সোনাতলা সংবাদ ডেস্ক: বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও বাঙালি নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এতে বাঙালি নদী তীরবর্তী নিচু এলাকার কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত নদ-নদীর পানি ওঠানামা করবে এবং এরপর থেকে পানি স্থায়ীভাবে বাড়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে যমুনা নদীর পানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত শুক্রবার উপজেলার মথুরাপাড়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৫৭ মিটার। শনিবার তা বেড়ে ১২ দশমিক ৬১ মিটার, রবিবার ১২ দশমিক ৮৮ মিটার এবং সোমবার (১ জুন) ১৩ দশমিক ২২ মিটারে পৌঁছেছে। চার দিনের ব্যবধানে নদীটির পানি ৬৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সারিয়াকান্দিতে যমুনার বিপৎসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ দশমিক ২৫ মিটার।
অন্যদিকে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বাঙালি নদীর পানিও কয়েক দিন ধরে বাড়ছিল। গত শনিবার নদীটির পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ১৩ মিটার, যা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে রবিবার থেকে পানি কমতে শুরু করে। রবিবার পানির উচ্চতা নেমে আসে ১৪ দশমিক ০২ মিটারে এবং সোমবার তা আরও কমে ১৩ দশমিক ৮২ মিটারে দাঁড়ায়। দুই দিনে বাঙালি নদীর পানি ৩১ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।
বাঙালি নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কিছু জমিতে ধইঞ্চা, পাট ও আউশ ধানসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে চলে গিয়েছিল। তবে পানি কমতে শুরু করায় জমি থেকে ধীরে ধীরে পানি নামছে এবং ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও কমছে।
বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত পানি বাড়া-কমার এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আপাতত কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
Reporter Name 


















