বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পূর্ব প্রান্তে একেবারে নিভৃত একটি গ্রাম পূর্ব সুজাইতপুর। যমুনা নদী সংলগ্ন এই গ্রামের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম। ছোট্ট একটি বসত ভিটায় স্ত্রী, পুত্র ও পরিবারের অন্যান্য সদস্য নিয়ে তার ছিল একটি সুখের সংসার। কিন্তু সর্বনাশা যমুনার করাল গ্রাসে একমাত্র সম্বল সেই বসত ভিটা আজ নদীর গর্ভে! নিরূপায় ও বাধ্য হয়ে রফিকুল এখন পরিবার নিয়ে নদী সংলগ্ন পূর্ব সুজাইতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। করুণ কণ্ঠে রফিকুলের মুখ থেকে বিড় বিড় করে বের হয়, ‘‘নদী ভাঙনের গর্জন বোকোত আসে লাগে ভাই, হামরা এখন কোনটে যামু!” শুধু রফিকুল নয়, তার মতো অন্তত ২০টি পরিবার বসত-ভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে এখন এই বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, আশ্রয় নেওয়া বিদ্যালয়টিও নদী থেকে মাত্র বিশ গজ দূরে। বর্ষায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙনও বৃদ্ধি পেয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে এলাকার প্রাথমিক শিক্ষার আলো ছড়ানো একমাত্র এই বিদ্যালয়টি। এমন পরিস্থিতিতে তারা যেকোনো মূল্যে বিদ্যালয়টিকে বাঁচাতে কর্তৃপক্ষের ত্বরিৎ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘যেভাবে ভাঙর শুরু হয়েছে, অতি সত্বর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে স্কুলটি বিলীন হয়ে যাবে’। তিনি আরো বলেন, এই চরের একমাত্র স্কুল এটি। এটি নদী গর্ভে চলে গেলে কোমলমতি শিশুরা শিক্ষার ন্যূনতম অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।’
শুধু পূর্ব সুজাইতপুর নয়, যমুনা নদী সংলগ্ন উপজেলার প্রায় সকল গ্রামে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার শুধু মাথা গোঁজার জন্য বিভিন্ন স্কুল এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। খাটিয়ামারি, বালুয়াপাড়া, রাধাকান্তপুর, চালুয়াবাড়িসহ নদী সংলগ্ন গ্রামগুলো বর্তমানে তীব্র ভাঙনের কবলে পড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে শুক্রবার মহব্বতেরপাড়া গ্রামে নদী ভাঙন রোধে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে দেওয়া বক্তব্যে তারা নদী ভাঙন রোধে অতি সত্বর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পাকুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ.কে.এম লতিফুল বারী টীম বলেন, পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। বন্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙনের তীব্রতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার বাড়ি ঘর হারিয়ে স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি বলেন, আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চেয়ারম্যান হিসেবে আমার আবেদন থাকবে, নদী ভাঙন রোধে যেন অতি সত্বর ব্যবস্থা নেওয়া হয় যাতে গ্রাম ও স্কুলটি রক্ষা পায়।’
বগুড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেনু, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত রয়েছি। তবে সোনাতলায় পানি উন্নয়ন বিভাগ কর্তৃক বর্তমানে কোনো প্রকল্প চলমান নেই। তারপরেও নদী ভাঙন রোধে আমরা প্রতিবেদন দাখিল করেছি।’ বরাদ্দ পেলে ওই এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ করা হবে।’
১২:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ:-
সোনাতলায় নদী ভাঙন
‘নদী ভাঙনের গর্জন বোকোত আসে লাগে ভাই, হামরা এখন কোনটে যামু’
-
লতিফুল ইসলাম - ০৩:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
- ১২০
Tag :
জনপ্রিয়



















