০৯:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় মুক্তিপণের দাবিতে এনজিও কর্মীকে অপহরণের ১২ দিনেও উদ্ধার হয়নি

  • Reporter Name
  • ০৪:০৭:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ২৫৩

সোনাতলা (বগুড়া) সংবাদদাতাঃ বগুড়ায় কিস্তির টাকা আদায় করতে গিয়ে ফোকাস সোসাইটির এক মাঠকর্মী অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

নিখোঁজ এনজিও কর্মী মোকলেছার প্রামাণিক সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের বারোঘরিয়া পাড়া গ্রামের মৃত বুদা প্রামাণিকের ছেলে। তিনি বগুড়া সদর পল্লীমঙ্গল এলাকায় অবস্থিত পুলিশ লাইন ফোকাস সোসাইটির একটি শাখায় মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে মোকলেছার প্রামাণিক অফিস থেকে ঋণের কিস্তির টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে মাঠে বের হন। পরে দুপুর আড়াইটার পর থেকে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

একপর্যায়ে ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার পুলিশ লাইন বাজার মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার পাশে তার ব্যবহৃত Bajaj CT-100 মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় নিখোঁজ মোকলেছারের বড় ভাই মোঃ আতাউর রহমান বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি ইজাহার দায়ের করেন।

পরিবারের অভিযোগ, পরদিন ২৯ এপ্রিল গভীর রাতে অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে আতাউর রহমানের মোবাইলে ফোন করে অপহরণকারীরা জানায়, মোকলেছার তাদের হেফাজতে রয়েছে। তাকে জীবিত ফেরত পেতে হলে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপহরণকারীরা মোকলেছারের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথাও বলিয়ে দেয়।

পরিবার প্রথমে মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপহরণকারীরা তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়। পরে ভয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে সেন্ডমানির মাধ্যমে মোট ৮৭ হাজার ৯০০ টাকা পাঠান। কিন্তু এরপরও অপহরণকারীরা তাকে মুক্তি না দিয়ে আরও টাকা দাবি করতে থাকে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্বজনদের দাবি, মামলা দায়েরের পরও থানা পুলিশের তৎপরতা তেমন চোখে পড়ছে না। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে মোকলেছার প্রামাণিককে জীবিত উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

এবিষয়ে মোকলেছুর রহমানের স্ত্রী লিলুফা ইয়াসমিন কান্না জর্রিত কণ্ঠে বলেন, দীর্ঘদিন হলে আমার স্বামী অপহরণ হওয়ায় সন্তানদেরকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।আমার স্বামীকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় মুক্তিপণের দাবিতে এনজিও কর্মীকে অপহরণের ১২ দিনেও উদ্ধার হয়নি

০৪:০৭:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

সোনাতলা (বগুড়া) সংবাদদাতাঃ বগুড়ায় কিস্তির টাকা আদায় করতে গিয়ে ফোকাস সোসাইটির এক মাঠকর্মী অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

নিখোঁজ এনজিও কর্মী মোকলেছার প্রামাণিক সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের বারোঘরিয়া পাড়া গ্রামের মৃত বুদা প্রামাণিকের ছেলে। তিনি বগুড়া সদর পল্লীমঙ্গল এলাকায় অবস্থিত পুলিশ লাইন ফোকাস সোসাইটির একটি শাখায় মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে মোকলেছার প্রামাণিক অফিস থেকে ঋণের কিস্তির টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে মাঠে বের হন। পরে দুপুর আড়াইটার পর থেকে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

একপর্যায়ে ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার পুলিশ লাইন বাজার মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার পাশে তার ব্যবহৃত Bajaj CT-100 মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় নিখোঁজ মোকলেছারের বড় ভাই মোঃ আতাউর রহমান বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি ইজাহার দায়ের করেন।

পরিবারের অভিযোগ, পরদিন ২৯ এপ্রিল গভীর রাতে অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে আতাউর রহমানের মোবাইলে ফোন করে অপহরণকারীরা জানায়, মোকলেছার তাদের হেফাজতে রয়েছে। তাকে জীবিত ফেরত পেতে হলে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপহরণকারীরা মোকলেছারের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথাও বলিয়ে দেয়।

পরিবার প্রথমে মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপহরণকারীরা তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়। পরে ভয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে সেন্ডমানির মাধ্যমে মোট ৮৭ হাজার ৯০০ টাকা পাঠান। কিন্তু এরপরও অপহরণকারীরা তাকে মুক্তি না দিয়ে আরও টাকা দাবি করতে থাকে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্বজনদের দাবি, মামলা দায়েরের পরও থানা পুলিশের তৎপরতা তেমন চোখে পড়ছে না। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে মোকলেছার প্রামাণিককে জীবিত উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

এবিষয়ে মোকলেছুর রহমানের স্ত্রী লিলুফা ইয়াসমিন কান্না জর্রিত কণ্ঠে বলেন, দীর্ঘদিন হলে আমার স্বামী অপহরণ হওয়ায় সন্তানদেরকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।আমার স্বামীকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।