০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় গৃহবধূর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মানববন্ধন, আসামিদের দ্রুত বিচারের দাবি

বগুড়ার সোনাতলায় গৃহবধূ নুসরাত জাহানের আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার বালুয়াহাট বাসস্ট্যান্ড মোড়ে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

নিহত গৃহবধূ নুসরাত জাহান উপজেলার উত্তর আটকরিয়া গ্রামের মোঃ জিয়াউর হোসেনের কন্যা। পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর নির্যাতন ও মানসিক চাপে গত ১২ এপ্রিল তিনি আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা মোছাঃ রিমুশী বেগম বাদী হয়ে জামাইসহ মোট আটজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

মানববন্ধনে নিহতের মা মোছাঃ রিমুশী বেগম, বাবা জিয়াউর হোসেন, বড় ভাই জেমস, গোলাম হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী অংশ নেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, সহজ-সরল এক তরুণীকে যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, “একজন অসহায় মেয়ের জীবনের সঙ্গে নির্মম আচরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে একই গ্রামের মোশাররফ হোসেন খোকার ছেলে মোঃ নাজির হোসেন নাইমের সঙ্গে নুসরাত জাহানের বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নুসরাতের ওপর চাপ ও নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

পরবর্তীতে গত বছর বগুড়া সদরের নিশিন্দারা এলাকার মোঃ বাদশা শেখের ছেলে আবু সাঈদের সঙ্গে নুসরাতের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে প্রথম স্বামী নাজির হোসেন নাইম নুসরাতের ব্যক্তিগত কিছু ছবি আবু সাঈদের কাছে পাঠান। এরপর নুসরাতকে নিয়ে পারিবারিক অশান্তি ও নির্যাতন শুরু হয়। পরিবারের দাবি, ধারাবাহিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে তিনি চরম হতাশায় পড়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় গৃহবধূর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মানববন্ধন, আসামিদের দ্রুত বিচারের দাবি

০৪:১৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

বগুড়ার সোনাতলায় গৃহবধূ নুসরাত জাহানের আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার বালুয়াহাট বাসস্ট্যান্ড মোড়ে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

নিহত গৃহবধূ নুসরাত জাহান উপজেলার উত্তর আটকরিয়া গ্রামের মোঃ জিয়াউর হোসেনের কন্যা। পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর নির্যাতন ও মানসিক চাপে গত ১২ এপ্রিল তিনি আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহতের মা মোছাঃ রিমুশী বেগম বাদী হয়ে জামাইসহ মোট আটজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

মানববন্ধনে নিহতের মা মোছাঃ রিমুশী বেগম, বাবা জিয়াউর হোসেন, বড় ভাই জেমস, গোলাম হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী অংশ নেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, সহজ-সরল এক তরুণীকে যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, “একজন অসহায় মেয়ের জীবনের সঙ্গে নির্মম আচরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে একই গ্রামের মোশাররফ হোসেন খোকার ছেলে মোঃ নাজির হোসেন নাইমের সঙ্গে নুসরাত জাহানের বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নুসরাতের ওপর চাপ ও নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

পরবর্তীতে গত বছর বগুড়া সদরের নিশিন্দারা এলাকার মোঃ বাদশা শেখের ছেলে আবু সাঈদের সঙ্গে নুসরাতের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে প্রথম স্বামী নাজির হোসেন নাইম নুসরাতের ব্যক্তিগত কিছু ছবি আবু সাঈদের কাছে পাঠান। এরপর নুসরাতকে নিয়ে পারিবারিক অশান্তি ও নির্যাতন শুরু হয়। পরিবারের দাবি, ধারাবাহিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে তিনি চরম হতাশায় পড়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে।