০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় মায়ের মৃত দেহ ঘরে রেখেই এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে মারুফ

  • Reporter Name
  • ০১:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ৭৭৮

বিকাশ স্বর্ণকার: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনার মধ্যেও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী। মায়ের মরদেহ ঘরে রেখেই পরীক্ষার হলে অংশ নিয়েছে মেজবাউল খান মারুফ নামে এক শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, মারুফ সরকারি সোনাতলা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ছাত্র এবং সদর ইউনিয়নের রানীরপাড়া গ্রামের নুরে আলমের ছেলে। তার মা মাহমুদা বেগম (৩০) দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার ভোররাতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

মায়ের মৃত্যুর গভীর শোক বুকে নিয়েই মারুফ সকালে নির্ধারিত সময় সকাল ৯টায় সোনাতলা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র গিয়ে এসএসসি বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় (বিজ্ঞান শাখা) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে মরদেহ নিয়ে শোকাহত অবস্থায় ছিলেন।

কেন্দ্র সচিব ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোরসালিন হাসান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। আমরা তাকে মানসিকভাবে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তার দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় বহন করে।”

এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা মারুফের সাহস, ধৈর্য ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন। অনেকেই বলছেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও লক্ষ্য অটুট রাখার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে এই ঘটনা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় মায়ের মৃত দেহ ঘরে রেখেই এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে মারুফ

০১:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

বিকাশ স্বর্ণকার: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় হৃদয়বিদারক এক ঘটনার মধ্যেও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী। মায়ের মরদেহ ঘরে রেখেই পরীক্ষার হলে অংশ নিয়েছে মেজবাউল খান মারুফ নামে এক শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, মারুফ সরকারি সোনাতলা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ছাত্র এবং সদর ইউনিয়নের রানীরপাড়া গ্রামের নুরে আলমের ছেলে। তার মা মাহমুদা বেগম (৩০) দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার ভোররাতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

মায়ের মৃত্যুর গভীর শোক বুকে নিয়েই মারুফ সকালে নির্ধারিত সময় সকাল ৯টায় সোনাতলা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র গিয়ে এসএসসি বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় (বিজ্ঞান শাখা) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে মরদেহ নিয়ে শোকাহত অবস্থায় ছিলেন।

কেন্দ্র সচিব ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোরসালিন হাসান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। আমরা তাকে মানসিকভাবে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তার দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় বহন করে।”

এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা মারুফের সাহস, ধৈর্য ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন। অনেকেই বলছেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও লক্ষ্য অটুট রাখার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে এই ঘটনা।