০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাহালুতে হিন্দু পরিবারের বসতভিটায় ‘সিএনজি স্ট্যান্ড’ শঙ্কা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

প্রায় শত বছর ধরে পৈত্রিক ভিটায় বসবাস ও ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করা এক হিন্দু পরিবারের বসত বাড়ির প্রবেশ পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সিএনজি স্ট্যান্ড নির্মাণের পরিকল্পনার কথা শুনে উদ্বেক ও উৎকণ্ঠায় এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য তারা বগুড়া জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন।
বগুড়ার কাহালু পৌর সদরের চারমাথা এলাকায় বসবাসকারী সন্তোষ কুমার দাসের ছয় পুত্রের (ওয়ারিশের ) পক্ষে স্বাক্ষরিত একটি আবেদন সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরে দেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বংশ পরম্পরায় প্রায় শত বছর যাবত বসবাস করে আসছেন এই হিন্দু পরিবার। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ১০ শতক জায়গা ওয়ারিশদের মধ্যে ২০১৫ সালে একটি বন্টন নামা দলিলও রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জায়গার উপরেই তাদের বসতভিটা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আর্থিক সংকট সমাধানে সামান্য করে পাওয়া এই জায়গায় বসবাস ও ব্যবসা বাণিজ্য করার জন্য যৌথভাবে দোকান ঘর ও আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। তাদের এই পরিকল্পনায় বাড়ির সামনে থাকা জেলা পরিষদের জায়গা নিয়ে অনেকটা জটিলতায় পড়েছেন তারা। জেলা পরিষদের জায়গার উপর দিয়েই তাদের বাড়ির মূল প্রবেশ পথ। তাদের দাবী এই একমাত্র পথ ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ নেই বাড়িতে প্রবেশের জন্য।
জানা গেছে, শষ্য ভান্ডার হিসাবে খ্যাত এই কাহালু উপজেলায় ঢাকা সাভার এলাকা থেকে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য আসেন হারান চন্দ্র দাস । সেই সময় কাহালু চারমাথা এলাকায় জায়গা কিনে সেখানে বসত বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি। তার মৃত্যুর পর এই পরিবারের হাল ধরেন পুত্র সন্তোষ কুমার দাস। সন্তোষ কুমার দাসের ছয় পুত্রের পরিবারবর্গ মিলে এখন প্রায় ৩০ সদস্যের বসবাস এখানে। তাদের একটি চাতাল রয়েছে, সেই জায়গা রেল কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণের জন্য নোটিশ দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনো কূলকিনারা না পেয়ে তারা ২১ সাল থেকে কাহালু জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কাহালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর মেয়রসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেছেন তাদের বাড়ির প্রবেশ পথে যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা না হয়।
তাদের বসভিটার সামনে ২০২১ সালে কাহালু পৌর কর্তৃপক্ষ পাবলিক টয়লেট এন্ড কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিল। ওই সময় জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন দেওয়ার ফলে তাদের বাড়ির সামনে পৌর কর্তৃপক্ষ বিগত তিন বছর পাবলিক টয়লেট নির্মাণ থেকে বিরত ছিল। পুনরায় মাফযোগ শুরু হলে, এই হিন্দু পরিবার আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় পড়ে ২০২১ সালে বিভিন্ন দপ্তরে তাদের দেওয়া আবেদন বিবেচনায় নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এই পরিবারের সদস্য সুদর্শন দাস জানান, তাদের বাড়ির সামনে সিএনজি স্ট্যান্ড হলে আমাদের বসতবাড়িতে থাকা ও ব্যবসা বাণিজ্যে মারাত্বক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। বাড়ির প্রবেশ পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে সেখানে বসবাসে জটিলতাসহ তাদের ব্যবসা বাণিজ্যে মারাত্বক প্রভাব পড়বে।
এ ব্যাপারে কাহালু পৌরসভার উপসহাকী প্রকৌশলী মোঃ শরিফুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলা হলে তিনি জানান, সেখানে জেলা পরিষদের জায়গা রয়েছে। আপনে অফিসে আসলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
এ ব্যাপারে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ শিমুল হকের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, আবেদনটি এখনো আমি পাইনি, রিসিভ শাখা থেকে আবেদনটি আসা মাত্রই ডিসি স্যারের কাছে দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে কাহালু পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর মেজবাহীজ্জুলাম চৌধুরী এঁর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও মোবাইল ফোনে কোন সংযোগ পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কাহালুতে হিন্দু পরিবারের বসতভিটায় ‘সিএনজি স্ট্যান্ড’ শঙ্কা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

০৪:২৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

প্রায় শত বছর ধরে পৈত্রিক ভিটায় বসবাস ও ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করা এক হিন্দু পরিবারের বসত বাড়ির প্রবেশ পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সিএনজি স্ট্যান্ড নির্মাণের পরিকল্পনার কথা শুনে উদ্বেক ও উৎকণ্ঠায় এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য তারা বগুড়া জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন।
বগুড়ার কাহালু পৌর সদরের চারমাথা এলাকায় বসবাসকারী সন্তোষ কুমার দাসের ছয় পুত্রের (ওয়ারিশের ) পক্ষে স্বাক্ষরিত একটি আবেদন সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরে দেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বংশ পরম্পরায় প্রায় শত বছর যাবত বসবাস করে আসছেন এই হিন্দু পরিবার। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ১০ শতক জায়গা ওয়ারিশদের মধ্যে ২০১৫ সালে একটি বন্টন নামা দলিলও রেজিস্ট্রি করা হয়। এই জায়গার উপরেই তাদের বসতভিটা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আর্থিক সংকট সমাধানে সামান্য করে পাওয়া এই জায়গায় বসবাস ও ব্যবসা বাণিজ্য করার জন্য যৌথভাবে দোকান ঘর ও আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। তাদের এই পরিকল্পনায় বাড়ির সামনে থাকা জেলা পরিষদের জায়গা নিয়ে অনেকটা জটিলতায় পড়েছেন তারা। জেলা পরিষদের জায়গার উপর দিয়েই তাদের বাড়ির মূল প্রবেশ পথ। তাদের দাবী এই একমাত্র পথ ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ নেই বাড়িতে প্রবেশের জন্য।
জানা গেছে, শষ্য ভান্ডার হিসাবে খ্যাত এই কাহালু উপজেলায় ঢাকা সাভার এলাকা থেকে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য আসেন হারান চন্দ্র দাস । সেই সময় কাহালু চারমাথা এলাকায় জায়গা কিনে সেখানে বসত বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি। তার মৃত্যুর পর এই পরিবারের হাল ধরেন পুত্র সন্তোষ কুমার দাস। সন্তোষ কুমার দাসের ছয় পুত্রের পরিবারবর্গ মিলে এখন প্রায় ৩০ সদস্যের বসবাস এখানে। তাদের একটি চাতাল রয়েছে, সেই জায়গা রেল কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণের জন্য নোটিশ দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনো কূলকিনারা না পেয়ে তারা ২১ সাল থেকে কাহালু জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কাহালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর মেয়রসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেছেন তাদের বাড়ির প্রবেশ পথে যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা না হয়।
তাদের বসভিটার সামনে ২০২১ সালে কাহালু পৌর কর্তৃপক্ষ পাবলিক টয়লেট এন্ড কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিল। ওই সময় জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন দেওয়ার ফলে তাদের বাড়ির সামনে পৌর কর্তৃপক্ষ বিগত তিন বছর পাবলিক টয়লেট নির্মাণ থেকে বিরত ছিল। পুনরায় মাফযোগ শুরু হলে, এই হিন্দু পরিবার আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় পড়ে ২০২১ সালে বিভিন্ন দপ্তরে তাদের দেওয়া আবেদন বিবেচনায় নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এই পরিবারের সদস্য সুদর্শন দাস জানান, তাদের বাড়ির সামনে সিএনজি স্ট্যান্ড হলে আমাদের বসতবাড়িতে থাকা ও ব্যবসা বাণিজ্যে মারাত্বক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। বাড়ির প্রবেশ পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে সেখানে বসবাসে জটিলতাসহ তাদের ব্যবসা বাণিজ্যে মারাত্বক প্রভাব পড়বে।
এ ব্যাপারে কাহালু পৌরসভার উপসহাকী প্রকৌশলী মোঃ শরিফুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলা হলে তিনি জানান, সেখানে জেলা পরিষদের জায়গা রয়েছে। আপনে অফিসে আসলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
এ ব্যাপারে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ শিমুল হকের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, আবেদনটি এখনো আমি পাইনি, রিসিভ শাখা থেকে আবেদনটি আসা মাত্রই ডিসি স্যারের কাছে দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে কাহালু পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর মেজবাহীজ্জুলাম চৌধুরী এঁর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও মোবাইল ফোনে কোন সংযোগ পাওয়া যায়নি।