১১:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় কালবৈশাখীর আঘাত ও টানা বৃষ্টিতে বোরো ধানের সর্বনাশ, দিশেহারা কৃষক

  • Reporter Name
  • ০৩:৫৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ৯২

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া (সোনাতলা): বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের পর টানা ভারী বৃষ্টি ও রোদহীন আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষকদের স্বপ্নের বোরো ধান। মাঠভর্তি পাকা ধান এখন নষ্ট হওয়ার মুখে, ফলে চরম দুশ্চিন্তা ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন হাজারো কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ হেক্টরের বেশি জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হওয়ার আশা থাকলেও বিরূপ আবহাওয়ায় সেই আশা এখন অনিশ্চয়তায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক জমির ধান পানিতে হেলে পড়েছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে পানিতে নেমেই ধান কাটছেন। কোথাও ধান ভিজে নষ্ট হচ্ছে, আবার কোথাও পুরো জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে দ্বিগুণ হওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগও বেড়েছে কয়েকগুণ।

ধান কাটার পরও নতুন সংকটে পড়ছেন কৃষকরা। রোদ না থাকায় ধান শুকানো যাচ্ছে না, ফলে অঙ্কুরোদ্গমের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্রমিক সংকট, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বাজার পরিস্থিতিও কৃষকদের পক্ষে নয়। অনেক বেপারি ধান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। আর কিনলেও প্রতি মণ ধানের দাম দিচ্ছেন মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।

যেসব কৃষক আগেই ধান কেটেছেন, তারাও বিপাকে পড়েছেন। রোদ না থাকায় ধান শুকাতে পারছেন না। অন্যদিকে যাদের ধান এখনো মাঠে, তাদের জমিতে পানি জমে ধান ঝরে পড়া, পচন ধরা ও ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—যেসব জমিতে ধান হেলে পড়েছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ঘরে তোলা বা গুচ্ছ বেঁধে রাখলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এমন দুর্যোগে কৃষকের মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। সোনালী ধানের স্বপ্ন যেন কালো মেঘে ঢেকে গেছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চালের দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত সরকারি প্রণোদনা ও ভর্তুকির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় কালবৈশাখীর আঘাত ও টানা বৃষ্টিতে বোরো ধানের সর্বনাশ, দিশেহারা কৃষক

০৩:৫৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া (সোনাতলা): বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের পর টানা ভারী বৃষ্টি ও রোদহীন আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষকদের স্বপ্নের বোরো ধান। মাঠভর্তি পাকা ধান এখন নষ্ট হওয়ার মুখে, ফলে চরম দুশ্চিন্তা ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন হাজারো কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ হেক্টরের বেশি জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হওয়ার আশা থাকলেও বিরূপ আবহাওয়ায় সেই আশা এখন অনিশ্চয়তায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক জমির ধান পানিতে হেলে পড়েছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে পানিতে নেমেই ধান কাটছেন। কোথাও ধান ভিজে নষ্ট হচ্ছে, আবার কোথাও পুরো জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে দ্বিগুণ হওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগও বেড়েছে কয়েকগুণ।

ধান কাটার পরও নতুন সংকটে পড়ছেন কৃষকরা। রোদ না থাকায় ধান শুকানো যাচ্ছে না, ফলে অঙ্কুরোদ্গমের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্রমিক সংকট, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বাজার পরিস্থিতিও কৃষকদের পক্ষে নয়। অনেক বেপারি ধান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। আর কিনলেও প্রতি মণ ধানের দাম দিচ্ছেন মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।

যেসব কৃষক আগেই ধান কেটেছেন, তারাও বিপাকে পড়েছেন। রোদ না থাকায় ধান শুকাতে পারছেন না। অন্যদিকে যাদের ধান এখনো মাঠে, তাদের জমিতে পানি জমে ধান ঝরে পড়া, পচন ধরা ও ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—যেসব জমিতে ধান হেলে পড়েছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ঘরে তোলা বা গুচ্ছ বেঁধে রাখলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এমন দুর্যোগে কৃষকের মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। সোনালী ধানের স্বপ্ন যেন কালো মেঘে ঢেকে গেছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চালের দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত সরকারি প্রণোদনা ও ভর্তুকির দাবি জানিয়েছেন।