১০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় মাদকের ভয়াল থাবা: প্রকাশ্যে সেবন, বাড়ছে চুরি-ছিনতাই

বগুড়ার সোনাতলায় মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যে তারা মাদক সেবন করছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তাদের হাতে এসব মাদক আসছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাÐে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে এলাকায় আশঙ্কাজনকভাবে চুরি, ছিনতাই বেড়ে গেছে। যদিও প্রশাসন বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার পৌরসভা এলাকার সবুজ সাথী স্কুল মাঠ, উপজেলা চেয়ারম্যানের পরিত্যাক্ত কোয়ার্টার, হাসপাতাল রোড, স্টেশন, স্টেডিয়াম মাঠ, বাংলালিংক টাওয়ার রোড, পিটিআই ডাকবাংলো রোড, আগুনিয়াতাইড় টোলপাড়া, গড়ফতেপুর জিল্লুর রহমান প্রাইমারি স্কুল রোডসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা প্রকাশ্যে মাদক কেনা-বেচা ও সেবন করছে। শুধু তাই নয়, পৌরসভার বাহিরেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নানান জায়গা মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপদ স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। উপজেলার গবরচাপা বিলের রাস্তা, কাচারী বাজারের পূর্ব পাশের্^ বংশবাড়ী এলাকা, সৈয়দ আহমেদ কলেজ স্টেশন, ভেলুরপাড়া স্টেশন, মহিচরণ বাজার, পাঠানপাড়া, কর্পূর বাজার প্রভূতি স্থানে মাদকসেবীরা অবাধে মাদক সেবন করছে।

মাদকসেবীদের হাতে আসে যেভাবে:
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক কেনা-বেচা ও সেবনকারীদের হাতে পৌছা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট কাজ করে। সোনাতলায় মাদকগুলো সবচেয়ে বেশি ঢোকে জয়পুরহাট ও হিলি সীমান্ত থেকে। এছাড়াও গোবিন্দগঞ্জ, বড়িয়াহাট, পূর্বাঞ্চলের নদীর চর ইত্যাদি রুটেও মাদক ঢুকে থাকে। মাদকের এসব চালান আসে মূলত চোরাইপথে অন্য পণ্যের বেশ ধরে। এরপর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেগুলো পৌছে দেয় সেবনকারীদের কাছে।

মাদকের ধরন:
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন মাদকদ্রব্য কেনা-বেচা ও সেবন করে থাকেন। এর মধ্যে গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেট, ফেন্সিডিল, ট্যাপেন্ডাডল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সমাজের উঠতি বয়সের তরুণরা এসব মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত।

নিরাপত্তা বিঘিœত: বেড়েছে চুরি-ছিনতাই:
এদিকে মাদকের টাকা জোগাড় করতে নানা-রকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে মাদকসেবীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দেড় মাসে উপজেলা সদর ও এর আশে পাশে বেশ কয়েকটি চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত ২২ তারিখে সোনাতলা দলিল লেখক সমিতির অফিসে চুরির ঘটনা ঘটে। সেই রাতে অফিস থেকে ফ্যান, লাইট, ল্যাপটপ, স্ক্যানার মেশিন, স্ট্যাম্পসহ নানা মূল্যবান জিনিস খোয়া যায়। গত এক সপ্তাহ আগে মাইক্রোস্ট্যান্ড ও স্টেশন এলাকায় একযোগে তিনটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়া গত মাসের ৫ তারিখে উপজেলা মডেল মসজিদ সংলগ্ন ইমামের বাসায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইমাম মাও. মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেন। তার কিছু দিন পূর্বে সোনাতলা উপজেলা রোডস্থ শামীম ব্যাটারীতেও চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসী।

প্রশাসনের বক্তব্য:
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রওশন কবিরের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি। মাদক নিয়ে যেকোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে আমাদের টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু মাদককারবারীকে আমরা আটক করেছি। চুরির বিষয়ে তিনি বলেন, থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় মাদকের ভয়াল থাবা: প্রকাশ্যে সেবন, বাড়ছে চুরি-ছিনতাই

০৩:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

বগুড়ার সোনাতলায় মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যে তারা মাদক সেবন করছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তাদের হাতে এসব মাদক আসছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাÐে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে এলাকায় আশঙ্কাজনকভাবে চুরি, ছিনতাই বেড়ে গেছে। যদিও প্রশাসন বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে তারা জিরো টলারেন্স।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার পৌরসভা এলাকার সবুজ সাথী স্কুল মাঠ, উপজেলা চেয়ারম্যানের পরিত্যাক্ত কোয়ার্টার, হাসপাতাল রোড, স্টেশন, স্টেডিয়াম মাঠ, বাংলালিংক টাওয়ার রোড, পিটিআই ডাকবাংলো রোড, আগুনিয়াতাইড় টোলপাড়া, গড়ফতেপুর জিল্লুর রহমান প্রাইমারি স্কুল রোডসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা প্রকাশ্যে মাদক কেনা-বেচা ও সেবন করছে। শুধু তাই নয়, পৌরসভার বাহিরেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নানান জায়গা মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপদ স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। উপজেলার গবরচাপা বিলের রাস্তা, কাচারী বাজারের পূর্ব পাশের্^ বংশবাড়ী এলাকা, সৈয়দ আহমেদ কলেজ স্টেশন, ভেলুরপাড়া স্টেশন, মহিচরণ বাজার, পাঠানপাড়া, কর্পূর বাজার প্রভূতি স্থানে মাদকসেবীরা অবাধে মাদক সেবন করছে।

মাদকসেবীদের হাতে আসে যেভাবে:
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক কেনা-বেচা ও সেবনকারীদের হাতে পৌছা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট কাজ করে। সোনাতলায় মাদকগুলো সবচেয়ে বেশি ঢোকে জয়পুরহাট ও হিলি সীমান্ত থেকে। এছাড়াও গোবিন্দগঞ্জ, বড়িয়াহাট, পূর্বাঞ্চলের নদীর চর ইত্যাদি রুটেও মাদক ঢুকে থাকে। মাদকের এসব চালান আসে মূলত চোরাইপথে অন্য পণ্যের বেশ ধরে। এরপর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেগুলো পৌছে দেয় সেবনকারীদের কাছে।

মাদকের ধরন:
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন মাদকদ্রব্য কেনা-বেচা ও সেবন করে থাকেন। এর মধ্যে গাঁজা, ইয়াবা ট্যাবলেট, ফেন্সিডিল, ট্যাপেন্ডাডল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সমাজের উঠতি বয়সের তরুণরা এসব মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত।

নিরাপত্তা বিঘিœত: বেড়েছে চুরি-ছিনতাই:
এদিকে মাদকের টাকা জোগাড় করতে নানা-রকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে মাদকসেবীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দেড় মাসে উপজেলা সদর ও এর আশে পাশে বেশ কয়েকটি চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত ২২ তারিখে সোনাতলা দলিল লেখক সমিতির অফিসে চুরির ঘটনা ঘটে। সেই রাতে অফিস থেকে ফ্যান, লাইট, ল্যাপটপ, স্ক্যানার মেশিন, স্ট্যাম্পসহ নানা মূল্যবান জিনিস খোয়া যায়। গত এক সপ্তাহ আগে মাইক্রোস্ট্যান্ড ও স্টেশন এলাকায় একযোগে তিনটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়া গত মাসের ৫ তারিখে উপজেলা মডেল মসজিদ সংলগ্ন ইমামের বাসায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইমাম মাও. মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেন। তার কিছু দিন পূর্বে সোনাতলা উপজেলা রোডস্থ শামীম ব্যাটারীতেও চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসী।

প্রশাসনের বক্তব্য:
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রওশন কবিরের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি। মাদক নিয়ে যেকোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে আমাদের টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু মাদককারবারীকে আমরা আটক করেছি। চুরির বিষয়ে তিনি বলেন, থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’