স্টাফ রিপোর্টার: টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমির পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনেক এলাকায় বাধ্য হয়ে তিনগুণ মজুরি দিয়ে শ্রমিক নিয়োগ করে পানির মধ্যেই ধান কাটতে দেখা গেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি অতিবর্ষণে উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে প্রায় ১০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে বোরো ধান ৮৫ হেক্টর, পাট ১২ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৩ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
যমুনা ও বাঙালি নদীবেষ্টিত সোনাতলা উপজেলা প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। জেলা সদর থেকে প্রায় ৩১ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই উপজেলায় প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর নদীকূলীয় এলাকার মানুষকে ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। বোরো ধানই তাদের প্রধান অর্থনৈতিক ভরসা।
সোমবার সরেজমিনে উপজেলার তেকানীচুকাইনগর, খাবুলিয়া, জন্তিয়ারপাড়া, সরলিয়া, মহব্বতেরপাড়া, ভিকনেরপাড়া, খাটিয়ামারি, চরমধুপুর, উত্তর করমজা, হরিখালী, সর্জনপাড়া, শিচারপাড়া, নিমেরপাড়া, শ্যামপুর, নিশ্চন্তপুর, হুয়াকুয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা পানিতে ডুবে থাকা জমি থেকে ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
খাবুলিয়া চরের কৃষক তুহিন মিয়া জানান, টানা বৃষ্টিতে তার ৫ বিঘা জমির ধান পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। সর্জনপাড়া বেড়েরঘাট এলাকার কৃষক মোতাহার হোসেন বাবলু, আনারুল ইসলাম, হিটলু ও শিবলু মিয়া বলেন, তাদের এলাকায় শত শত বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। ফসল রক্ষায় বাধ্য হয়ে বাড়তি মজুরি দিয়ে শ্রমিক নিয়োগ করতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, অতিবর্ষণের কারণে প্রায় ১০০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতি কমাতে কৃষকদের দ্রুত পানির মধ্য থেকে পাকা ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না কমলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং আর্থিক ক্ষতির বোঝা আরও বাড়বে।
Reporter Name 


















