০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাহালুতে টেপেন্টাডোল ট্যাবলেটের নেশায় বেশি ঝুঁকছে মাদকসেবীরা

হেরোইন ও ইয়াবার বিকল্প মাদক দ্রব্য হিসাবে ব্যাথানাশক টেপেন্টাডোল ট্যাবলেটের প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে বগুড়ার কাহালু উপজেলার বিভিন্ন স্থানের মাদকসেবীরা। আগে পুলিশের অভিযানে গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল উদ্ধারের খবর বেশি পাওয়া গেলেও এখন মাদক হিসাবে টেপেন্টাডোল উদ্ধারের খবরই প্রতিনিয়িত পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যাথানশক ট্যাবলেট টেপেন্টাডোল মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে খ শ্রেণির মাদক হিসাবে যুক্ত হলে ২০২০ সালে বাংলাদেশে এই ট্যাবলেট উৎপাদন ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশে টেপেন্টাডোলের উৎপাদন নিষিদ্ধ হলেও মাদক হিসাবে এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে অত্র উপজেলায়। বর্তমানে দেশে টেপেন্টোডোলের উৎপাদন নিষিদ্ধ করবার পরেও এই ট্যাবলেট মাদকসেবীরা কিভাবে পাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ভয়াবহ তথ্য উঠে আসছে।
বিভিন্ন সূত্রমতে, এই টেপেন্টাডোল ট্যাবলেট পার্শ্ববতী দেশ থেকে চোরাই পথে আনছে মাদক ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসা এই মাদক কুরিয়ার সার্ভিস অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আবার এই মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীসহ যুবসমাজের কাছে।
জানা গেছে, কাহালু উপজেলোর নিদ্রিষ্ট কিছু এলাকায় এই মাদক সেবনের খবর পাওয়া গেলেও এখন বিভিন্ন এলাকায় এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়েছে। কাহালু থানা পুলিশের অভিযানে প্রতিনিয়ত টেপেন্টাডোল উদ্ধার ও ছোটখাটো মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করলেও কোন উৎস্য থেকে এই মাদক অত্র উপজেলায় আসছে তার সঠিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ইতিমধ্যে স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে বলেছেন মাদক বিক্রি ও সেবন যারা করবে তাদের যেন কোনো প্রকার ছার না দেওয়া হয়। এই নির্দেশনা পাওয়ার পর থানা পুলিশও বেশ তৎপর হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ও উদ্ধার অভিযানে পুশিশের জালে ধরাও পড়ছে অনেকে।
কাহালু থানা পুলিশের তথ্যমতে, দেশে টেপেন্টাডোল উৎপাদন বন্ধ থাকলেও চোরাই পথে পার্শ্ববতী দেশ থেকে চোরাকারবারীরা ইয়াবা ও টেপেন্টাডোল ট্যাবলেট আনছে। আমাদের কাহালুতে বড় ধরনের কোনো মাদক ব্যবসায়ীর সন্ধান আমরা এখনো পাইনি। তবে আমাদের কাছে তথ্য আছে ছোটখাটো কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে অল্প করে এই মাদক এনে বিক্রি করার চেষ্টা করে। আমাদের কাছে খবর আসা মাত্রই তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। ইয়াবার দাম বেশি হওয়ায় টেপেন্টাডোল ট্যাবলেটের উপর বেশি ঝুকিয়ে পড়ছে মাদকসেবীরা। মাদক নির্মূলে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
কাহালু থানার ওসি মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে একাধিক অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ও তাদের কাছ থেকে অনেকগুলো ইয়াবা, টেপেন্টাডোল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি মাসেই একাধিক অভিযানে মাদক উদ্ধার ও কয়েকজন বিক্রেতাকে গ্রেফতার করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৬ টি মামলা করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কাহালুতে টেপেন্টাডোল ট্যাবলেটের নেশায় বেশি ঝুঁকছে মাদকসেবীরা

০৩:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

হেরোইন ও ইয়াবার বিকল্প মাদক দ্রব্য হিসাবে ব্যাথানাশক টেপেন্টাডোল ট্যাবলেটের প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে বগুড়ার কাহালু উপজেলার বিভিন্ন স্থানের মাদকসেবীরা। আগে পুলিশের অভিযানে গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল উদ্ধারের খবর বেশি পাওয়া গেলেও এখন মাদক হিসাবে টেপেন্টাডোল উদ্ধারের খবরই প্রতিনিয়িত পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যাথানশক ট্যাবলেট টেপেন্টাডোল মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে খ শ্রেণির মাদক হিসাবে যুক্ত হলে ২০২০ সালে বাংলাদেশে এই ট্যাবলেট উৎপাদন ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশে টেপেন্টাডোলের উৎপাদন নিষিদ্ধ হলেও মাদক হিসাবে এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে অত্র উপজেলায়। বর্তমানে দেশে টেপেন্টোডোলের উৎপাদন নিষিদ্ধ করবার পরেও এই ট্যাবলেট মাদকসেবীরা কিভাবে পাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ভয়াবহ তথ্য উঠে আসছে।
বিভিন্ন সূত্রমতে, এই টেপেন্টাডোল ট্যাবলেট পার্শ্ববতী দেশ থেকে চোরাই পথে আনছে মাদক ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসা এই মাদক কুরিয়ার সার্ভিস অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আবার এই মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীসহ যুবসমাজের কাছে।
জানা গেছে, কাহালু উপজেলোর নিদ্রিষ্ট কিছু এলাকায় এই মাদক সেবনের খবর পাওয়া গেলেও এখন বিভিন্ন এলাকায় এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়েছে। কাহালু থানা পুলিশের অভিযানে প্রতিনিয়ত টেপেন্টাডোল উদ্ধার ও ছোটখাটো মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করলেও কোন উৎস্য থেকে এই মাদক অত্র উপজেলায় আসছে তার সঠিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ইতিমধ্যে স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে বলেছেন মাদক বিক্রি ও সেবন যারা করবে তাদের যেন কোনো প্রকার ছার না দেওয়া হয়। এই নির্দেশনা পাওয়ার পর থানা পুলিশও বেশ তৎপর হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ও উদ্ধার অভিযানে পুশিশের জালে ধরাও পড়ছে অনেকে।
কাহালু থানা পুলিশের তথ্যমতে, দেশে টেপেন্টাডোল উৎপাদন বন্ধ থাকলেও চোরাই পথে পার্শ্ববতী দেশ থেকে চোরাকারবারীরা ইয়াবা ও টেপেন্টাডোল ট্যাবলেট আনছে। আমাদের কাহালুতে বড় ধরনের কোনো মাদক ব্যবসায়ীর সন্ধান আমরা এখনো পাইনি। তবে আমাদের কাছে তথ্য আছে ছোটখাটো কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে অল্প করে এই মাদক এনে বিক্রি করার চেষ্টা করে। আমাদের কাছে খবর আসা মাত্রই তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। ইয়াবার দাম বেশি হওয়ায় টেপেন্টাডোল ট্যাবলেটের উপর বেশি ঝুকিয়ে পড়ছে মাদকসেবীরা। মাদক নির্মূলে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
কাহালু থানার ওসি মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে একাধিক অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ও তাদের কাছ থেকে অনেকগুলো ইয়াবা, টেপেন্টাডোল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি মাসেই একাধিক অভিযানে মাদক উদ্ধার ও কয়েকজন বিক্রেতাকে গ্রেফতার করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৬ টি মামলা করা হয়েছে।