গোলাম রব্বানী শিপন, মহাস্থান- বগুড়াঃ বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে অবস্থিত হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহীসওয়ার (রহ.)-এর মাজারের ১৫টি দানবাক্স খুলে ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬২ টাকা, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং স্বর্ণ-রৌপ্য অলংকার পাওয়া গেছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী গণনা করতে প্রায় দুই দিন সময় লেগেছে।
মঙ্গলবার ও বুধবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ জালাল, মাজার কমিটির কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মাজার ও বন্দর এলাকার দানবাক্সগুলো খোলা হয়। পরে উদ্ধার হওয়া অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী মাজার কার্যালয়ে এনে গণনার কাজ সম্পন্ন করা হয়।
মাজার কমিটির সূত্র জানায়, সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলেও এবার কিছুটা দীর্ঘ বিরতির পর সেগুলো খোলা হয়েছে। দানবাক্সগুলোতে দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি ভক্তদের দেওয়া স্বর্ণ ও রৌপ্য অলংকারও পাওয়া যায়।
অর্থ গণনার কাজে স্থানীয় অগ্রণী ব্যাংকের ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, মাজার কমিটির সদস্য এবং মহাস্থান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। বিপুল পরিমাণ কয়েন, কাগুজে নোট ও বিভিন্ন ধরনের মুদ্রা আলাদা করতে গিয়ে কাজটি বেশ সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে।
গণনার দায়িত্বে থাকা এক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, টাকার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কয়েন পাওয়া গেছে। এছাড়া ছেঁড়া ও পুরোনো নোট আলাদা করে সংরক্ষণ করতে হয়েছে, যা গণনার সময় বাড়িয়ে দিয়েছে।
মাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বৈশাখী ওরস উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক ভক্ত সমাগম হয়েছিল। সেই কারণে এবার দানবাক্সে আগের তুলনায় বেশি অর্থ জমা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাজার কমিটির সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল করিম বলেন, প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী ও ভক্ত মাজারে আসেন এবং আন্তরিকভাবে দান করেন। দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ মাজারের উন্নয়ন, এতিমখানা পরিচালনা, ধর্মীয় কার্যক্রম এবং অসহায় মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হয়।
জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করেন। গণনা শেষে অর্থ নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
Reporter Name 


















