২৩ মার্চ আবারও সাহাবুলের লোকজন রবিজারকে অপহরণ করে একই ঘরে আটকে রাখে। টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন করে এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে দেয়।

পরের দিন রুবেল ও তাঁর স্ত্রী বগুড়া শহরে যাওয়ার পথে চরপাড়া বাজার এলাকায় তাদের পথরোধ করে জোরপূর্বক ভ্যানগাড়ি থেকে নামানো হয়। সাহাবুল ও তাঁর লোকজন চাকু ধরে দুজনকে চা দোকানের পেছনে নিয়ে মারধর করেন। সাহাবুল জোরপূর্বক রুবেলের কাছ থেকে আবারও ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন এবং রুবেলের স্ত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে চেক বই বের করে দুটি পাতায় স্বাক্ষর মানিয়ে ছেড়ে দেন।

এসব ঘটনায় রুবেল সম্প্রতি আদালতে সাহাবুল মোল্লাসহ ৭-৮ জনের নামে মামলা করেন। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। মামলার খবর পেয়ে আসামিরা রুবেল ও তাঁর পরিবারকে হুমকি দিতে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলা না তুলে নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে রুবেল ও রবিজার পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

রুবেল বলেন, ‘চাঁদা না দেওয়ায় আমাদের ওপর নির্যাতন করে এবং ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ও চেকে স্বাক্ষর নেয়। সাহাবুলের ভাই আমার কাছে অল্প কিছু টাকা পেত। সে গত অক্টোবর মাসে বিদেশ চলে গেছে। কিন্তু সাহাবুল এখন মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন।’ সাহাবুল বলেন, ‘আমরা রুবেল ও তার ভাইয়ের কাছে ১৫ লাখ টাকা পাই। চাঁদাবাজি বা আটকে রাখার অভিযোগ সঠিক নয়।

হাটশেরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী নুরুল্লাহ বলেন, টাকা লেনদেন নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে এসব ঘটনা ঘটেছে। সূত্র- দৈনিক সমকাল।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সারিয়াকান্দিতে দুই ভাইকে আটকে রেখে চাঁদাবাজি, মামলা করার পর ভয়ে বাড়িছাড়া

০১:৫১:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করার পর আসামিদের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কোচিং সেন্টারের এক শিক্ষক ও তাঁর ভাই। এক বিএনপি কর্মীর নেতৃত্বে কয়েকজন তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে শিক্ষক সুলতান মাহমুদের কাছে। টাকা না দেওয়ায় দুই ভাইকে আটকে রেখে ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং চেক ও ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলার নিজবলাইল এলাকার সুলতান মাহমুদ ওরফে রুবেল মাষ্টার বগুড়া শহরের একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক। আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, রুবেল মাস্টার নিজবলাইল বাজারে পৈতৃক জমিতে একটি দোকানঘর নির্মাণ করার পর স্থানীয় বিএনপিকর্মী সাহাবুল ইসলাম মোল্লা ভাড়া নেওয়ার নামে ঘরটি দখল করার চেষ্টা করেন। তাঁকে ঘর ভাড়া না দেওয়ায় রুবেলের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ টাকা না দেওয়ায় রুবেলের ছোট ভাই রবিজারকে নিজবলাইল বাজার থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি ধরে নিয়ে গিয়ে সাহাবুল মোল্লা বাজারের একটি অফিস ঘরে আটকে রাখেন। পরে ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ও রবিজারের স্ত্রীর মাধ্যমে বাড়ি থেকে চেক বই আনিয়ে চেকে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া চেকের বিপরীতে টাকা দিতে না পারায় গত ২৩ মার্চ আবারও সাহাবুলের লোকজন রবিজারকে অপহরণ করে একই ঘরে আটকে রাখে। টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন করে এবং সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে দেয়।

পরের দিন রুবেল ও তাঁর স্ত্রী বগুড়া শহরে যাওয়ার পথে চরপাড়া বাজার এলাকায় তাদের পথরোধ করে জোরপূর্বক ভ্যানগাড়ি থেকে নামানো হয়। সাহাবুল ও তাঁর লোকজন চাকু ধরে দুজনকে চা দোকানের পেছনে নিয়ে মারধর করেন। সাহাবুল জোরপূর্বক রুবেলের কাছ থেকে আবারও ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন এবং রুবেলের স্ত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে চেক বই বের করে দুটি পাতায় স্বাক্ষর মানিয়ে ছেড়ে দেন।

এসব ঘটনায় রুবেল সম্প্রতি আদালতে সাহাবুল মোল্লাসহ ৭-৮ জনের নামে মামলা করেন। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। মামলার খবর পেয়ে আসামিরা রুবেল ও তাঁর পরিবারকে হুমকি দিতে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলা না তুলে নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে রুবেল ও রবিজার পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

রুবেল বলেন, ‘চাঁদা না দেওয়ায় আমাদের ওপর নির্যাতন করে এবং ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ও চেকে স্বাক্ষর নেয়। সাহাবুলের ভাই আমার কাছে অল্প কিছু টাকা পেত। সে গত অক্টোবর মাসে বিদেশ চলে গেছে। কিন্তু সাহাবুল এখন মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন।’ সাহাবুল বলেন, ‘আমরা রুবেল ও তার ভাইয়ের কাছে ১৫ লাখ টাকা পাই। চাঁদাবাজি বা আটকে রাখার অভিযোগ সঠিক নয়।

হাটশেরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী নুরুল্লাহ বলেন, টাকা লেনদেন নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে এসব ঘটনা ঘটেছে। সূত্র- দৈনিক সমকাল।